kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লড়াই দুরন্ত গতির সঙ্গেও

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লড়াই দুরন্ত গতির সঙ্গেও

ট্রেন্ট বোল্ট : বলের সর্বোচ্চ গতি ১৪৩.৩ কিলোমিটার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে সবচেয়ে দুরন্ত গতির ডেলিভারিটা সামাল দিতে হয়েছে সাব্বির রহমানকে। নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলার লকি ফার্গুসনের করা ম্যাচের ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলটি যে ছিল ঘণ্টায় ১৫৪.৯ কিলোমিটার গতির। ঘণ্টায় ৯৬ মাইল গতিতে ছুটে যাওয়া বোলিং সামলানো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতাই। এর আগে নতুন বলে ট্রেন্ট বোল্ট আর ম্যাট হেনরিকে সামলাতে গিয়েও রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের।

ওই দুই ফাস্ট বোলারের গতিও ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের আশপাশেই। সত্যিকারের গতি কী, তাঁদের দুজনকে খেলেই সেটি বুঝেছেন বলেও সংবাদমাধ্যমের কাছে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। যাঁর ৬২ রান এবং অষ্টম উইকেটে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে ৮৪ রানের পার্টনারশিপেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে কিছুটা মানরক্ষা হয়েছিল বাংলাদেশের। বোল্ট আর হেনরির আগুনে বোলিংয়ে ৪২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে যখন বাংলাদেশ, এর এক বল আগেই মাত্র উইকেটে গিয়েছিলেন মিঠুন।

যখন গিয়েছেন, তখনো নতুন বলের জুটি বোল্ট-হেনরিকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেনটি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এই পেস জুটি টানা ১২ ওভার বোলিং করার পর তবেই অন্য বোলার আনেন তিনি। ততক্ষণে সত্যিকারের পেস বোলিং খেলার অভিজ্ঞতা হয়ে যাওয়া মিঠুনের সামনে এরপর আসেন আরো গতিমান ফার্গুসন। যাঁর বলে ঘণ্টায় ১৫৩ কিলোমিটার গতির বলও খেলতে হয়েছে মিঠুনকে। শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে ৫ বাউন্ডারিতে মিঠুনের ৬২ রানের ইনিংসটিও শেষ হয়েছে ফার্গুসনের ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির গোলায়। বোল্ট-হেনরি-ফার্গুসন ত্রয়ীর দুরন্ত গতিই ৪৮.৫ ওভারে বাংলাদেশের ২৩২ রানে অল আউট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছিল সবচেয়ে বড় প্রভাবক। এই তিন ফাস্ট বোলার মিলেই যে তুলে নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের ৭ উইকেট।

আজ ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেও এই ত্রয়ীর দুরন্ত গতি সামলানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু করছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচ শুরু যেহেতু বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়, আজকের পত্রিকা হাতে পাওয়ার আগেই তাই আপনার জেনে ফেলার কথা যে কোন দল প্রতিপক্ষকে কেমন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে। হ্যাগলি ওভালের কিউরেটর অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেখানকার উইকেটে প্রচুর রানও আছে। তবে ক্রাইস্টচার্চে বৃষ্টির পূর্বাভাসে আবার ফাস্ট বোলারদের বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও মুখ তুলে তাকিয়ে আছে। যে কন্ডিশনে বোল্টেরই আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠার ঝুঁকি বেশি দেখছেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘যাদের বোলিংয়ে গতিটাই একমাত্র অস্ত্র, তাদের মুখোমুখি হওয়ার একটা সুবিধাও আছে। কারণ ওরা আপনাকে মাঝেমধ্যেই মারার বল দেবে। কিন্তু সমস্যা সেই বোলার, যার কিনা গতির সঙ্গে সুইংটাও আছে। বোল্ট হচ্ছে সেই প্রজাতির বোলার। ওর সুইংটা প্রাণঘাতী।’

নেপিয়ারের ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের চেয়ে সেটি ভালো আর কারো বোঝার কথা নয়। অফস্টাম্পে পড়ে সুইং করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে বল ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশের ওপেনারের ব্যাট। দুর্দান্ত সুইংয়ে পরাস্ত তামিমের পর ভুগেছেন অন্যরাও। বোল্টের নতুন বলের পার্টনার ম্যাট হেনরিকেও খুব সহজে সামাল দিতে পারছিলেন না কেউ। এর সঙ্গে ফার্গুসনের মারাত্মক গতি যোগ হয়ে নিউজিল্যান্ডের ভীষণ বৈচিত্র্যপূর্ণ পেস অ্যাটাক কিভাবে সামলাচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, তার ওপরই আসলে নির্ভর করছে ক্রাইস্টচার্চের দ্বিতীয় ওয়ানডে দিয়ে মাশরাফিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না।

বিশেষ করে ফার্গুসনকে তো বিরল প্রজাতির বোলারই মনে হচ্ছে হাবিবুলের, ‘ও যে গতিতে বোলিং করেছে, সেরকম গতির ডেলিভারি খেলার অভিজ্ঞতা এখন আমাদের কেন, বিশ্বের কোনো দেশের ব্যাটসম্যানেরই তেমন হয় না। কারণ এ রকম গতিসম্পন্ন বোলারও তেমন একটা নেই। সেই হিসাবে ফার্গুসনের গতিটা বিরলই। তবে ওই যে বললাম, এ রকম বোলার বাজে বলও দেয় খুব। বরং সুইংয়ের কারণে বোল্টকেই বেশি ভয়ংকর মনে হয় আমার।’ ভয়ংকর পেস বোলিং ত্রয়ীকে সামলাতে যে বা যাঁদের আজ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে, তাঁদের অন্যতম মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের ম্যাচটি দারুণ এক উপলক্ষও। কারণ মাশরাফি বিন মর্তুজার পর মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে আজ ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নামছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। দুরন্ত গতির সঙ্গে লড়াইয়ে তাঁর এবং অন্য ব্যাটসম্যানদের সাফল্য আজ মুশফিকের উপলক্ষকে রাঙিয়েও দিতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা