kalerkantho

নজরকাড়া

জ্বলে উঠছেন স্থানীয়রাও

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জ্বলে উঠছেন স্থানীয়রাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক :  একাদশে পাঁচ বিদেশি খেলানো নিয়ে গেল বিপিএলে কত শোরগোল! এবার নিয়ম বদলে বিদেশি কমিয়ে ফেলা হয় একজন। তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রমাণের মঞ্চ উন্মুক্ত হয় আরেকটু। কিন্তু সুযোগটা কি ঠিকভাবে নিতে পারছেন তাঁরা!

শুরুর ভাগে একেবারেই পারেননি। তবে টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যাট-বলও জ্বলে উঠছে তত। বিশেষত, টি-টোয়েন্টি উপযোগী মনে রাখার মতো বেশ কিছু পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তাঁরা। সিলেট পর্বের শেষ দিনে সাব্বির রহমানের ৫১ বলে ৮৫ রান তাতে সর্বশেষ সংযোজন।

এমনিতে সর্বোচ্চ সংগ্রাহকদের তালিকায় প্রথম তিনটি নামই বিদেশি। সাত ম্যাচে ৩৪৯ রান করে রংপুর রাইডার্সের প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান রাইলি রুশো সবার ওপরে। ২৪৪ রানে সিলেট সিক্সার্সের নিকোলাস পুরান এবং ২২৩ রানে ডেভিড ওয়ার্নার পরের দুটি স্থানে। কিন্তু পরিধি আরেকটু বাড়িয়ে যদি সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকা করা যায়, সেখানে বিদেশি আর মাত্র একজন। পাঁচ ম্যাচে ১৪৬ রান নিয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের আফগান ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান জুনায়েদ সিদ্দিকীর। সাত খেলায় ২০৩ রান খুলনা টাইটানসের এই ব্যাটসম্যানের। চিটাগং ভাইকিংসের মুশফিকুর রহিমের রান পাঁচ খেলায় ১৯১, খুলনার মাহমুদ উল্লাহর রান সাত খেলায় ১৫১, রংপুর রাইডার্সের মোহাম্মদ মিঠুনের রান সাত খেলায় ১৪৭, সাত খেলায় সাব্বিরের রান ১৪১ এবং ঢাকা ডায়নামাইটসের সাকিব আল হাসানের ছয় ম্যাচে রান ১৩৫।

রান সংখ্যার শীর্ষে বিদেশি হলেও সর্বোচ্চ ইনিংসে সবার ওপরে বাংলাদেশের সাব্বির। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৫১ বলে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। যে ইনিংসে পাঁচটি চার এবং ছয়টি ছক্কা। বিপিএলের প্রথম ছয় ইনিংসে ৭, ০, ১২, ৬, ২০ ও ১১ রান করা সাব্বির অবশেষে রাখলেন নিজের সামর্থ্যের ছাপ।

মুশফিকুর রহিম যেমনটা করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে। ১৮৫ রানের লক্ষ্যে নামা চিটাগং ভাইকিংসের জয়ের পক্ষে বাজি ধরার খুব বেশি লোক ছিল না। কিন্তু ৪১ বলে ৭৫ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে সেই অসম্ভব সম্ভব করেন মুশফিক। তিনি রান করেছেন ধারাবাহিকভাবে, তামিম ইকবাল তা নয়। ৩৫, ৪, ২১, ০ ও ০ রানে প্রথম পাঁচ ইনিংসে তাঁর সাকুল্যে রান ৬০। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তাই বড় একটি ইনিংস পাওনা হয়ে ছিল তাঁর কাছে। সেই পাওনা মেটান খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে; সিলেটে। ৪২ বলে ৭৩ রানের তামিমসুলভ ইনিংস খেলে। সিলেট সিক্সার্সের লিটন দাশও যেমন প্রথম চার ম্যাচে ১৬ রান করার পর ৪৩ বলে ৭০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন রংপুরের বিপক্ষে। সাকিব আল হাসানের বোলিংটা ঠিকঠাক হলেও ব্যাট কথা বলছিল না সেভাবে। সিলেটের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে অপরাজিত ৬১ রান করে ঢাকা ডায়মাইটসকে জিতিয়ে স্বরূপে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা তাঁর।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রহে প্রথম তিনজন বিদেশি; সর্বোচ্চ উইকেটশিকারে আবার প্রথম চারজনই বাংলাদেশি। সমান সাত ম্যাচে যথাক্রমে ১৪, ১৩ ও ১২ উইকেট তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম ও মাশরাফি বিন মর্তুজার। সাকিবের উইকেট ১০টি। বিশেষ করে তাসকিনের চলতি বিপিএল কাটছে দুর্দান্ত। দুটি ম্যাচে চারটি করে উইকেট শিকার তাঁর। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফিও কুমিল্লার বিপক্ষে নেন চার উইকেট। সেই ১১ রানে চার শিকার এই ফরম্যাটে তাঁর সেরা বোলিং। আর ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস আল ইসলাম তো অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে সাড়া ফেলে দেন। সেদিন তাঁর চার শিকারে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় পায় ঢাকা। আবার আরাফাত সানির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও বিপিএলে দেখিয়েছেন ভেল্কি। ঢাকার বিপক্ষে রাজশাহী যে ১৩৬ রান করেও জিতেছে, তাতে ওই বাঁ হাতি স্পিনারের চার ওভারে ৮ রানে ৩ উইকেটের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

৪৬ ম্যাচের বিপিএলের ২২ ম্যাচ হয়ে গেছে। অর্থাৎ অর্ধেক প্রায় শেষ। শেষার্ধে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যাট-বল আরো জ্বলে উঠলেই না তবে সার্থক হবে বিপিএল!

মন্তব্য