kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

আবাহনী ও জামালকে জিতিয়েছেন স্থানীয়রা

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাহনী ও জামালকে জিতিয়েছেন স্থানীয়রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে ফের বিস্ফোরণ নাবিব নেওয়াজ জীবনের। এক ম্যাচ আগে তাঁর হ্যাটট্রিকে উড়ে গিয়েছিল রহমতগঞ্জ, এবার তাঁর জোড়া গোলে কঠিন বাধা পেরিয়েছে ঢাকা আবাহনী। ময়মনসিংহে পিছিয়ে পড়েও চ্যাম্পিয়নরা ২-১ গোলে হারিয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে। সুবাদে ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে। আর ৫ গোল নিয়ে নাবিবের শীর্ষারোহণ হয়েছে গোলদাতাদের তালিকায়, তিনি যুগ্মভাবে শীর্ষে আছেন আইভরি কোস্টের বালো ফামোসার সঙ্গে। অন্য ম্যাচে গতবারের রানার্স-আপ শেখ জামাল ধানমণ্ডি সাখাওয়াত হোসেনের একমাত্র গোলে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে। সুবাদে ৬ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট।

ময়মনসিংহের শহীদ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে আরামবাগ দারুণ মানিয়ে নিয়েছে। নিজেদের হোম ভেন্যুতে প্রথম ম্যাচের পর তিন ম্যাচ জিতেছে তারা। হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং ও ঢাকা মোহামেডানের মতো দলকে। তাই ময়মনসিংহে গিয়ে তাদের হারিয়ে ফেরাটা যেকোনো দলের জন্য বড় কঠিন। কালও শুরুতে আরামবাগ গোল করে ধাক্কা দিয়েছিল; কিন্তু সেটা সামলে নাবিব নেওয়াজ দুর্দান্ত দুটো গোল করে পথে রেখেছেন আবাহনীকে। ‘এটা বেশ কঠিন ম্যাচ ছিল। ম্যাচের শুরুতে গোল খেয়েও আমরা ভড়কে যাইনি, দলের খেলা এলোমেলো হয়নি এটাই ভালো দিক। এরপর আমার দুই গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে আমাদের পায়ে। আমার গোলে দল কঠিন ম্যাচ পার হয়েছে, এটা খুবই আনন্দের’—নাবিব নেওয়াজের কণ্ঠে যুগপৎ আনন্দ আর গর্বের মাখামাখি।

ম্যাচের শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা। তাদের বক্সের ওপর চিনেডু ম্যাথুর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে আরিফুর রহমান শট নেন আবাহনীর পোস্টে। সেখানে গোলরক্ষক শহীদুল ফিস্ট করতে গিয়ে ব্যর্থ এবং বল জালে জড়িয়ে লিড নেয় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এই মাঠে হয়তো আরেকটি জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছিল তারা। কিন্তু সবই ভুণ্ডুল হয়ে যায় নাবিব নেওয়াজের সাত মিনিটের ম্যাজিকে। ৩২ মিনিটে কোরিয়ান মিডফিল্ডার কো মিন-ইয়কের লং বলটি দুই ডিফেন্ডারের মাঝে আয়ত্তে নিয়ে এই দেশি ফরোয়ার্ডের চমৎকার প্লেসিংয়ে ম্যাচে ফেরে আবাহনী। মিনিট ছয়েক বাদে তাঁর পায়ে আবার দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে গোল। এটা অবিশ্বাস্য! প্রথমত ফ্রি কিক মারেন বিদেশিরাই, দেশি হলে বড়জোর ওয়ালি ফয়সাল। তাই নাবিবের পায়েও যে এত চমৎকার কিক আছে, সেটা কারো জানাই ছিল না। গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়েই তাঁর ফ্রি কিক পৌঁছে যায় জালে। এ গোলের পর তাঁর উল্লাসও ছিল দেখার মতো, তবে মোটেও বিস্মিত হননি, ‘এই শটে আমি বিস্মিত হইনি। কারণ ম্যাচে তো আমরা ফ্রি কিক মারার সুযোগই পাই না। সুযোগ পেয়ে গোল করেছি বলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে। যেকোনো দেশি ফুটবলারের বেলায় এটা হবে।’ এই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী আর গোলের জন্য ঝাঁপায়নি, গোলটি ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে পেয়েছে টানা চতুর্থ জয়। ৬ ম্যাচে তৃতীয় হারের বিস্বাদ নিয়ে আরামবাগের সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট।

ঢাকায় দিনের অন্য ম্যাচে ব্রাদার্সের বিপক্ষে শেখ জামাল ধানমণ্ডিকেও ঘাম ঝরাতে হয়েছে জয় পেতে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে এগিয়ে যায় গত লিগের রানার্স-আপরা। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো পেরেজের শট গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি। সাখাওয়াত হোসেন রনি ফিরতি শটে লক্ষ্যভেদ করে এগিয়ে নেন শেখ জামালকে। ১০ মিনিট বাদে এই ফরোয়ার্ডের নেওয়া আরেকটি শট বিপদে ফেলেছিল ব্রাদার্স গোলরক্ষককে, তবে সেটি ভালোভাবে ফিস্ট করেন তিনি। বিরতির পর তারা ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেও পারেনি। দ্বিতীয় মিনিটের গোল ধরে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় শেখ জামাল ধানমণ্ডি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা