kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

নীলফামারীতে আজ ঝাঁজালো দ্বৈরথ

২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নীলফামারীতে আজ ঝাঁজালো দ্বৈরথ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাত্র দুইবারের মুখোমুখিতে তারা জন্ম দিয়েছে নানা ঘটনার। প্রীতি-অপ্রীতি নানা উপাদানে তাই বসুন্ধরা কিংস-আবাহনীর লড়াইটা আজ ভীষণ উপাদেয়। কারো চোখে এটা ঘরোয়া ফুটবলের নতুন ঝাঁজালো দ্বৈরথ। কারো বিশ্লেষণে লিগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ।

বিকেল ৩টায় শুরু এ ম্যাচের জন্য তৈরি নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়াম। এটা বসুন্ধরা কিংসের ‘হোম’ ভেন্যু, সুবাদে দর্শক-সমর্থনে খানিকটা এগিয়ে থাকবে তারা। এই সমর্থন আর মাঠের খেলা মিলিয়ে স্বাগতিকরা চাইছে ম্যাচ শেষে এগিয়ে থাকতে। কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন সারাসরি বলে দিয়েছেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকে দুই দলের মধ্যে এক রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। সেটাকে যে যেভাবেই দেখুক, আমি চাই আবাহনীর রাজত্বে ভাগ বসাতে। এই লক্ষ্যে নিজেদের হোম ভেন্যুতে আমরা খেলতে নামব। এই ম্যাচ জিতে এগিয়ে থাকতে চাই আমরা।’ মৌসুম শুরু হয়েছিল মাঠে দুই পক্ষের মারামারি আর ফ্লাইং কিকে। এরপর দুই দলের দুজন করে নিষিদ্ধ হয়েছিল কয়েক ম্যাচের জন্য। ফেডারেশন কাপের সেই আলোচিত ফাইনাল শেষে মাঠের বাইরে আবার সম্প্রীতির ঘনঘটা। চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে ফুলেল অভিনন্দন জানিয়ে কিংস ঘরোয়া ফুটবলে চালু করে নতুন প্রথা। এরপর ফেডারেশন কাপ হারের বদলা নেয় কিংস স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনাল থেকে আবাহনীকে ছিটকে দিয়ে। দুই শিবিরে উত্তেজনা থাকলেও এর সংক্রমণ দেখা যায়নি খেলোয়াড়দের মধ্যে। তবে ম্যাচ শেষে উত্তেজিত আবাহনী সমর্থকরা চড়াও হয়েছিল কিংসের ওপর। এই দুটো ম্যাচের প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে নতুন হাওয়া। হালের মোহামেডান ঝিমিয়ে গেলেও দাঁড়িয়ে গেছে আবাহনীর নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী বসুন্ধরা কিংস।

দুই লড়াইয়ে দুই দল জিতেছে একবার করে। দুই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন এই দুই দল। নীলফামারীতে হবে তাদের ৩ নম্বর লড়াই। এটাকে খুব কঠিন মানছেন আবাহনী কোচ মারিও লেমোস, ‘বসুন্ধরা কিংস শক্তিশালী দল। তাদের মাঠে এসে তাদের হারানো কঠিন হবে। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে এ রকম হার্ডল ভালোভাবে পেরোতেই হবে।’ প্রথম ম্যাচেই তারা নোফেল স্পোর্টিংয়ের ধাক্কার মুখে পড়েছিল। প্রতিপক্ষের প্রতিরোধে ম্যাচটি ড্র হতেই বসেছিল। শেষে বদলি ফয়সাল আহমেদ শীতলের গোলে চ্যাম্পিয়নরা কোনো রকমে পার হয়। লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা পড়েছে স্বাধীনতা কাপজয়ী কিংসের মুখে। ‘আমার খেলোয়াড়রা তৈরি। তারা ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেবে আশা করি। আমার মনে হচ্ছে, ম্যাচটা দুই দলের জন্যই কঠিন হবে’— বলেছেন আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ।

তবে বসুন্ধরা কিংসের কোচের কাছে কঠিন বলে কোনো শব্দ নেই। যেকোনো মূল্যে তিনি ম্যাচটি জিতে আবাহনীকে পেছনে ফেলতে চান। এই স্প্যানিশ কোচের আত্মবিশ্বাসের উৎস হয়ে আছে স্বাধীনতা কাপের ম্যাচটি, ‘নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেছে দুই ফুটবলার। কিছু ইনজুরি থাকলেও সেটা বড় কোনো ইস্যু নয়, ফুটবলে এসব থাকবেই। তুলনামূলক দুর্বল দল নিয়েই আমরা হারিয়েছি আবাহনীকে স্বাধীনতা কাপে। সুতরাং আমাদের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ ফেডারেশন কাপ ফাইনালের পর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিলেন ডিফেন্ডার সুশান্ত ও ফরোয়ার্ড তৌহিদ। পাশাপাশি ছিল ইনজুরির মিছিলও। তাই সেরাদের বাইরে রেখেই কিংস খেলে স্বাধীনতা কাপ এবং শেষ পর্যন্ত এ টুর্নামেন্ট জিতে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। শিরোপা জিতে প্রমাণেরও একটা দায় ছিল প্রিমিয়ারে নবাগতদের। কারণ ভালো দেশি ফুটবলারদের সঙ্গে দুর্দান্ত সব বিদেশি যোগ করে ফুটবলাঙ্গনে বেশ আলোড়ন তুলেছিল বসুন্ধরা কিংস। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের সেরারা প্রিমিয়ারে আসছে বড় দলের সাজে। সেই আকর্ষণীয় সাজের বড় অংশজুড়েই ছিলেন বিশ্বকাপার ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। এমন তারকার কাছে শিরোপার দাবি তো থাকবেই। সেই দাবি মিটিয়ে এই কোস্টারিকান এখন নতুন মিশনে মনোযোগী হয়েছেন, ‘স্বাধীনতা কাপ আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে তবে লিগ হলো লম্বা রেস, যেখানে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটা খুব জরুরি।’

লিগের শুরু থেকেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি বসুন্ধরা কিংস। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেখ জামালের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরুর পর কলিনড্রেস হোম ভেন্যু নীলফামারীর ম্যাচের দিকে মুখিয়ে আছেন, ‘হোম ভেন্যুতে প্রথম ম্যাচ খেলব আর প্রতিপক্ষও শক্তিশালী দল। দুর্দান্ত একটা ম্যাচ হতে পারে। এখানে সবাই আসবে আমাদের ভালো খেলা দেখার জন্য। আমরাও চাই একটা ভালো ম্যাচ উপহার দিতে।’ ঠিক সেই প্রীতি ম্যাচের ধারা বজায় রাখতে চায় তারা। চার মাস আগে এই মাঠে মালদ্বীপের নিউ রেডিয়ান্টকে হারিয়ে শুরু হয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের। এবার সেই মাঠে খেলতে এসেছে লিগ চ্যাম্পিয়নরা। তাদের চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য তৈরি স্বাগতিকরা। নীলফামারী অপেক্ষায় আছে লিগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটির জন্য!

মানুষের ঢল নামবে স্টেডিয়ামে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা