kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুশফিকের ভাইকিংস ছুটছেই

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুশফিকের ভাইকিংস ছুটছেই

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই বিপিএলে তাঁর আগের দুই ফিফটিতে দল জিতলেও এর একটিতে রান তাড়ায় ‘ফিনিশ’ করে আসতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। কাল তৃতীয় ফিফটিতে ঘুচল সেই অপূর্ণতাও। রাজশাহী কিংসের ৫ উইকেটে তোলা ১৫৭ রান তাড়ায় তাঁর সঙ্গে দারুণ ছন্দে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেনও। দুয়ে মিলে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লরি ইভান্সের ৭৪ রানের ইনিংসে রাজশাহীর লড়াকু সংগ্রহও আর নিরাপদ থাকল না। ২ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে তাই জয়রথ অব্যাহত মুশফিকের চিটাগং ভাইকিংসেরও।

টানা পঞ্চম জয় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও তুলে নিল তাদের। সাত ম্যাচ খেলে এটি ভাইকিংদের ষষ্ঠ জয়। সুবাদে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা ঢাকা ডায়নামাইটসকেও নামিয়ে দিল পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। এক ম্যাচ বেশি খেলা ডায়নামাইটসের পয়েন্ট এখন ১০। আট ম্যাচ খেলা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পয়েন্টও ২০১৬-র চ্যাম্পিয়নদের সমান। তবে রানরেটে পিছিয়ে আছে ২০১৫-র চ্যাম্পিয়নরা। আট ম্যাচ খেলে চারটিতে হারা রংপুর রাইডার্স আর রাজশাহী কিংসের পয়েন্টও সমান, ৮। তবে রানরেট কিংদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। মাশরাফি বিন মর্তুজার দল আছে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে।

তবে এবারের আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক ভাইকিংদের বিপক্ষে শুরুটা বাজেই ছিল রাজশাহীর। ৮ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসার পর আগের ম্যাচের মতোই ইভান্স ও রায়ান টেন ডশাটের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তাঁদের ৫৪ রানের জুটি ভাঙে ডশাটের (২০ বলে ২৮) বিদায়ে। ৫৬ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ইভান্স ৭৪ রান করে যাওয়ার পর আরেক বিদেশি ক্রিশ্চিয়ান ইয়োঙ্কারের (২০ বলে ৩৬*) দেড় শ পার করা রাজশাহীও চেপে ধরেছিল ভাইকিংদের। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে চিটাগং ভাইকিংসের ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্টকে (১) ফেরানোর পর আঘাত হানেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানিও।

৩০ রানের মধ্যে তুলে নেন অন্য ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ (১৭ বলে ২৫) ও ইয়াসির আলীকে (৩)। ৫ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায় ভাইকিংস। সেখান থেকে উত্তরণের চেষ্টায়ও তারা সফল। সানি (৩/২২) তাঁর তৃতীয় শিকার বানিয়েছেন নজিবউল্লাহ জাদরানকেও (১৯ বলে ২৩)। তবে ততক্ষণে এই আফগান ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ৪১ রানের পার্টনারশিপে বিপর্যয় যেমন সামলেছেন, তেমনি মুশফিক নিজেও থিতু হয়ে গেছেন উইকেটে। তখন আবার উইকেটে এসে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আগের ম্যাচে ৩৩ রানের ইনিংসে নিজেকে ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া মোসাদ্দেক হোসেনও।       

এই জুটির ব্যাটেই শেষ হয় রাজশাহীর জেতার আশাও। উইকেটে যাওয়ার পরপরই এক ওভারে মিরাজকে দুটি ছক্কা মেরে নিজের সেরা ছন্দে দেখা দেওয়ার আভাস দেন মোসাদ্দেক। জয়সূচক বাউন্ডারিও আসে তাঁর ব্যাট থেকেই। ২৬ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংস খেলা মোসাদ্দেকও জ্বললেন, আর যথারীতি ঝলমলে পারফরম্যান্স তাঁর অধিনায়কেরও। ৪৬ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরা মুশফিকও ছুটন্ত রাখলেন ভাইকিংসের জয়ের চাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা