kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অস্ট্রেলিয়ায় আরেক ইতিহাস কোহলিদের

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ট্রেলিয়ায় আরেক ইতিহাস কোহলিদের

‘বিশ্বকাপটা ফেলে দিলে তুমি’—স্টিভ ওয়াহর সেই অমর বাণী। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হার্শেল গিবস তাঁর ক্যাচ ফেলার পর মাঠেই কথাটা বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ওয়াহ। চাইলে মহেন্দ্র সিং ধোনিও গতকাল একই কথা ফিরিয়ে দিতে পারতেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন ধোনি। সহজ ক্যাচটা হাত ফসকে যায় ম্যাক্সওয়েলের। সেই ধোনির হার না মানা ৮৭ রানের ইনিংসে ঐতিহাসিক ৭ উইকেটের জয় ভারতের। গতকাল মেলবোর্নে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ২৩০ রানের চ্যালেঞ্জ ভারত পেরিয়ে যায় ৪ বল হাতে রেখে।

নতুন ইতিহাস হয়েছে তাতে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জেতা ভারতীয় দল এবার জিতল প্রথম ওয়ানডে সিরিজও। তাই উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ‘আমরা টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করেছি। জিতেছি টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ। অস্ট্রেলিয়া আসার আগে কেউ এমন প্রতিশ্রুতি দিলে আগ্রহভরে গ্রহণ করে ফেলতাম।’

অস্ট্রেলিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজ বা ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বেশ কয়েকবারই খেলেছে ভারত। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মাত্র দ্বিতীয়বার। ২০১৬ সালে প্রথম সিরিজ ভারত হেরেছিল ১-৪ ব্যবধানে। এবার কোহলিরা নিলেন সেই প্রতিশোধ। এর নায়ক যুযবেন্দ্র চাহাল ও মহেন্দ্র সিং ধোনি। কুলদীপ যাদবের বদলে খেলতে নামা চাহাল করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ৪২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দেন ২৩০ রানে। এটা শুধু চাহালেরই নয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই যেকোনো বোলারের যৌথ সেরা বোলিংয়ের কীর্তি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পিটার হ্যান্ডসকম্ব ৫৮ ও শন মার্শ করেন ৩৯।

২৩০ রানের পুঁজি নিয়েই সমান তালে লড়ছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৭তম ওভারে ৫৯ রানে দুই ওপেনার হারায় ভারত। রোহিত শর্মা ৯ ও শিখর ধাওয়ান ফেরেন ২৩ করে। মার্কাস স্টোইনিস ধাওয়ানকে ফেরানোর পরের বলেই আউট হতে পারতেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেলেন সহজ সেই ক্যাচ। এরপর বিরাট কোহলিকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ে ধোনি কাটান চাপটা। ঝে রিচার্ডসনের বলে ৪৬ করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কোহলি। তবে ফিনিশার ধোনি ১১৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৮৭ করে মাঠ ছাড়েন ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়ে। তাতে কার্যকরী অবদান কেদার যাদবের হার না মানা ৫৭ বলে ৬১ রানের ইনিংসেরও।

সিরিজ শুরুর আগে ধোনির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল ভারতে। তবে টানা তিন ফিফটিতে সিরিজ সেরা হয়ে নিজের গুরুত্ব ভালোভাবে বোঝালেন ৩৭ বছর বয়সী সাবেক এই অধিনায়ক। কোহলিও প্রশংসায় ভাসালেন তাঁকে, ‘ধীরগতির এই উইকেটে ব্যাট করা কঠিন ছিল। ম্যাচটা তখন টেনে নিয়ে যেতে হতো যে কাউকে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ধোনি সেটাই করেছে।’ ক্রিকইনফো

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা