kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবারও সেই শুরুর হতাশা

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোচ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ নিয়ে ফেরার অভিজ্ঞতা আছে তাঁরও। সেই মাইক হেসন এখন নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজের অন্যতম ধারাভাষ্যকার। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে কাল দ্বিতীয় ওয়ানডের ম্যাচপূর্ব আলোচনায় নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছিলেন শুধু এখানেই, ‘ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেই শুধু ওদের ভয়ংকর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে।’ সেই ভালো শুরু নিয়ে হাহাকারের মধ্যেই সফরকারীদের কপালে সিরিজ হার লেখা হয়ে গেল।

টানা দুই ম্যাচে শুরুর ব্যর্থতার প্রভাব দলের সামগ্রিক ব্যাটিংয়ে। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে যেখানে জেতার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা ২৭০-৮০ রানের, সেখানে দুই ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ যথাক্রমে ২৩২ ও ২২৬ রানের। পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে বোলাররাও পাচ্ছেন না লড়াই জমিয়ে তোলার আত্মবিশ্বাস। প্রথম দুই ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের এই হাল যে নিউজিল্যান্ডের বিরূপ কন্ডিশনের জন্যই, সেটি অবশ্য মানতে আপত্তি আছে সাব্বির রহমানের। মোহাম্মদ মিঠুনের ফিফটির পর যাঁর ৪৩ রানের ইনিংসেই কাল দুই শ পেরিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। ম্যাচের পর সাব্বির বরং নিজেদের ঠিকমতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারাকেই দায় দিলেন সবচেয়ে বেশি, ‘ব্যাপারটি এমন নয় যে আমরা এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছি না। সব কিছুই ঠিক আছে, শুধু আমাদের পরিকল্পনামতো খেলতে না পারার ব্যাপারটি ছাড়া।’ ২০ ফেব্রুয়ারি ডানেডিনে শেষ ওয়ানডেতে পরিকল্পনার প্রয়োগেই সিরিজের সমাপ্তি টানার আশার কথাও বললেন নির্ধারিত সময়ের আগেই নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পেয়ে নিউজিল্যান্ডে যাওয়া এ ব্যাটসম্যান, ‘আশা করছি শেষ ম্যাচে আমরা পরিকল্পনামতো খেলতে পারব। ভালো ক্রিকেট খেলে আমরা চেষ্টা করব হোয়াইটওয়াশ এড়াতে এবং সিরিজটি ২-১ এ শেষ করতে।’

ক্রাইস্টচার্চে কাল সকালে ঘণ্টা দুয়েকের মতো বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির বাধা এসেছিল ম্যাচ শুরুর পরও। এর আগে ম্যাচ শুরুর সময় গোমড়ামুখো আকাশ এবং কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া তাপমাত্রা নামিয়ে এনেছিল ১৩ ডিগ্রিতে। ওই আবহাওয়ায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাজ কঠিন করে দিয়েছিল আরো। সেই সঙ্গে উইকেটেও ছিল সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন। সেখানে উইকেট কিংবা কন্ডিশন ভালো শুরুর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেও মনে করেন না সাব্বির। তাঁর ভাষায়, ‘উইকেট খুব কঠিন ছিল বলব না। আর প্রথম ১০ ওভার তো যেকোনো দলের জন্য কঠিন। সেটি নিজের দেশেই হোক কিংবা বিদেশে। এখন প্রথম ১০ ওভার যাতে আমরা সামলে দিতে পারি, সেই চেষ্টাই করছি। সেটি পারলে পরের ৪০ ওভারও আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবেই খেলতে পারবে। এরপর যদি শেষ ১০ ওভারও ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে লড়াই জমিয়ে তোলা সম্ভব।’ 

প্রথম দুই ম্যাচে নেই সেই লড়াইয়ের ছিটেফোঁটাও। প্রথম ওয়ানডেতে ১৯ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারের বিদায়। কাল হ্যাগলি ওভালেও স্কোরবোর্ডে ১৬ রান জমা হতে না হতেই লিটন কুমার দাশ-তামিম ইকবাল সাজঘরে। শুরুর ধাক্কায় এলোমেলো দল নেপিয়ারে ৭১ রানেই হারিয়ে বসেছিল ৫ উইকেট। পরের ম্যাচেও অবস্থা অপরিবর্তিত। ৯৩ রানে নেই ৫ উইকেট। বিচলিত ব্যাটিংয়ে কোনো ম্যাচেই লড়াইয়ের পুঁজি জমা হয়নি। মামুলি সংগ্রহ তাড়ায় দুই ম্যাচেই মার্টিন গাপটিলের ব্যাটে উড়ে গেছে বাংলাদেশ। টানা দুই সেঞ্চুরিতে এই কিউই ওপেনার স্বাগতিকদের সিরিজ জিতিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে সফরকারী দলের অধিনায়কের কণ্ঠে শোনা গেল দল হিসেবে খেলার আকুতি। কাল ম্যাচের পর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক যেন ভুলতে চেয়েছেন এই ম্যাচের স্মৃতিও, ‘এই ম্যাচ থেকে নেওয়ার মতো ইতিবাচক খুব বেশি কিছু নেই আমাদের।’ আরেকটি কঠিন দিনের নিয়তিও মেনে নিয়ে বলেছেন, ‘অবশ্যই এটি কঠিন একটি দিন ছিল। আমরা শুরুতেই উইকেট হারিয়েছি। তেমন বড় কোনো জুটিও পাইনি। বড় জুটি হলে ম্যাচটি অন্য রকমও হতে পারত।’ অন্য রকম মানে অন্তত লড়াই জমাতে পারা। সে জন্য কী প্রয়োজন, সেটি অজানা নয় মাশরাফির সতীর্থদেরও, ‘দল হিসেবে খেলতে হবে আমাদের। আমরা এখানে ২২০-৩০ রান করছি। লড়াই করতে হলে আমাদের অন্তত ২৭০-৮০ রান করতে হবে।’ তা করতে হলে সবার আগে চাই ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু।

যা করতে হবে হাহাকার আরো দীর্ঘ হওয়ার আগেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা