kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রিয়ালের জয়ে ভিএআর বিতর্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিয়ালের জয়ে ভিএআর বিতর্ক

চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্ব থেকে যোগ হয়েছে ভিএআর প্রযুক্তি। প্রথম লেগের খেলাতেই ভিএআর নিয়ে বেধে গেল বিতর্ক। আয়াক্সের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ২-১ গোলে, তবে তাতে মিশে আছে বিতর্কের ঝাঁজ। ওদিকে হ্যারি কেইনকে ছাড়াই টটেনহাম ৩-০ গোলে জিতেছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে নিকোলাস তেগলিয়াফিকোর করা গোলটা কেন রেফারি দামির স্কোমিনা বাতিল করলেন, সেই প্রশ্ন অনেকেরই। ধারাভাষ্যকার লম্বা টানে গোল বলে উল্লাস করছেন, রিয়ালের বিপক্ষে নিজ মাঠে নক আউট ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার উল্লাসে ঢেউ উঠেছে ক্রুইফ অ্যারেনায়, খেলোয়াড়রাও মত্ত উদ্‌যাপনে। এমন সময় কিনা ভিএআর নিয়ে গোলটা বাতিল করে দিলেন রেফারি! ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হচ্ছে, তেগলিয়াফিকোর সতীর্থ, দুসান তাদিচ ছিলেন অফসাইড পজিশনে। প্রশ্নবিদ্ধ এই সিদ্ধান্তই আসলে বদলে দেয় খেলার মানচিত্র। প্রায় পাঁচ বছর ধরে উয়েফা ডটকমের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের খেলার সংবাদ লিখছেন জোসেফ ওয়াকার। তিনিই লিখেছেন, ‘আজ (বুধবার) রাতে রিয়াল পুরোটাই ভাগ্যে সওয়ার হয়ে উতরেছে। নিঃসন্দেহে তারা মাঠে ছিল দ্বিতীয় সেরা দল।’ তেগলিয়াফিকোর গোলটা হয়ে গেলে খেলার মোড় ঘুরে যেতেই পারত, যেটা হয়নি ভিএআর বিতর্কে। উল্টো ম্যাচের আয়ু যখন এক ঘণ্টার কাছাকাছি, তখন করিম বেনজেমার গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়াসের দারুণ ড্রিবলিং নৈপুণ্যে বেনজেমার লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় রিয়াল। বক্সের ভেতর দুজনকে কাটিয়ে যেভাবে বলটা নিজের আয়ত্তে রেখে বেনজেমাকে পাস দিলেন ভিনিসিয়াস, তাতে গোলের চেয়ে যেন অ্যাসিস্টের কৃতিত্বই বেশি! অবশ্য খুব বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে পারেনি রিয়াল ৭৫ মিনিটে হাকিম যাইচের গোলে। শেষ বাঁশির মিনিট তিনেক আগে, আসেনসিওর গোলে মুখরক্ষা রিয়ালের। ২০১৭-র নভেম্বর থেকে নিজের মাঠে হারেনি আয়াক্স। জিতেছে ২৬ ম্যাচ, ড্র করেছে ৪ ম্যাচে। ৩০ ম্যাচ পর নিজেদের মাঠে হারল আয়াক্স, সেটাও ভিএআর বিতর্কের ছোঁয়ায়।

এই ম্যাচটি ছিল রিয়ালের হয়ে সের্হিও রামোসের ৬০০তম ম্যাচ। জয় দিয়েই উপলক্ষটা উদ্‌যাপন করতে পারায় উচ্ছ্বসিত রামোস, তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাঁকেও। ইচ্ছা করে হলুদ কার্ড দেখে কোয়ার্টার ফাইনাল বা পরের ধাপগুলোর আগেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে খেলতে পারবেন না রামোস, অবশ্য প্রতিপক্ষের মাঠে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারলে রামোসকে ছাড়াই শেষ আটে ঠাঁই করে নেওয়াটা রিয়ালের জন্য অসম্ভব নয়। ইচ্ছা করে হলুদ কার্ড দেখার অভিযোগ খণ্ডাতে টুইটারের আশ্রয় নিয়েছেন রামোস, ‘এ রকম ম্যাচে অনেক স্নায়ুর চাপে ভুগতে হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি কোনোভাবেই ইচ্ছা করে হলুদ কার্ড দেখিনি।’

রিয়াল ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে নামবে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে, ঠিক উল্টোভাগ্য ডর্টমুন্ডের। টমাস ট্যুশেলের এখনকার দল পিএসজি ইংল্যান্ড সফরে এসে ম্যানইউকে ছারখার করে দিয়ে গেলেও তাঁর আগের ক্লাব ডর্টমুন্ড উল্টো খাবি খেয়েছে লন্ডন সফরে। টটেনহাম হটস্পারের কাছে প্রথম লেগটা ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়াতে চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন খুব সম্ভবত থেমে যাচ্ছে শেষ ষোলোতেই। ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব উদাহরণ অবশ্য আছে যথেষ্টই, তবে ডর্টমুন্ডের খেলায় সেই ধারটা দেখা গেছে সামান্যই। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর খেলা মাঠে গড়াতেই ফের্তোঙ্গেনের ক্রসে সন হিউং মিনের গোল। বুন্দেসলিগায় লেভারকুসেনের হয়ে খেলেছেন সন, তখন থেকেই ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে গোল করার অভ্যাস তাঁর! এই নিয়ে ১১ ম্যাচে ৯ বার ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে গোল করলেন সন। শেষ ১০ মিনিটে আরো দুটি গোল মুরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যদের। ৮৩ মিনিটে ফের্তোঙ্গেন আর ৮৬ মিনিটে লরেন্তে, দুজনেই গোলের দেখা পেলে ৩-০ গোলের বড় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে হয়তো এক পা দিয়েই রাখল স্পাররা। শেষবার তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে পৌঁছেছিল ২০১০-১১ মৌসুমে। উয়েফা, স্কাই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা