kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোহেলের ফেরা...

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোহেলের ফেরা...

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাঠে সোহেল রানাকে দেখে বিল শ্যাঙ্কলির সেই অমর উক্তি মনে পড়ে, ‘কেউ বলে ফুটবল জীবন-মরণ। কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, ফুটবল তার চেয়েও বেশি কিছু।’ শেখ রাসেলের মিডফিল্ডটা ফুটো হয়ে পড়েছিল সোহেল রানা না থাকায়। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার সোহেলের শারীরিক উপস্থিতিটাই বিশেষ কিছু। প্রতিপক্ষকে চোখে চোখে রাখা, বল কেড়ে নিয়ে মোক্ষম পাস বাড়ানো—দলের সবচেয়ে ব্যস্ত খেলোয়াড়টিই হয়ে থাকতে হয় তাঁকে। এই ব্যস্ততায়ও সোহেল স্ত্রী আর একমাত্র সন্তানকে হারানোর ব্যথা কি ভুলতে পারেন!

এক ঝড়ে যেন এলোমেলো হয়ে গেছে তাঁর জীবন। ফেডারেশন কাপ শেষে ছুটিতে নিজের বাড়ি মানিকগঞ্জে ফিরেছিলেন। ছুটি শেষে আবার ক্লাবে ফিরছিলেন মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও ছেলে আফরানকে নিয়ে। সাভারে এক ট্রাক সোহেলের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে ছিটকে পড়েন স্ত্রী-সন্তান, সোহেল আরেকদিকে। চোখ মেলে সেই প্রিয়তমদের নিঃশ্বাসটুকুও আর অনুভব করতে পারেননি। এক লহমায় চিরতরে হারিয়ে যায় তারা এই ফুটবলারের জীবন থেকে। পুরো ফুটবল অঙ্গনেই শোকের ছায়া নেমে আসে। সোহেল পাগলপ্রায়। মানিকগঞ্জে শূন্য বাড়িতে আরো শূন্য চোখ নিয়ে দিশাহারার মতো বসে থাকেন। সোহেলের জীবনের গন্তব্যই তখন অজানা। শেখ রাসেল, ফুটবল, সামনের লিগ—সব কিছুই তখন অবান্তর মনে হয়। সেই সোহেলই আবার মাঠের প্রতিটা কোণ চষে বেড়াচ্ছেন, দলের ডিফেন্সকে ছায়া দিতে লড়ছেন বীরের মতো, গোলের জন্য হন্যে হয়ে আবার ওপরে উঠে যাচ্ছেন—দেখে শ্যাঙ্কলির সেই অমর কথাটাই মনে পড়ে ‘ফুটবল জীবন-মরণের চেয়েও বেশি কিছু।’ সোহেল আর সব বন্ধন একপাশে সরিয়ে ফিরেছেন তাঁর ফুটবলার জীবনে। এ শুধু তাঁর ব্যথা ভুলে থাকার উপলক্ষ নয়, এও আরেক জীবন কিংবা তার চেয়েও বেশি। স্বাধীনতা কাপ তাঁকে ছাড়া খেলার পর লিগের শুরুতেই ফেরেন সোহেল, কাল খেলেছেন পঞ্চম ম্যাচ। শেখ জামালের সঙ্গে সেই লড়াইয়ে সাইফুল বারী টিটুর দলের অপরিহার্য একজন হিসেবেই পুরো সময় মাঠে ছিলেন। শেষ বাঁশি বাজতেই আর সবার থেকে একা হয়ে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। কতটা ভুলে থাকতে পারছেন, প্রশ্ন করাটাও কঠিন মনে হয়। উত্তরে তাঁর চোখ ভিজে আসে, ‘সময়ে সময়ে হানা দেয় ওদের স্মৃতি। এই ব্যথা যে কত তীব্র শুধু আমি বুঝি। ফুটবল আর ওরাই ছিল আমার জীবন। খেলায় খুব উৎসাহ দিত আমার স্ত্রী। ফুটবলে ফেরাটাই তাই ছিল আমার নিয়তি।’

কোচ সাইফুল বারী জানেন কতটা যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাঁর এই শিষ্যকে মাঠে সেরাটা ঢেলে দিতে। দলের সবাই মিলে তাঁকে ভালো রাখতেই চেষ্টা করেন প্রাণপণ। উইঙ্গার খালেকুরজামান তো বলছিলেন, সোহেল এখন সবার অনুপ্রেরণাও, ‘এই অবস্থায় থেকে উনি যদি নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে পারেন, তবে আমরা এত ভালো থেকে পারব না কেন। সোহেল ভাইয়ের এই ফেরাটা আমাদের জন্য তাই বড় অনুপ্রেরণাও।’ সোহেলের নিজের কাছে তা যে আরো বেশি কিছু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা