kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

অর্থ নয়, অবকাঠামোগত সহযোগিতার আশ্বাস

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থ নয়, অবকাঠামোগত সহযোগিতার আশ্বাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শহরে এসেছেন রুশ ধনকুবের। তাঁর নেক নজরেই বদলে যেতে পারে দেশের শ্যুটিং। সেই মতো প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অর্থ সাহায্যের প্রশ্নে জল ঢেলে দিয়ে ধনকুবের দিয়েছেন অবকাঠামোগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি।

তিনি ভ্লাদিমির লিসিন। এই মুহূর্তে তিনি রাশিয়ার এক নম্বর ধনী। গত নভেম্বরে ভোটে জিতে তিনি বসেছেন আন্তর্জাতিক শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের (আইএসএসএফ) প্রেসিডেন্টের পদে। তাঁর সেক্রেটারি জেনারেলও আরেক রুশ ব্যবসায়ী আলেকজান্ডার রাতনের। দুজন পরশু রাতে ঢাকা এসেছেন বাংলাদেশের শ্যুটিং পরিদর্শনে। গতকাল সকালে তাঁরা বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনে গিয়ে সভা করেছেন নির্বাহী কমিটির সঙ্গে। জেনেছেন এ দেশে খরুচে খেলাটির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার কথা। এরপর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইএসএসএফ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের শ্যুটিং একটা ভালো উন্নয়ন পরিকল্পনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাক। সেখানে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।’ তবে ফেডারেশনকে অর্থ সাহায্যের প্রশ্নে এই রুশ ধনকুবেরের জবাব, ‘দেখুন, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি শ্যুটিং ফেডারেশন আছে। সবাইকে অর্থ সাহায্য দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তার চেয়ে বরং অ্যাথলেট উন্নয়ন এবং ফেডারেশনকে অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া সহজ।’

সভায় বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ শ্যুটিংয়ের চালচিত্র তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন। বাংলাদেশের শ্যুটিং এখন কমনওয়েলথ গেমস রাঙাতে পারে। এখনো অলিম্পিকে যেতে হয় ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে। এশিয়ান গেমসেও লড়াই করতে পারে না সেভাবে। তাই বাংলাদেশ চাইছে, বিশ্বমানে পৌঁছানোর চাবি। এ জন্য শ্যুটার উন্নয়ন, ট্রেনিং ও শ্যুটিং রেঞ্জের উন্নয়নের আইএসএসএফের সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ মহসচিব।

প্রথমবারের মতো আইএসএসএফের কোনো প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসেছেন। আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় শ্যুটিং বিশ্বকাপ উপলক্ষেই লিসিনের এই উপমহাদেশ সফর। নিজস্ব জেটে আসা প্রেসিডেন্ট ঢাকা থেকে ভুটান যাবেন একটি শ্যুটিং রেঞ্জ উদ্বোধন করতে। এরপর যাবেন ভারতে।

ঢাকার শ্যুটিং অবকাঠামো দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও সামনে এগোনোর জন্য আরো উন্নতি চান। তবে গুলশান শ্যুটিং রেঞ্জ ঘুরতে ঘুরতে ৬২ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে, ‘নভেম্বর থেকে আমি আফ্রিকার ছয়টি দেশ সফর করেছি। তাদের তুলনায় বাংলাদেশের শ্যুটিং অবকাঠামোগতভাবে অনেক এগিয়ে। তবে শ্যুটিং রেঞ্জের দেয়ালগুলো ফাঁকা দেখেছি। এগুলো স্পন্সরশিপে ঢাকা থাকা উচিত ছিল। কারণ খেলাটা এগিয়ে যাবে স্পন্সরের অর্থে। এটাকে জনপ্রিয় করে তুলতে শ্যুটারদের সাফল্য লাগবে, খেলাটা ইন্টারনেট ও টিভিতে সম্প্রচার করতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। তখনই আসবে স্পন্সর।’ এ দেশের শ্যুটিংয়ে বড় সাফল্য থাকলেও খেলাটা ঠিক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। কারণ খেলাটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষেরও কোনো ধারণা নেই। খেলাটার বিস্তারে এটাকেই বড় প্রতিবন্ধকতা মানছেন লিসিন। আইএসএসএফের নতুন প্রেসিডেন্ট তাই একটি টিভি চ্যানেল খুলেছেন শ্যুটিংয়ের, যা দেখতে কোনো পয়সা লাগবে না। দিল্লি বিশ্বকাপ থেকেই এটা শুরু হচ্ছে। তাঁর কথা হলো, খেলাটি যত বেশি মানুষের কাছাকাছি যাবে ততই শ্যুটিংমুখী হবে স্পন্সররা। এর পথ বাতলে দিতে পারে আইএসএসএফ, ভবিষ্যৎ গড়ার পথে সহযোগী হতে পারে। তবে অর্থের সংস্থান নিজেদেরই করতে হবে। শ্যুটিংয়ের মাধ্যমেই করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা