kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পূর্ণতা পায়নি কারস্টেনের ‘কোচিং স্ট্রাকচার’

মাসুদ পারভেজ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আইপিএল-বিপিএল সবখানেই কোচ হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিম্নগামী। তাঁর কোচিংয়ে ২০১৭ সালের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস পরেরবার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নেমে থাকতে পারেনি সেরা চারেও। টানা দুই আসরে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলনা টাইটানসের উত্থান-পতন তাঁর অধীনে। আগেরবার সেরা চারে থাকা দলটি সদ্য সমাপ্ত বিপিএলের পয়েন্ট তালিকায় ছিল সবার নিচে। পারফরম্যান্সের লেখচিত্র এ রকম হলেও সব শেষ আইপিএল আর বিপিএলের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের ‘পারফরম্যান্স ডিরেক্টর’ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মাহেলা জয়াবর্ধনেকে।

পদমর্যাদায় সে পদটি ছিল হেড কোচেরও ওপরে। চন্দিকা হাতুরাসিংহের পদত্যাগের পর জাতীয় দলের হেড কোচ খুঁজে খুঁজে হয়রান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান গ্যারি কারস্টেনকে ‘ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট’ নিয়োগ করতেই খুলে যায় সমস্যা সমাধানের পথ। ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের এই কোচের পরামর্শেই স্টিভ রোডসকে ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের হেড কোচ করা হয়। মাসে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার ইউএস ডলারের চুক্তিতে যখন নিয়োগ পান এই ইংলিশ, একই সময়ে একজন ‘পারফরম্যান্স ডিরেক্টর’ রাখারও সুপারিশ করেন কারস্টেন। ৩০ হাজার ইউএস ডলারের চুক্তিতে আসা এই দক্ষিণ আফ্রিকানের প্রস্তাবিত ‘কোচিং স্ট্রাকচার’-এ এই পদটিও ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

ছেলেদের জাতীয় দলই শুধু নয়, বাংলাদেশ নারী দল, ‘এ’ দল এবং এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে উন্নতির দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্যই আলাদা আরেকটি পদ রাখতে বলেছিলেন কারস্টেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম পছন্দ শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক জয়াবর্ধনেকে ‘পারফরম্যান্স ডিরেক্টর’ হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল বিসিবি। তবে সে জন্য দৈনিকভিত্তিক যে পারিশ্রমিক ঠিক করা হয়, সেটি তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় এজেন্টের মাধ্যমে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এই শ্রীলঙ্কান। এরপর অবশ্য এই পদে অন্য কাউকে নিয়োগের প্রক্রিয়াও আর এগোয়নি। যেমন এগোয়নি সহকারী কোচ হিসেবে রোডসের সঙ্গে একজন স্থানীয় কোচকে জুড়ে দেওয়ার ব্যাপারটিও।

গত বছর মে মাসে ঢাকায় এসে করা ‘টিম এনভায়রনমেন্ট অডিট’-এর সময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে দুইবার বিপিএল জেতানো কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন কারস্টেন। বিসিবির কাছে জমা দিতে যাওয়া সম্ভাব্য প্রস্তাবনায় যে জাতীয় দলের একাধিক তারকার পছন্দের কোচকে কোচিং স্টাফে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও থাকবে, সেই সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এই দক্ষিণ আফ্রিকান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেটিরও। যদিও তাঁর প্রস্তাবিত ‘কোচিং স্ট্রাকচার’-এ স্থানীয় সহকারী কোচের কথা উল্লেখ ছিল না বলেই দাবি করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘এটা একদমই ভুল কথা। দেশ থেকে একজন কোচ রাখতে হবে, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব গ্যারি কারস্টেন দিয়ে যাননি।’

দিয়ে গেলেও সেটি কার্যকরে বিসিবি কতটা উদার ছিল, তা নিয়ে সংশয়ও উসকে দিয়েছেন সালাউদ্দিন নিজেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘অল্প কয়েক দিন ঢাকায় থাকার সময় কারস্টেন আমাকেও ফোন করে ডেকে নিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করতে আমি আগ্রহী কি না। যেহেতু কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার তাঁর কাছে আমার নাম প্রস্তাবও করেছিল।’ জাতীয় দলের সঙ্গে দেশি কোচ রাখার বিষয়ে উদাসীন হলেও বিসিবি ‘পারফরম্যান্স ডিরেক্টর’ পদে একজন বিদেশিকে আনতে উদ্যোগী ছিল ঠিকই। জয়াবর্ধনেকে পাওয়া না যাওয়ায় অবশ্য সেই পথে নতুন করে আর হাঁটার কোনো খবর নেই। বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিশ্চিত করেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে এই পদে কাউকে দেখার কোনো সম্ভাবনাও নেই, ‘২০১৯ বিশ্বকাপের আগে অন্তত পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হয়ে কেউ আসছেন না। এ রকম একটি পদের কথা কারস্টেনই বলে গিয়েছিলেন। আমরা জয়াবর্ধনেকে চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু অল্প সময়ের জন্য তা আমাদের কতটা কাজে দেবে, পরে ভাবতে হয়েছে সেটিও। কারস্টেন যা যা পরামর্শ দিয়েছেন, তার সবই দীর্ঘমেয়াদি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর রাখার বিষয়টিও দেখব। তবে ওনার পরিকল্পনাই কিন্তু আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছি।’

এখন পর্যন্ত যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তাতে কারস্টেনের প্রস্তাবিত ‘কোচিং স্ট্রাকচার’ পূর্ণতা পেয়েছে বলা যাচ্ছে না। সাধ্যের বাইরের চাহিদায় প্রত্যাশিত ‘পারফরম্যান্স ডিরেক্টর’কে পাওয়া যায়নি। দেশি সহকারী কোচ হাতের নাগালে থাকলেও এ রকম কাউকে রাখার সদিচ্ছাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কারস্টেনের পরামর্শে নিয়োগ দেওয়া গেছে শুধু হেড কোচই। এ ক্ষেত্রে তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন তিনি। স্টিভ রোডসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্ন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার পিয়েরে ডি ব্রুইন। বিবেচনায় অন্য দুজনের চেয়ে এগিয়ে থাকা রোডসকে পাওয়া যাওয়ায় অন্য দুজনের সঙ্গে আর কথা বাড়াতে হয়নি বিসিবিকে। রোডস দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কোচিং স্টাফে নতুন নিয়োগও কারস্টেনের পরামর্শেই হয়েছে বলে জানালেন নিজাম উদ্দিন, ‘যা যা হচ্ছে, ওনার সঙ্গে আলোচনা করেই হচ্ছে। এই যেমন ফিল্ডিং কোচ (রায়ান কুক) নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারটি। এখনো কারস্টেনের সঙ্গে কথাবার্তা হয় আমাদের। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে ওনার পরামর্শ আমরা পাচ্ছি। এরই কিছু কিছু আমরা কার্যকরও করেছি।’

কিছু কিছুই তবে পুরোটা নয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা