kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ওয়েলিংটন টেস্টেই খেলবেন সাকিব!

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : টানা দুটি বিপিএল ফাইনালে হারের তাৎক্ষণিক হতাশাকে শোক হতে দেননি তিনি। আর টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এত দিন পর তো বিপিএল ঘিরে সামান্য হতাশাও নেই সাকিব আল হাসানের মনে। এই যে আঙুলের চোট নিউজিল্যান্ডগামী বিমানে উঠতেই দিল না, সেটি নিয়েও গতকাল আক্ষেপ শোনা যায়নি তাঁর কণ্ঠে। তবে উদ্বেগ আছে, ‘তিন টেস্টের সিরিজ। কখন যে কার লাগে (চোট)!’

নিউজিল্যান্ডের জল-হাওয়া-উইকেট এবং এমন কন্ডিশনে দারুণ সহায়ক স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণ থেকে কখনোই সুস্থ-সবল দেহে দেশে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ দল। চোট হানা দিয়েছেই। এবারের সফরে আবার তিন টেস্ট, যা ভেবে সাকিবের মনে দুর্যোগের ঘনঘটা, ‘টেস্টে এমনিতেই ধকল বেশি। তার ওপর তিন টেস্ট! ইনজুরির চান্স খুব বেশি থাকে।’ তবে ওই বিপজ্জনক সময়েই নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন সাকিব, ‘শেষ দুই টেস্ট কিংবা তিন নম্বরটা (ওয়েলিংটন টেস্ট, ১৬-২০ মার্চ) খেলার ইচ্ছা আছে। পারব সম্ভবত।’

নিশ্চিতভাবে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠেয় সিরিজের প্রথম টেস্টে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সাকিব। তবে ওয়েলিংটনের দ্বিতীয় টেস্ট এবং ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলার ব্যাপারে আশাবাদীও তিনি। ওয়েলিংটন মাঠের নামটা কৃতজ্ঞচিত্তেই স্মরণ করেন সাকিব, ‘গতবার এ মাঠে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলাম। তার চেয়েও বড় ব্যাপার ওয়েলিংটনে আমার ক্যারিয়ার বেঁচে ছিল!’ চমকে ওঠার মতোই তথ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তো দীর্ঘ মধুচন্দ্রিমা চলছে সাকিবের। তাঁর আবার ক্যারিয়ার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঝুলে ছিল কবে? সাকিব বাড়িয়ে বলেননি। শুরুর তিন টেস্টে প্রত্যাশা মেটাতে না পারায় ২০০৮ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে ডানেডিন টেস্ট থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরের টেস্ট ওয়েলিংটনে। সেখানেও আহামরি কিছু করেননি, ৫ ও ৪১ অপরাজিত এবং তার আগে নিউজিল্যান্ডের একমাত্র ইনিংসে দুই উইকেট ‘লাইফ লাইন’ পাইয়ে দিয়েছিল সাকিবকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি এ অলরাউন্ডারকে।

চোট সারিয়ে সেই ওয়েলিংটনকে মাঠে ফেরার ভেন্যু হিসেবে দেখছেন সাকিব আল হাসান, ‘চার সপ্তাহের মতো সময় লাগার কথা। তাতে সিরিজের শেষ দুটি টেস্টও খেলতে পারি। মনে হয় পারব। অন্তত শেষটা খেলা খুব সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।’ বিপিএল ফাইনালে পাওয়া তাঁর চোটগ্রস্ত বাঁ হাতের অনামিকা এখনো ক্লিপ দিয়ে ঢাকা, যেন অসাবধানতাবশতও নড়াচড়া না হয়। তবে এ ধরনের চোট সম্পর্কে এত দিনে একটা ধারণা হয়ে গেছে সাকিবের, ‘থিসারার বলটা লাগার পরই বুঝে গিয়েছিলাম ভেঙেছে। এ ধরনের চোটের চিকিৎসা একটাই—আঙুলটাকে বিশ্রাম দেওয়া। সে কারণেই মনে হচ্ছে নিউজিল্যান্ডে খেলতে পারব। আরে, এই আঙুলটার জন্যই তো ফাইনাল জিততে পারলাম না (হাসি)। আঙুলে লাগার পরই মনে হচ্ছিল ওই ওভারেই আউট হয়ে যাব, হলামও। আউট না হলে রেজাল্ট অন্য রকম হতো, ম্যাচ তো তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’

ফাইনালের ফল ‘অন্য রকম’ হয়নি বলে অবশ্য কোনো দুঃখ নেই সাকিবের। তেমনি দুঃখ নেই চোটের কারণে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন নিজের বাসায় বসে থাকতে হচ্ছে দেখেও। ‘বুঝতে পারি আমার নিজের মধ্যে কিছু পরিবর্তন এসেছে। জিতলে যেমন খুব খুশি হই না আবার হারলেও ভেঙে পড়ি না। নিজের কষ্টটা করে যাব, কিছু পেলে পেলাম, না পেলে নাই’, বলে বিদায় নিলেন সাকিব।

ব্যাগ গোছাতে হবে, সপরিবারে তিন দিনের ছুটিতে দেশের বাইরে যাওয়ার তাড়া রয়েছে যে তাঁর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা