kalerkantho

রানের চাকা ঘুরবে তো ঢাকায়?

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রানের চাকা ঘুরবে তো ঢাকায়?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তাহলে জমে উঠছে। অবশেষে!

পয়েন্ট টেবিলে ঢাকা ডায়নামাইটের আধিপত্যের ঘোষণা। ছয় ম্যাচ খেলে একটিমাত্র খেলায় হেরেছে তারা। ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে তাই। সমান ৮ পয়েন্ট চিটাগং ভাইকিংস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। তবে সে জন্য প্রথম দলকে খেলতে হয় পাঁচ ম্যাচ; পরের দলকে ছয়। সমান ৬ পয়েন্টে থাকা রাজশাহী কিংস এবং রংপুর রাইডার্সের ম্যাচসংখ্যাও সমান নয়। রাজশাহীর ছয় ম্যাচের চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। আর পয়েন্ট টেবিলের সবচেয়ে নিচে ধুঁকতে থাকা দুই দল সিলেট সিক্সার্স ও খুলনা টাইটানস। সাতটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে দুই দল; তাতে সিলেটের প্রাপ্তি মোটে দুই জয় আর খুলনার সম্বল এক জয়। সেরা চারে থাকার সম্ভাবনায় এ দল দুটি পিছিয়ে পড়েছে বেশ।

সাত দলের টুর্নামেন্টে দুই দল প্রায় ছিটকে গেছে, তাহলে বিপিএল জমে কিভাবে! জমেছে কারণ টুর্নামেন্ট অবশেষে দেখেছে রানফোয়ারা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চাহিদা মেটানোর জন্য যা অপরিহার্য। আজ বিপিএল ঢাকায় ফিরছে দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস-রাজশাহী কিংস এবং সন্ধ্যায় ঢাকা ডায়নামাইটস-চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ দিয়ে। সঙ্গে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে। সিলেটের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মতো রানবন্যা চাই যে!

প্রতিবার বিপিএলের শুরুতে থাকে এই দুর্ভাবনা। উইকেটে রান আসবে তো! ঢাকার উইকেটে যে তা হচ্ছে না, এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই বোঝা গেছে তা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স যে অল আউট হয়ে যায় মাত্র ৯৮ রানে। সে রান টপকাতে চিটাগং ভাইকিংসকে খেলতে হয় শেষ ওভার পর্যন্ত। এটিকে নিতান্ত দুর্ঘটনা বলে ভাবার সুযোগ শেষ করে দেয় দ্বিতীয় দিন। যেখানে সিলেট সিক্সার্স কোনোমতে তুলতে পারে ১২৭ রান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস হাঁচড়ে-পাচড়ে তা টপকায় আবার সেই শেষ ওভারে গিয়ে।

এই রানখরা অব্যাহত ঢাকা পর্বের পুরোটা জুড়ে। ব্যতিক্রম শুধু দুটি ম্যাচ। একটিতে ঢাকা ডায়নামাইটসের ১৮৩ রানের জবাবে খুব কাছে গিয়েও ২ রানে হারে রংপুর রাইডার্স। আর সে পবের্র একেবারে শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ১৮৪ রান টপকে জেতে চিটাগং ভাইকিংস। তবু ঢাকায় প্রথম পর্বে যে ১৪টি ম্যাচ হয়, তাতে ইনিংস গড় ১৩৯.৯৬। টি-টোয়েন্টির জন্য যা মোটেই আদর্শ নয়। প্রথম ইনিংসে রানের গড় ১৪৭.৬৪। সে রান করে যে বেশির ভাগ দলই জিতেছে, তা বলাই বাহুল্য। রাজশাহী কিংস তো রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১৩৫ করেও জিতেছিল। তিন ইনিংসে দল অল আউট হয় এক শর নিচে।

সিলেটে গেলে রানখরা কাটবে—এমন আশাবাদ ছিল বিপিএল কর্তৃপক্ষের। সে পর্বের শুরুটা অবশ্য অমন আশার সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ। সেখানে প্রথম তিন ম্যাচের ছয় ইনিংসের রান ১২৮, ১০৩, ৬৮, ৬৯, ১৩৬ এবং ১১৬। রাজশাহী কিংস ১২৮ রান তাড়া করে জিততে পারে না; আবার ১৩৬ ডিফেন্ড করেও টুর্নামেন্টের প্রথম পরাজয় উপহার দেয় ঢাকা ডায়নামাইটসকে। রানের হাপিত্যেশ বিপিএলজুড়ে থাকার আশঙ্কা তখন জেঁকে বসে আরো।

কিন্তু সিলেট পর্বের শেষাঙ্কে সে ধারায় নাটকীয় বাঁকবদল। শেষ পাঁচ ম্যাচে রানের ফল্গুধারা ছোটে রীতিমতো। ইনিংসের গড় রান বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২.৬। প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৮৬.৮। এই সর্বশেষ ১০ ইনিংসের কোনোটি ১৬০ রানের নিচে নয়। সাতটি ইনিংস ১৮০ রানের ওপরে। টুর্নামেন্টে প্রথম দুই শ রানের ইনিংসের সাক্ষীও হয় সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।

এ পর্বে সিলেট সিক্সার্সের ১৮৭ রানের জবাবে ১৬০ পর্যন্ত যায় রংপুর রাইডার্স। আবার স্বাগতিকদের ১৫৮ রান পেরিয়ে জিতে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে খুলনা টাইটানসের ১৮১ রানও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয় না। ঠিক যেমন সিলেটের ১৯৪ রান যথেষ্ট প্রমাণিত নয় রংপুরের বিপক্ষে। ওখানকার শেষ ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের ২১৪ রান অবশ্য পেরিয়ে যেতে পারে না খুলনা টাইটানস। তবে বিশাল রানপাহাড়ে চাপাও পড়ে না তারা। লড়াই করে যায় ১৮৮ পর্যন্ত।

আজ থেকে আবার শুরু হওয়া ঢাকা পর্বে তাই ২২ গজের উইকেটের বড় পরীক্ষা। টুর্নামেন্ট মাঝপথে চলে আসায় ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে গেছেন আবহের সঙ্গে; টি-টোয়েন্টির চাহিদার সঙ্গে। এখন উইকেটটা কুড়ি-বিশের উপযোগী হলেই সিলেটের রানের স্রোত অব্যাহত থাকবে ঢাকাতেও।

মন্তব্য