kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

চলে গেলেন ব্যাংকস

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চলে গেলেন ব্যাংকস

পেলে না ডিয়েগো ম্যারাডোনা—সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আড্ডায় চলে অন্তহীন বিতর্ক। কিন্তু সর্বকালের সেরা গোল কোনটি, এ নিয়ে প্রশ্ন সামান্যই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে করা ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটিকে সবাই জানেন ‘শতাব্দী সেরা গোল’ হিসেবেই।

ঠিক তেমনি সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক কে, সে আলোচনাতেও উঠে আসে বেশ কিছু নাম। লেভ ইয়েসিন, দিনো জফ, গর্ডন ব্যাংকস, সেপ মেয়ারসহ অনেকে। কিন্তু সর্বকালের সেরা সেভ? এ নিয়েও ম্যারাডোনার গোলের মতো কোনো দ্বিমত নেই বললেই চলে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পেলের হেড যে অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে রুখেছিলেন ব্যাংকস, সেটিই পরিচিত ‘শতাব্দী সেরা সেভ’ হিসেবে।

জীবনের গোলবার ৮১ বছর বয়স পর্যন্ত অক্ষত রেখেছিলেন সেই ব্যাংকস। আর পারেননি। ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক কাল ঘুমের মধ্যেই চলে যান চিরঘুমের দেশে। পেছনে রেখে যান খেলোয়াড়ি জীবনের অসংখ্য কীর্তি। তাঁর জন্য কাল তাই ভিজে ওঠে পুরো ফুটবলবিশ্বের চোখ।

ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ছড়িয়েছেন ৭৩ বার। কিন্তু সব ছাপিয়ে ১৯৭০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পেলের হেডের নিশ্চিত গোল বাঁচানোর ব্যাংকসের ছবিটাই গেঁথে আছে ফুটবলপ্রেমীদের হূদয়ে। সেটি এমনই নিশ্চিত ‘গোল’ ছিল যে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পর্যন্ত উদ্‌যাপন শুরু করে দিয়েছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তা উল্লেখ করেন ব্যাংকস, “হেড করার পর পেলে যে ‘গোল’ বলে চিৎকার করে ওঠে, তা আমি শুনি। অবশ্যই ও ভেবেছিল যে বলটি আমি রুখতে পারব না।” কিন্তু চিতার রিফ্লেক্সে উড়ে গিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক। সেটিকে পেলে থেকে ববি চার্লটন পর্যন্ত সবাই স্বীকৃতি দিয়েছেন সর্বকালের সেরা সেভ হিসেবে। কিন্তু এটিকে আবার নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত মানতে রাজি নন ব্যাংকস, ‘১৯৭২ সালে লিগ কাপের সেমিফাইনালে স্টোক সিটির হয়ে জিওফ হার্স্টের পেনাল্টি ঠেকানোটা ছিল সবচেয়ে আনন্দের।’

‘মৃত্যুর পেনাল্টি’ কাল আর ঠেকাতে পারলেন না ব্যাংকস। পরিবারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয় তাঁর চিরবিদায়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানচ্ছি যে গর্ডন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ওকে হারিয়ে আমরা বিধ্বস্ত। কিন্তু এত এত আনন্দের স্মৃতিও আমাদের রয়েছে যে এর চেয়ে গর্বিত আমরা হতে পারতাম না।’ সেই স্মৃতির খেলাই কাল চলে ফুটবলবিশ্বের অন্য কিংবদন্তিদের প্রতিক্রিয়ায়। ১৯৬৬-র বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ হাস্ট যেমনটা টুইট করেছেন, ‘গর্ডনের মৃত্যুর খবর শোনাটা কষ্টের। সর্বকালের অন্যতম সেরা ছিল ও।’ গ্যারি লিনেকারের টুইটেও শোকের প্রকাশ, ‘ওহ্, নাহ্। আমার এবং আরো অনেকের হিরো গর্ডন ব্যাংকস আর নেই। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী তিনি, সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকও। আর কী অসাধারণ মানুষই না ছিলেন!’

ক্লাব ফুটবলে তিনি স্টোক সিটির ব্যাংকস। পেলের ওই সেভ ছাপিয়েও লিগ কাপ সেমিফাইনালে হার্স্টের সেভ যাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। সেই কিংবদন্তির বিদায়ে ইংল্যান্ডের ক্লাবটির বিষণ্নতাও অনুমেয়। ক্লাবের চেয়ারম্যান পিটার কোটসের কথায় সব সমর্থকের হয়ে যেন সেই দুঃখের প্রকাশ, ‘অনেক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবু তাঁর এ চলে যাওয়া আমাদের সবার জন্য ভীষণ দুঃখের। আমরা সবাই তাঁকে খুব ভালোবাসি। স্টোককে তিনি নিজের ক্লাব বানিয়েছেন। তাঁর মতো কাউকে খুব বেশি দেখা যায় না। এত প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও কী বিনয়ীই না তিনি ছিলেন!’

অমন বিনয়ী আরো কাউকে হয়তো পাওয়া যাবে ফুটবলবিশ্বে। তাঁর চেয়ে ভালো গোলরক্ষকও। কিন্তু ওই সেভের চেয়ে ভালো কিছু কখনো দেখেনি ফুটবল। ভবিষ্যতেও দেখবে কি? এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা