kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

স্থানীয়দের আরো বেশি বেতন দেওয়া উচিত

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্থানীয়দের আরো বেশি বেতন দেওয়া উচিত

প্রশ্ন : একজন দেশি কোচের জন্য বিসিবির চাকরি কতটা লোভনীয় বলে মনে হয় আপনার?

আমিনুল ইসলাম : একদমই নয়। আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বললে তা আরো ভালো বুঝতে পারবেন। এমনিতে বিসিবির সঙ্গে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই তেমন। একবারই সেই সুযোগ হয়েছিল, যখন কিছুদিনের জন্য ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সদস্য ছিলাম। ওই সময়ে জেমি সিডন্স জাতীয় দলের হেড কোচ আর আমাদের খালেদ মাহমুদ তাঁর সহকারী। দুজনের বেতনের পার্থক্য দেখে রীতিমতো ভড়কে গিয়েছিলাম আমি।

প্রশ্ন : কেমন ছিল পার্থক্য?

আমিনুল : সিডন্স তখন খুব সম্ভবত পেতেন ১৭ হাজার ইউএস ডলার। মাহমুদের বেতন সেখানে ছিল মাত্র এক হাজার ডলার (ওই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য অনুযায়ী ৭০ হাজার টাকার কিছু বেশি)। আমিই তখন ক্রিকেট অপারেশন্সের সভায় প্রসঙ্গটি তুলে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন রেখেছিলাম, হেড কোচ আর সহকারী কোচের বেতনের মধ্যে এত ফারাক কেন?

প্রশ্ন : প্রশ্ন রেখে কী প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন?

আমিনুল : ভালো কিছু নয়। ওই প্রসঙ্গ তোলার পরে সভায় উপস্থিত প্রায় সবাই চমকে উঠেছিল। কেন ওটা বলতে গেলাম, সে প্রশ্নও করেছিলেন কেউ কেউ। আমি বলেছিলাম সহকারী কোচের বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা করা হোক। এই প্রস্তাবকেও কেউ তখন ভালো চোখে দেখেননি।

প্রশ্ন : আপনার মতে দেশি কোচদের বেতন কেমন হওয়া উচিত?

আমিনুল : আমার কথা হলো, দলে তাঁর ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে বেতন নির্ধারিত হওয়া উচিত। ওই ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধাও থাকা উচিত। আমরা ধরেই নেই যে বিদেশি কোচ হলেই ভালো কোচ। বিদেশি হলেই অনেক কিছু জানে। বিদেশি আনলেই ভেবে নিই সে ভালো। আসলে সব সময় ভালো হয় না। বহুবার এর প্রমাণও আমরা পেয়েছি। সেই সঙ্গে এটিও বলে রাখছি যে যোগ্য বিদেশি কোচও আমাদের এখানে কাজ করে গেছেন বা করছেন।

প্রশ্ন : জাতীয় এবং অন্যান্য দলে দেশি কোচদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সময় এসেছে বলে মনে করেন কি না?

আমিনুল : অবশ্যই। প্রমাণের কথা বলছিলাম। একটি উদাহরণ দিই। এবার কিন্তু টম মুডি, সায়মন হেলমট, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ল্যান্স ক্লুজনার ও ওয়াকার ইউনুসের মতো কোচরা বাংলাদেশে কাজ করে গেছেন। কিন্তু বিপিএলের ফাইনালে খেলল কারা? আমাদের দুই দেশি কোচ সালাউদ্দিন ও খালেদ মাহমুদের দল। এতেও কি আমাদের কোচদের যোগ্যতা প্রমাণিত হয় না? বিদেশিদের চেয়ে ভালোর প্রমাণও কি নয়? তাহলে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৮ বছর পরও কেন আপনি জাতীয় এবং অন্যান্য দলে দেশি কোচদের আরো সুযোগ দেবেন না? দেশি কোচরা থাকলে সেটি বিসিবির জন্যও সাশ্রয়ী হবে।

প্রশ্ন : কিভাবে?

আমিনুল : এমনিতে বিদেশিরা তিনটি জায়গায় আমাদের জন্য ব্যয়বহুল। একটি হলো তাদের জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হয়। সে জন্য বাহন দিতে হয়। তাদের আন্তর্জাতিক বিমানের টিকিট দিতে হয় এবং থাকার জায়গাও দিতে হয়। এই হিসাবগুলো বেতনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটাও ধরলে তাদের বেতন আরো অনেক বেশি। দেশি কোচকে এসবের কিছুই দিতে হয় না। সেই হিসাব করলেও দেশি কোচদের আরো বেশি বেতন দেওয়া উচিত। সময় এসেছে বাংলাদেশের কোচদের যোগ্য পারিশ্রমিক দিয়ে সম্মান জানানোর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা