kalerkantho

সদর্পে রেসে ফিরল রংপুর

মাসুদ পারভেজ, সিলেট থেকে   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সদর্পে রেসে ফিরল রংপুর

ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

অধিনায়কের অসন্তুষ্টির কথা শুনেই বিপিএলের সিলেট পর্বের জন্য ঢাকা ছাড়তে হয়েছিল ফরহাদ রেজাকে। তবে সিলেট থেকে আবার ঢাকায় ফেরার সময় নিশ্চিতভাবেই আবার মাশরাফি বিন মর্তুজার হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

ঢাকা ছাড়ার আগে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে টানা চার বলে তাঁর ব্যাটেই লাগাতে না পারা রংপুর রাইডার্সের কপালে লিখেছিল হার। সে জন্য ম্যাচের পর অধিনায়ক মাশরাফিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘ওখানে খুব সাধারণ নির্দেশনা ছিল। ফরহাদ রেজা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। ওখানে কী করতে হবে, এতটুকু বোঝার কথা।’

ঢাকায় সেটি ছিল রংপুরের টানা দ্বিতীয় হার। এরপর সিলেটেও সিলেট সিক্সার্সের কাছে প্রথম ম্যাচে হার। টানা তিন হারে রীতিমতো দেয়ালে গিয়ে পিঠ ঠেকেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। শেষ চারের আশা জাগিয়ে তুলতে কাল আবার সেই স্বাগতিকদের বিপক্ষেই জয়ের বিকল্প ছিল না। এই ম্যাচেও জিততে জিততে যখন জয় নিয়ে অনিশ্চয়তা, তখন ফরহাদ পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটিংয়ে জয়ও বের করলেন।

তিনি জয়ে শেষ ছোঁয়া দেওয়ার আগেও রংপুর শিবির দেখল ইতিবাচক আরো অনেক কিছুই। এই ম্যাচের আগেই হেড কোচ টম মুডি যা বলেছিলেন, তার সারমর্ম ছিল এ রকম যে তখন পর্যন্ত রংপুর একজনের দলই ছিল। সেই একজন রাইলি রুশো কালও তাঁর দারুণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। তবে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জোর দিয়েছিলেন মুডি। সিলেটের বিপক্ষে সেই প্রচেষ্টাও অবশেষে দেখা গেল।

শুরুতে উইকেট হারানোর পর অ্যালেক্স হেলসও দলের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন। আর কালই প্রথম খেলতে নামা এবি ডি ভিলিয়ার্স তো রুশোর সঙ্গে পার্টনারশিপে দলকে জিতিয়েই ফিরবেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু তা না হওয়ার হতাশাও শোনা গেল তাঁর মুখে, ‘আমি সব সময় ম্যাচ শেষ করে আসতে পছন্দ করি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সেটি করতে পারলাম না।’ রুশো আর তিনি একই ওভারে ফিরে গেলেও রংপুর ঠিকই জিতল। জেতালেন ঢাকায় দলকে ডুবিয়ে আসা ফরহাদই।

এই জয় তাই সম্মিলিত পারফরম্যান্সেরই ফল। বিশেষ করে এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে ৩৮ বলে ৬৮ রানের জুটি গড়ার পথে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার কথা বলেছেন রুশোও, ‘এবি-কে একই দলে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। কারণ সে-ও দক্ষিণ আফ্রিকান। ও থাকায় আমি অন্তত একজনের সঙ্গে আফ্রিকানস ভাষায় কথা বলতে পারছি।’ গত আসরে খুলনা টাইটানসের হয়ে ৯ ম্যাচে ১৮৭ রান করা রুশো এবার দারুণ ছন্দে। ৭ ম্যাচে ৪টি ফিফটিসহ করে ফেলেছেন আসর সর্বোচ্চ ৩৪৯ রান। তাঁর নিকটতম সিলেট সিক্সার্সের নিকোলাস পুরানের রান ২৪৪।

টুর্নামেন্ট সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার পথে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রুশো অবশ্য তাঁর কালকের ৩৫ বলে ৬১ রানের ইনিংসের জন্য ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে বলেছেন সে কথাও, ‘আজকের ইনিংসের শুরুতে ভাগ্যদেবী আমার সঙ্গেই ছিলেন। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে আমি সাতবার আউট হতে পারতাম।’ শুরুর সেই ভাগ্যের সহায়তা কাজে লাগিয়ে তিনি ম্যাচও শেষ করে আসতে চেয়েছিলেন। তা না পারায় অবশ্য অসন্তোষও নেই কোনো রুশোর, ‘চেয়েছিলাম আমি আর এবি মিলে ম্যাচ শেষ করে আসব। কিন্তু সেটি হলো না। যদিও অন্যরা দারুণ ফিনিশ করে এসেছে।’

টানা তিন হারের পর ‘ফিনিশ’ করে আসতে পারা রংপুর শিবিরেও নিশ্চিতভাবেই স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে!

মন্তব্য