kalerkantho


আলিশেরের গোলে রাসেলের দারুণ শুরু

জিতেছে মোহামেডানও

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আলিশেরের গোলে রাসেলের দারুণ শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাইফুল বারী টিটুর চাপ কমেছে। অন্য সব শিরোপা-প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো জয় দিয়ে লিগ শুরু করেছে তাঁর দলও। আলিশের আজিজভের মহামূল্য গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ১-০ গোলে আরামবাগকে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে। ময়মনসিংহে বড় দলের এই জয়ের পাশাপাশি ঢাকায়ও জয় পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। শুধু ঐতিহ্য নিয়ে বেঁচে থাকা সাদা-কালোরা কিংসলে চিগোজির জোড়া গোলের সুবাদে ২-১ গোলে হারিয়েছে বিজেএমসিকে।

ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামটা যেন পয়া নয় মারুফুল হকের জন্য। এই কৃতী কোচের জন্মস্থান ময়মনসিংহ হলেও ওখানে গিয়ে তাঁর দল তেমন ভালো খেলতে পারে না। গতকালও তিনি পারেননি আরামবাগকে নিয়ে। ম্যাচের শুরুতে গোল খেয়ে চাপে পড়ে যায় তাঁর দল। তিন মিনিটে শেখ রাসেলের থ্রো-ইনের পর বল ঘুরছিল আরামবাগের বক্সে। কেউ ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি, এ-পা ও-পায়ে ঘোরা বলে হঠাৎ আলিশের আজিজভের ভলি চোখের পলকে পৌঁছে যায় আরামবাগের জালে। স্বাধীনতা কাপ থেকেই এই উজবেক মিডফিল্ডার দুর্দান্ত খেলছেন। মূল ফরোয়ার্ডরা গোল না পেলেও তিনি গোল করে ম্যাচ বের করে দিয়েছেন। লিগেও সেই ধারা বজায় রেখে আলিশের শুরু করেছেন। গতকাল অবশ্য আরেকটি দারুণ সুযোগ ছিল রাফায়েল ওডোইনের, পোস্টের সামনে থেকে তাঁর হেড ক্রসবার উঁচিয়ে না গেলে ব্যবধান আরো বড় হতে পারত। এর পরও প্রথম ম্যাচ জয়ে শেখ রাসেল কোচ সাইফুল বারী টিটু খুশি, ‘দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। ঢাকার বাইরে প্রথম ম্যাচ খেলা এবং আরামবাগ মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। তা ছাড়া আমাদের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা জয়ে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে একটা চাপ তো ছিলই। তাই জয় দিয়ে লিগ শুরু করতে পেরেছি, এটা অনেক সন্তুষ্টির।’ লিগের শুরুতেই এবার কোনো অঘটন ঘটেনি, সব বড় দল নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেই শিরোপা লড়াইয়ে আছে।   

এর পরও তিন মিনিটে গোল করে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরামবাগ বেশ মরিয়া হয়ে উঠেছিল ম্যাচে ফিরতে। শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে টিটুর দলের রক্ষণের কাছে, ‘শুরুতে গোল পেয়েছি, এটা ভালো দিক। এরপর আমাদের যেভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল সেটা হয়তো হয়নি। আরামবাগ কাউন্টারে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমাদের রক্ষণভাগ যথারীতি ভালো খেলেছে। মারুফ ভাইয়ের কৌশল ছিল কাউন্টারে গোল বের করা, এ ব্যাপারে বেশ সতর্ক ছিল আমাদের রক্ষণভাগ।’ মৌসুমের শুরু থেকেই রাসেলের রক্ষণের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। রক্ষণের এই নির্ভরযোগ্যতায় শেখ রাসেল ম্যাচ জিতে শুরু করেছে প্রিমিয়ার লিগ।

ঢাকায় দিনের অন্য ম্যাচে মোহামেডান জয় পেয়েছে ইনজুরি টাইমে। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে নাইজেরিয়ান কিংসলে চিগোজির ভেল্কিতে ২-১ গোলে হারিয়েছে বিজেএমসিকে। ৩৪ মিনিটে তারা এগিয়ে যায় এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত এক ডাইভিং হেডে। জাবেদের থ্রো-ইন পায়ে নিয়ে গাম্বিয়ান ল্যান্ডিং দারবোয়ে বক্সে ঢুকে বল ফেলেন পোস্টের সামনে। তাতে কিংসলে ডাইভিং হেড করে বল পৌঁছে দেন টিম বিজেএমসির জালে। তবে ৪৫ মিনিটে উজবেক মিডফিল্ডার ওতাবেকের ফ্রি কিকটি মোহামেডান গোলরক্ষক সাদকে ফাঁকি দিয়ে জালে ঢুকে গেলে বিরতির আগেই ম্যাচে ফেরে বিজেএমসি। এরপর বিজেএমসি ভালো খেললেও গোল বের করতে পারেনি। কিন্তু ৮০ মিনিটে তাদের ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার বেবেক লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে গেলে ম্যাচ ভারাসাম্য হারায় এবং রক্ষণভাগ নড়বড়ে হয়ে যায়। এটাই সুযোগ করে দেয় সাদাকালোদের। ইনজুরি টাইমে তারা ম্যাচ জেতে রাব্বির নিখুঁত ক্রস এবং কিংসলের দুর্দান্ত টাইমিংয়ে। বাঁ দিক থেকে কাওসার রাব্বি চমৎকার এক ক্রস ফেলেন, তার ওপর ডিফেন্ডারের মাথা টপকে কিংসলের হেড সাদাকালোদের শুভ সূচনা নিশ্চিত করে। সুবাদে মোহামেডানের নতুন কোচ আলী আসগর নাসিরের শুরুটাও হয়েছে জয় দিয়ে, ‘এই জয় দলকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আমার প্রথম কাজ ছিল দলটাকে গুছিয়ে মাঠে নামানো। সেটা করতে গিয়ে আমি রক্ষণভাগে নামিয়ে এনেছি জাপানি উরু নাগাতাকে। তাকে ওপরে খেলালে রক্ষণটা খুব নড়বড়ে থাকে। মাঝমাঠে দু-একজন ভালো খেলোয়াড় থাকলে মোহামেডানের খেলা আরো ভালো হতো। তবে আমি আশা করি প্রতি ম্যাচে তারা উন্নতি করবে।’



মন্তব্য