kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক

কলাবাগান দেয়নি ব্রাদার্স দিয়েছে

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘বেটার লেইট দ্যান নেভার!’

ফোনের ওপার থেকে স্বস্তির হাসি দিয়ে বললেন অলক কাপালি। সব শেষ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলা এই ক্রিকেটার অবশেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বুঝে পেয়েছেন তাঁর পাওনার অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ টাকা। একই দিনে শতভাগ পারিশ্রমিক পাওয়ার সন্তুষ্টি নিয়ে তাঁর দলের জুনায়েদ সিদ্দীক, সোহরাওয়ার্দী শুভ, মাইশুকুর রহমান এবং ইয়াসির রাব্বিরাও বাড়ি ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন অলক।

আরেকটি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়ার অপেক্ষা যখন, তখন অলকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও মাহমুদুল হাসান-নাবিল সামাদরা সুস্থির হতে পারছেন না। কারণ গত আসরের আরেক ‘পারিশ্রমিক খেলাপি’ ক্লাব কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেটাররা এখনো বুঝে পাননি পাওনার পুরো টাকা। যদিও ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই পুরো টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কথা বলেছিলেন ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ।

প্রিমিয়ার লিগের গত আসর শেষ হয়েছে ২০১৮-র ৫ এপ্রিল। নিয়মানুযায়ী এর এক মাসের মধ্যেই (৫ মে) ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের পুরোটা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ক্লাবগুলোর। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ব্রাদার্স ও কলাবাগানের ক্রিকেটাররা নানা সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) ধরনা দিয়েছেন। বিসিবি কার্যালয়ে জড়ো হয়ে প্রতিকার চেয়েছেন সংবাদমাধ্যমের কাছেও। তাতে কাজও হয়েছে কিছুটা। কিছু কিছু টাকা ক্রিকেটাররা পেয়েছেন। তবে তা ক্লাবের কাছ থেকে নয়। নানা খাতে বিসিবির কাছ থেকে ক্লাবের প্রাপ্য টাকা কেটে রেখেছে দেশীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। সেই অঙ্ক থেকেই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের কিছুটা পরিশোধ করেছে বিসিবিই।

এই যেমন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের প্রাপ্য টাকা দুই দফায় কেটে ক্রিকেটারদের দিয়েছে তারা। লিগের গত আসর থেকে ক্লাবের পাওনা প্রায় ১২ লাখ টাকা (বোর্ডের অনুদান, যাতায়াত খরচ ও প্রাইজমানি) এই খাতে সমন্বয় করেছে বিসিবি। আর গতবার প্রিমিয়ার থেকে প্রথম বিভাগে অবনমিত হওয়া কলাবাগান এরপর খেলেছে প্রথম বিভাগের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও। এই দুই আসর খেলে বিসিবির কাছে তাদের পাওনার ৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকাও দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা বিসিবি ক্রিকেটারদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেওয়ার পরও কলাবাগানের বকেয়া রয়ে গেছে ৪০ শতাংশ। কাল পর্যন্ত তাই ছিল বলে দাবি অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদুল হাসানের, ‘আমার সঙ্গে চুক্তি ছিল ১৩ লাখ টাকার। আমি এ পর্যন্ত পেয়েছি সাড়ে সাত লাখ।’ বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদের উদ্বেগ এর মধ্যে আরো বেড়ে গেছে এ জন্য যে, ‘বলা হয়েছিল যে এবারের প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই আমাদের বাকি টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো লক্ষণ তো দেখছি না।’

অলকসহ ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা শতভাগ পারিশ্রমিক পেয়ে গেলেও কলাবাগানের খেলোয়াড়দের তাই চাপ অব্যাহত রাখতেই হচ্ছে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসি নিয়ে কলাবাগান কর্মকর্তা রিয়াজ আহমেদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। আরেকটি লিগের প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাত্র তিন দিন আগেও যখন এই অবস্থা, তখন পরের আসরেও এমন কিছু হওয়া নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই। তবে সিসিডিএম ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ জানালেন, এবার এ রকম কিছু রুখতেই রাখা হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা, ‘এবার ড্রাফটের নিয়মেই কিছু ব্যাপার উল্লিখিত থাকছে। যেমন খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করলে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে সাসপেন্ড করার বিধানও থাকছে।’ অবশ্য এর আগে একই কারণে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস) এবং কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিকেও (কেসিএ) সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাতেও যে কাজ হয়নি, গত আসরের ব্রাদার্স ও কলাবাগানই এর প্রমাণ।

অবশেষে ব্রাদার্স তাদের বকেয়ার ১৮ শতাংশ পরিশোধ করলেও কলাবাগান কাল পর্যন্ত ‘খেলাপি’ই রয়ে গেল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা