kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

প্রথম জয়ের আশায় বাংলাদেশ

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথম জয়ের আশায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৩ ফরম্যাট। ৪ সফর। ২০ ম্যাচ। সঙ্গে ২০১৫ বিশ্বকাপের ম্যাচটি ধরলে ৫ সফরের ২১ ম্যাচ। এর মধ্যে এক খেলায়ও জেতেনি বাংলাদেশ! ড্র-ও না। বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরের ২১ ম্যাচের ২১টিতেই হার।

আজ সকালে যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল, তা যে কতটা চ্যালেঞ্জের হবে—রেকর্ডেই স্পষ্ট।

অথচ এই বাংলাদেশই আবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাটিতে বাঘ। সর্বশেষ দুই সফরের ১০ ম্যাচের মধ্যে কিউইরা জিততে পেরেছে মাত্র এক খেলায়। সেটিও টি-টোয়েন্টিতে। দুই টেস্টের দুটিই ড্র। আর সর্বশেষ দুই সফরে যে সাতটি ওয়ানডেতে মুখোমুখি দল দুটি, তাতে প্রতিটি ম্যাচে জয় বাংলাদেশের।

নিজ দেশের এই রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে টেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু নতুন করে রেকর্ড তৈরি তো করা যায়। বিশেষত ওয়ানডেতে। এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা মাশরাফির দলের কিউইদের দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশায় অন্তত বাড়াবাড়ি নেই কোনো।

কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা সফর শুরুর একেবারে শেষ সময়ে। ইনজুরির কারণে সফরে যে আসতে পারেননি দলের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান! বিপিএল ফাইনালে বাঁ হাতে অনামিকার সেই চোটে চিকিৎসকদের আপাতত পরামর্শ তিন সপ্তাহের বিশ্রাম। এরপর ক্ষতস্থান দেখে সিদ্ধান্ত। ওয়ানডে সিরিজে সাকিবের খেলার সম্ভাবনা তাই শেষ পুরোপুরি, টেস্ট সিরিজে খেলার আশাও ক্ষীণ। ওয়ানডে সিরিজ মাঠে গড়ানোর আগেও তাই ওই অলরাউন্ডারের না থাকার হাহাকার ওড়ে নেপিয়ারের বাতাসে।

কোচ স্টিভ রোডসকেও কাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রথমেই মুখোমুখি হতে হয় সাকিবের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্নের। উত্তরে বড্ড বিমর্ষ শোনায় বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠ, ‘ঠিক জানি না, পুরো সফরের জন্যই ওকে হারালাম কি না। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজের শুরুতে তো সাকিবকে পাচ্ছি না। ওর আঙুলের হাড়ের ভাঙাটা স্পষ্ট। দেখা যাক, তা কিভাবে সারে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। কেননা বিশ্ব ক্রিকেটেই সাকিবের মতো খেলোয়াড় খুব বেশি নেই।’ কিন্তু সাকিবের না থাকাতেই যে মাঠে নামার আগে হেরে বসে আছে বাংলাদেশ, তা-ও না। বিশেষত ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে সফর শুরু হওয়ায় আশা দেখছেন রোডস, ‘অবশ্যই সাকিবের না থাকায় এখন আমাদের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ। অধিনায়ক মাশরাফি তো এ নিয়ে কথা বলেছেই। ও ঠিকই বলেছে। সাকিব না থাকার অর্থ এই নয় যে আমরা জিততে পারব না। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে আমরা দারুণ খেলছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছি দুটো সিরিজে। সেখান থেকে অনেক অনুপ্রেরণা নেওয়া যায়।’ সিরিজে নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে মেনে নিয়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের আশা ছাড়ছেন না বাংলাদেশ কোচ, ‘নিউজিল্যান্ডে এসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা খুব কঠিন। এটাই বাস্তবতা। আমরা এ সিরিজে আন্ডারডগ। তবে আন্ডারডগ হিসেবে খেলে আমরা চমকে দিতে পারি। আমাদের হারাতে হলে নিউজিল্যান্ডকে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে বলে আমি মনে করি।’

২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ—অধিনায়ক মাশরাফি থেকে অনেকেই বলছেন সে কথা। ওই লক্ষ্যপূরণের পথে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই শুরু হবে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থাকলেও আবহে অলক্ষ্যে যে বিশ্বকাপের সুর বাজছে, তা-ও মেনে নেন রোডস, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার সময় সেটাতেই মনোযোগ থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত আরো কিছু ব্যাপারও থাকে। এই সিরিজ থেকে বিশ্বকাপের অনেক কিছু আমরা শিখতে পারি। অবশ্যই আমরা এ সিরিজ জয়ের চেষ্টা করব। একই সঙ্গে কিছু ব্যাটসম্যান, কিছু বোলারের অবস্থাও দেখে নিতে চাই। আমি নিশ্চিত, নির্বাচকরাও খেয়াল রাখবেন কিছু ক্রিকেটার যেন এ সিরিজ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা নিশ্চিত করতে পারে।’

সফরের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বড্ড তাড়াহুড়ায়। বিপিএলের জন্য তিন ধাপে গিয়েছেন ক্রিকেটাররা। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও দল গেছে হেরে। তবু বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি সহজ হবে না বলেই বিশ্বাস নিউজিল্যান্ডের ওপেনার মার্টিন গাপটিলের, ‘বাংলাদেশ দারুণ দল। ওদের বিপক্ষে সিরিজটি কঠিনই হবে।’

সেই কঠিন সিরিজে এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে রেকর্ড বদলে দিতে চায় বাংলাদেশ। প্রথম জয় দিয়ে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা