kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জলেই ভয় ফেলপসের!

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলেই ভয় ফেলপসের!

অলিম্পিকে সোনার পদক ২৩টি, সব মিলিয়ে পদক ২৮টি। মাইকেল ফেলপস যদি কোনো দেশ হতো, তাহলে অলিম্পিকের সর্বকালের মেডেল তালিকায় ওপরের দিকেই থাকতেন। কারণ অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ২০৬টি দেশের ৭১টিই এখনো কোনো পদক জিততে পারেনি! ব্রাজিলের মতো এত বিশাল দেশও অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার পরও সব মিলিয়ে জিতেছে ৩০টি সোনা আর ফেলপসের একারই ২৩টি! সর্বকালের সেরা সাঁতারু, ক্রীড়াবিদ, অলিম্পিয়ান; ফেলপস নিজেকে নিয়ে গেছেন অলিম্পাসের চূড়ায়। সাঁতারপুলের জলে ঢেউ তুলেই ফেলপস পৌঁছেছেন সাফল্যের অলিম্পাসে। অথচ ছেলেবেলায় নাকি জলে নামতে ভয়ই পেতেন জলমানব।

শৈশবে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার বা ‘এডিএইচডি’ ধরা পড়েছিল ফেলপসের। এই খবরটা হয়তো অনেকেরই জানা। অতিরিক্ত ছটফটে বা দুরন্ত শিশুদের, যাদের এক জায়গায় বসিয়ে রাখা কঠিন; তাদের বেলায় প্রযোজ্য এই খটমটে শব্দগুলো। ফেলপসের মা, দুরন্ত ছেলেকে শান্ত রাখতেই নামিয়ে দিয়েছিলেন সাঁতারপুলে। অথচ ছেলেবেলায় পানি থেকে দূরেই থাকতে চাইতেন ফেলপস। মুম্বাইতে একটি অনুষ্ঠানে এসে সেটাই জানিয়েছেন, ‘ছোটবেলায় আমি পানি ভয় পেতাম। তবে আমি বেশ দ্রুতই সেই ভয়কে জয় করেছি।’ নিজস্ব অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার শিশু-কিশোরকে সাঁতার শিখিয়েছেন ফেলপস। সেই সংস্থারই কাজে ভারতে এসেছেন, জানালেন অলিম্পিক নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। দুটি ইভেন্টের মাঝে একবার মাত্র ৭০ মিনিটের বিরতি পেয়েছিলেন ফেলপস, খুব মনে আছে বেইজিং অলিম্পিকের সেই সময়টার কথা, ‘আমাকে রীতিমতো দৌড়ে গিয়ে অন্য ইভেন্টের ফাইনালে ঢুকতে হয়েছিল।’ ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল অলিম্পিকে সাঁতরানোর, সেটা যে ১৮ বছরের ভেতরেই হয়ে যাবে, সেটা ভাবেননি কখনো, ‘যখন ছোট ছিলাম, তখন ভাবতাম একদিন অলিম্পিকে যাব, রেকর্ড গড়ব, সোনা জিতব। সেই সবই হয়ে গেল ১৮ বছর বয়সেই!’

জলে নামতে ভয় পাওয়া জলমানব শৈশবের ভয়কে জয় করে নেমেছেন সাঁতারপুলে। সেখানেও ভয় এসেছে ভিন্ন রূপ নিয়ে। তবে দমে যাননি ফেলপস, ‘একটি মাত্র কারণেই আমি অবসর ভেঙে রিও অলিম্পিকে ফিরে এসেছিলাম, কারণ আমি চেয়েছিলাম আমার নিজের ইচ্ছায় ইতি টানতে। আমি শিশুদের মতো যেকোনো কিছুই ত্যাগ করতে তৈরি ছিলাম, কারণ জানতাম আমি ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ ভয়কে জয় করে এভাবেই এগিয়েছেন ফেলপস, হয়েছেন মর্তের জলদেবতা। টাইমস অব ইন্ডিয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা