kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তবু ইমরুল বাদ, তবু সাব্বির আছেন

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১৪৪, ৯০ ও ১১৫—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ওয়ানডেতে তাঁর রান। তবু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের ব্যর্থতায় একাদশ থেকে বাদ পড়ে যান। আর নিউজিল্যান্ডের জন্য কাল ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডেই জায়গা করে নিতে পারেন না। ইমরুল কায়েস নিজেকে বড্ড দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। অথবা বাংলাদেশের ক্রিকেট-মানদণ্ড আকাশ ছুঁয়েছে বলে সাধারণের ভাবার অবকাশও রয়েছে এই বাদ পড়ায়।

উল্টোদিকে সাব্বির রহমানকে দেখুন। নিজেকে ভাগ্যবান কেন ভাববেন না! শৃঙ্খলাজনিত কারণে জাতীয় দল থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিলেন। সেই মেয়াদকাল কমিয়ে সাব্বিরকে নেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ড সফরের দলে। অথচ মাঝের সময়টায় তাঁর পারফরম্যান্স অমন হাতিঘোড়া কিছু নয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে কাল ১৩ রান করেছেন। আগের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংসই শুধু বলা মতো। আগের ম্যাচগুলোয় তাঁর স্কোর ৭, ০, ১২, ৬, ২০ ও ১১ রান। বিপিএলের ঠিক আগে আগে যে বিসিএল, সেখানেও বিবর্ণ সাব্বির। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ছয় ইনিংসে তাঁর সাকল্যে রান ৯৮।

তবু নিউজিল্যান্ড সফরের স্কোয়াডে জায়গা হয় সাব্বিরের। তবু জায়গা হয় না ইমরুলের।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে বাদ দেওয়ার যুক্তি হিসেবে তাঁর ফর্ম এবং নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনকে সামনে আনেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‘বর্তমান ফর্ম ও কন্ডিশন চিন্তা করে ওকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ অথচ বাজে ফর্মের কারণে বিপিএলের নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির একাদশ থেকে বাদ পড়া সৌম্য সরকারকে দলে রাখায় তাঁর উল্টো যুক্তি, ‘সৌম্যর সামর্থ্য আছে বাউন্সি উইকেটে ভালো খেলার। যেহেতু ৫০ ওভারের ম্যাচ হবে, সে কারণে ওর প্রতি টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছে।’ ইমরুলকে বাদ দেওয়া হলেও বিশ্বকাপ ভাবনায় তিনি রয়েছেন বলে দাবি প্রধান নির্বাচকের, ‘আমাদের বিশ্বকাপের জন্য ৩২ জনের যে পুল আছে, ও সেখানে আছে। তিন ওয়ানডের জন্য যারা যাচ্ছে তাদেরও দেখতে হবে, যারা দেশে থাকবে তাদেরও প্রস্তুত করা হবে। কাউকে আড়াল করা হচ্ছে না। সামনে আয়ারল্যান্ডে খেলা আছে; পরপরই বিশ্বকাপ। সুতরাং প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই দেখতে হবে।’ পরে আরেক প্রশ্নের উত্তরেও বলেন অভিন্ন কথা, ‘ইমরুলকে ওভাবে চিন্তা করা হয়নি। নিউজিল্যান্ড সফরে না থাকলেও এমন নয় যে, সে আমাদের বিশ্বকাপ ভাবনায় নেই।’

আসলে কিন্তু ভাবনায় নেই। যে আয়ারল্যান্ড সফরের কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক, সেখানে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলবে বাংলাদেশ। ৫ মে শুরু টুর্নামেন্টের ফাইনাল ১৭ মে। এর মাত্র ১৩ দিন পর ৩০ মে থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ। ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় তাই বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার ডেডলাইন পেরিয়ে যাবে। এর ঠিক আগের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যখন থাকেন না ইমরুল, তখন বিশ্বকাপ ভাবনায়ও তিনি নেই নিশ্চিতভাবে।

বিপিএলে সাব্বিরের এক ম্যাচের পারফরম্যান্স নির্বাচকদের কাছে এত গুরুত্ব পায়, উল্টো সৌম্যর টানা খারাপ খেলাও গুরুত্ব পায় না। আবার তাসকিন আহমেদ এই কুড়ি-বিশের টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম করে ঠিকই জায়গা করে নেন ওয়ানডে ও টেস্ট দলে। ‘তাসকিন অনেক দিন ধরে ইনজুরিতে ছিল। এরপর ইনজুরি কাটিয়ে বিপিএলে ভালো করেছে। প্রথমে আমরা ওকে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য চিন্তা করেছিলাম। তবে সামনে ওয়ানডে সিরিজ থাকায় সেখানে তাসকিনকে আমরা দেখব। দেখব কেমন করে, তারপর চিন্তা করব’—প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের শেষ দুটি লাইনে বিভ্রান্তির যথেষ্ট অবকাশ। কারণ টেস্টের জন্য ঘোষিত দলেও তো আছেন তাসকিন। তাহলে ওয়ানডের পারফরম্যান্স দেখে চিন্তার কী আছে! অবশ্য টেস্টে ১৬তম সদস্য হিসেবে বাড়তি আরেকজন পেসার নেওয়ার ঘোষণায়ই হয়তো তাসকিনের ফর্ম-ফিটনেস নিয়ে সংশয়ের ছায়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে স্কোয়াড বিবেচনায় নিউজিল্যান্ড সফরের দলের সাব্বির-তাসকিন ছাড়াও যোগ হন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হওয়া এই ১৮ বছরের তরুণকে নিয়ে আশাবাদী শোনায় প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠ, ‘আমাদের অফস্পিনার দরকার। কেননা নিউজিল্যান্ডের অনেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মিরাজের সঙ্গে বিকল্প হিসেবে তাকে দরকার ছিল। নিউজিল্যান্ডে এর আগে আমরা বাজে সফর করে এসেছি। এগুলো চিন্তা করে নাঈমকে আমরা রেখেছি। টেস্টে সে ভালো করেছে, আশা করি ওয়ানডেতেও ভালো করবে।’ ওয়ানডে স্কোয়াডে ইমরুলের সঙ্গে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম, আবু হায়দার ও আরিফুল হক। আর টেস্ট স্কোয়াডে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন তামিম ইকবাল; সঙ্গে দুই পেসার তাসকিন ও আবু জায়েদ। বাদ পড়েন সৌম্য ও আরিফুল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা