kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রশ্নও অনেক

মাসুদ পারভেজ   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রশ্নও অনেক

প্রশ্নটি সাব্বির রহমানকে নিয়ে ছিল না। যাঁকে নিয়ে ছিল, সেই সৌম্য সরকার চলতি বিপিএলে রীতিমতো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডেতে ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে স্কোয়াডে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই খুব একটা। তবে বিপিএলের ছয় ম্যাচে যাঁর ব্যাটে সর্বোচ্চ ইনিংস মাত্র ১৮ রানের, বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিতে যাওয়ার আগে সৌম্যর ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ থাকাও অস্বাভাবিক নয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে যে এই বিপিএলে একটিমাত্র ইনিংসেই যেখানে সাব্বিরকে নিয়ে স্বস্তির হাওয়া, সেখানে ফর্ম হারিয়ে ফেলা সৌম্যকে নিয়ে নির্বাচকদের অস্বস্তি কতটা?

কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে সাব্বির শুরুতেই এসে গেলেন বলে প্রশ্নকর্তা প্রশ্নই শেষ করতে পারছিলেন না আর। তৃতীয়বারের চেষ্টায় সফল হওয়ার আগে কাল বিকেলে দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তাঁকে দুইবার থামাতে চেয়েছেন এই বলে, ‘সাব্বিরকে নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন নয়।’ মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ছয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ সাব্বিরকে নিয়ে প্রশ্নের ঝড় সামাল দিতে দিতে ব্যতিব্যস্ত প্রধান নির্বাচক এরপর টেস্ট দল ঘোষণা করেই উঠে গেলেন। এমনিতে দল ঘোষণার পর কারো অন্তর্ভুক্তি কিংবা বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে এর ব্যাখ্যা নির্বাচকরা দিয়ে থাকেন। নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে সাব্বির না থাকলেও সঙ্গী আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশারকে নিয়ে তড়িঘড়ি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন মিনহাজুল।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ওয়ানডে দল ঘোষণার পর যাঁকে সাব্বিরকে নিয়েই জবাব দিতে হয়েছে সিংহভাগ প্রশ্নের। তা যৌক্তিক কারণেই। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে নিউজিল্যান্ড সফরে ১৩, ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় তিন ওয়ানডের জন্য তাঁর বিবেচিতই হওয়ার কথা নয়। আবার সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমেছে বলেও তো বিসিবির তরফ থেকে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। সেটি কাল মিনহাজুলই জানালেন, ‘এটি তো ডিসিপ্লিনারি কমিটির ব্যাপার। জানুয়ারির ৩১ তারিখের পর থেকে সে খেলতে পারবে। এটি আপনাদের বলা হয়নি, ওর শাস্তি এক মাস কমিয়ে আনা হয়েছে। সুতরাং ওকে আমরা ওভাবেই চিন্তা করে নিয়েছি।’

তবে প্রধান নির্বাচক জানানোর পরও সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমা নিয়ে ধোঁয়াশা যায়নি। কারণ যাঁরা সাব্বিরকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিলেন, সেই ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান শেখ সোহেলও তো বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে। নির্বাচকদের বিকেলের সংবাদ সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় তিনি টেলিফোনে বলছিলেন, ‘সাব্বিরকে নিষিদ্ধ করার সময় আমি ছিলাম। তবে অসুস্থতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে সক্রিয় ছিলাম না। এমনও হতে পারে যে সাব্বির বোর্ড সভাপতির কাছে আবেদন করে নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে নিয়েছে। বোর্ড সভাপতির সেই এখতিয়ারও আছে। তেমন কিছু হয়ে থাকলেও আমার জানা নেই।’

তাঁর বিষয়টি অজানা থাকা যদিও কঠিন। কারণ গত ৫ জানুয়ারি বিপিএল শুরুর দিন থেকেই তাঁকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। দিন পনেরোর মধ্যেও শেখ সোহেলের সেটি না জানা তাই বোধগম্য নয়। যেমন বোধগম্য নয় ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খানেরও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। সাব্বির বিষয়ক একাধিক প্রশ্নেও মন্তব্য না করে নীরব থাকলেন তিনি। আর মিনহাজুল আরো জানালেন, দল গড়তে বসার আগেই সাব্বিরকে নেওয়ার ‘ক্লিয়ারেন্স’ ছিল তাঁদের কাছে, ‘এটি আমরা দল দেওয়ার আগেই জেনেছি। দল নির্বাচনের আগে আমাদের ছাড়পত্র নিতে হয়। দলে মাননীয় সভাপতিরও অনুমোদন লাগে। ছাড়পত্র না পেলে তো আমরা (কাউকে) নিতে পারি না।’

সেটি না হয় ছিল। এর পরও তো সাব্বিরের অন্তর্ভুক্তি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। নিষেধাজ্ঞার সময় ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে খেলেছেন। এখন খেলছেন বিপিএলও। এর আগেও দুইবার মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বড় শাস্তি হয়েছে তাঁর। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞাসহ বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা সাব্বির এই বিপিএলেও এমন বিশেষ কিছু করেননি। প্রথম ছয় ম্যাচে ৭, ০, ১২, ৬, ২০ ও ১১ রান করার পর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে খেলেছেন ৫১ বলে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এই একটিমাত্র ইনিংসই তাহলে তাঁর দলে থাকার ‘যোগ্যতা’ হয়ে গেল?

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের ব্যাখ্যা হয়তো ফুরিয়ে আসে। তাই তিনি এবার ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কোর্টেই বল ঠেলে দিলেন, ‘ওর পারফরম্যান্স নিয়ে একটি ব্যাপার পরিষ্কার করে দিই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের অধিনায়কের পছন্দের। ও খুব জোরালোভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছে। এবং আমরা দুজনই (হাবিবুলও) একমত হয়েছি। ওরা এমন একজনকে চাচ্ছে, যে কিনা লোয়ার মিডল অর্ডারে ফাস্ট বোলারকে সামলাতে পারবে। বিশ্বকাপ ভাবনা এবং নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা করেই ওকে নেওয়া হয়েছে। দেখা যাক, অধিনায়ক যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ওর ব্যাপারে। আমিও আশাবাদী যে সাব্বির ফিরে আসবে।’

সে জন্য বিপিএলে সাব্বিরের একমাত্র ফিফটিতেও ভরসা মিনহাজুলের, ‘কিছু কিছু ব্যাপার আছে (বিবেচনা করতে হয়)। যারা আগে পারফরম করেছে। বিপিএল একটি আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টের মতোই। এখানে অনেক বিদেশি ক্রিকেটার খেলছে। এখানে সাব্বিরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া যায়। এমন নয় যে, একদম ফেলে দেওয়া যায়। সেই জায়গা থেকে অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের যখন পরিকল্পনা থাকে, তখন নির্বাচকদেরও এর সঙ্গে যেতে হয়।’

নির্বাচকরা গিয়েছেনও। এই যাওয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকাটাও তাই বোধগম্য। সেসব প্রশ্নের ভিড়ে সৌম্য প্রসঙ্গে সাব্বির এসে যেতেই তাই প্রধান নির্বাচকের অমন বারংবারের বাধা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা