kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সোয়া ২ কোটি টাকার বিশ্বকাপ টিকিট

মাসুদ পারভেজ    

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে টিকিটের চাহিদা জানিয়ে পাঠানো চিঠির স্তূপ পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তখনকার টিকিট অ্যান্ড সিটিং কমিটির প্রধান জি এস হাসান চৌধুরী তামিমের টেবিলে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক বাংলাদেশে হয়েছিল আটটি ম্যাচ। নিজেদের মাঠে হওয়ায় টিকিট প্রার্থীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনকে। আসন্ন বিশ্বকাপ অবশ্য দেশে হচ্ছে না। তবু বিশ্বকাপ বলে কথা! সেটি দেশেই হোক কিংবা বিদেশে। এবার বিদেশে হওয়ায় বিসিবিরই টিকিট পাওয়ার শেষ ভরসাস্থল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আরো বেশি বলে মনে করছেন এর নীতিনির্ধারকরা। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের আগাম ব্যবস্থাও তাই নিয়ে রাখছেন তাঁরা। বিশাল অঙ্ক ব্যয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছ থেকে টিকিট কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সংস্থাটি।

যে অঙ্ক ২০১৭ সালের জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির টিকিট কেনা বাবদ ব্যয়ের প্রায় সাত গুণ। সেবার ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কাছ থেকে ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকার টিকিট কিনেছিল বিসিবি। এবার আগামী ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডেই শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে তারা খরচ করছে সোয়া দুই কোটি টাকার মতো। গত ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সব শেষ সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা প্রস্তাবনায় লেখা হয়, ‘কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিসিবি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯-এর সেমিফাইনাল এবং ফাইনালসহ বিভিন্ন ম্যাচের টিকিট কিনবে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে। বক্সসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির টিকিটও থাকবে এতে। টিকিট কেনার জন্য ইসিবিকে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৬৯১ জিবিপি (গ্রেট ব্রিটেন পাউন্ড) পরিশোধের অনুমোদন প্রয়োজন আমাদের।’ টাকার অঙ্কে যা (১ ব্রিটিশ পাউন্ড = ১০৮ টাকা হিসাবে) দুই কোটি ২২ লাখ টাকারও বেশি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যখন, তখন বিসিবির হিসাব বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবনায় চটজলদি অনুমোদন দিতে বিলম্বও করেনি পরিচালনা পর্ষদ।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও অনুমোদনের বিষয়টি স্বীকার করলেন, তবে একটু অন্যভাবে, ‘বিশ্বকাপের টিকিট কেনার বিষয়ে বোর্ডের নীতিগত অনুমোদন আছে।’ নিশ্চিতভাবেই এই টিকিটের একটি অংশ বিসিবি পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ। প্রধান নির্বাহীর কথায় মনে হতেই পারে যে এর বাইরেও সম্ভাব্য বিপুল চাহিদার কথা ভেবে আগাম বন্দোবস্ত করে রাখছেন তাঁরা, ‘বিসিবি যেহেতু ন্যাশনাল বোর্ড, বোর্ডের কাছে অনেকেই টিকিট চাইতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। বোর্ডের কাছে চাইবেই। কারণ বোর্ডই টিকিটের সোর্স।’

সেই সূত্র ধরেই অতীতে এগিয়েছে এমনকি সরকারের নানা দফতর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি বিভিন্ন সংস্থাও। তাছাড়া বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতারাও এর আগে টিকিটের জন্য শরণাপন্ন হয়েছেন বিসিবির। অবশ্য এর বাইরেও টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকবে বলে অনুমান সংস্থার প্রধান নির্বাহীর, ‘‘রাজনৈতিক চাপই শুধু নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে গিয়েছে, অনেকেই আমাদের দলের খেলা দেখতে আগ্রহী। যাদের ইংল্যান্ডে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তারা সবাই খেলা দেখতে চাইবে। কেউ যখন খেলা দেখতে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বোর্ডকেই অবলম্বন ভাবে। তখন ভাবে, ‘বোর্ডের মাধ্যমেই চেষ্টা করে দেখি।’ সেটিই হয়তো হবে।’’ সেটি হবে ধরে নেওয়াই সোয়া ২ কোটি টাকার টিকিট কেনার সিদ্ধান্তের প্রভাবক, ‘পরে যাতে টিকিটের চাপটা সামাল দেওয়া যায়, সেজন্যই আগেভাগে কিনে রাখার চিন্তা।’

একই সঙ্গে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষকেও তুষ্ট করার পরিকল্পনা আছে বলে মনে হল বিসিবি প্রধান নির্বাহীর কথায়, ‘প্রিমিয়ার, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ মিলিয়ে বিসিবির অধীনে ক্লাবই আছে ৭২টি। তাদেরও টিকিট প্রাপ্য। এখন প্রতিটি ক্লাবকে একটি করে টিকিট দিলেও তো ৭২টি। ইংল্যান্ডে টিকিটের যে দাম, তাতে এর মূল্যও কম নয়!’

‘অমূল্য’ টিকিটের পেছনে ব্যয়েও তাই উদার বিসিবি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা