kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

‘টু ডাব্লিউ’তে বিস্তৃত তাসকিনের শেখার দুনিয়া

মাসুদ পারভেজ, সিলেট থেকে   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘টু ডাব্লিউ’তে বিস্তৃত তাসকিনের শেখার দুনিয়া

কোচ হিসেবে একজন খুবই নরম প্রকৃতির। আরেকজন একটু কড়া। মেজাজ-মর্জির মতো বোলিং বৈশিষ্ট্যেও সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই ফাস্ট বোলার ছিলেন একেবারেই আলাদা। বল হাতে একজনের ছুটে চলা ছিল শিল্পিত সুন্দরের ছবি। আরেকজনের আগ্রাসী মনোভাব বুকে কাঁপন ধরিয়ে ছাড়ত ব্যাটসম্যানের। প্রচণ্ড গতির সঙ্গে যোগ হওয়া বিষাক্ত সুইংও ব্যাটসম্যানদের কাছে আতঙ্কের প্রতিশব্দে পরিণত করেছিল ওয়াকার ইউনিসকে। তুলনায় অতটা গতিশীল না হয়েও বল হাতে অসংখ্য ছোট ছোট কারুকাজ এমনই কার্যকর ছিল যে ফাস্ট বোলিংয়ের চিরকালীন ইতিহাস সোনার অক্ষরে লিখে নিয়েছে কোর্টনি ওয়ালশের নামও। তাসকিন আহমেদের মতো তরুণ ফাস্ট বোলারের সৌভাগ্য হলো, আলাদা বৈশিষ্ট্যের দুই ফাস্ট বোলারেরই মারণাস্ত্রগুলো রপ্ত করে নেওয়ার অবারিত সুযোগ তাঁর সামনে।

জাতীয় দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ মিলিয়ে যে পাচ্ছেন দুজনেরই নিবিড় সাহচর্য। বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ ওয়ালশের সান্নিধ্য পাওয়া তাসকিন বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে পাচ্ছেন হেড কোচ ওয়াকারের সঙ্গও। দুয়েমিলে তাসকিনের শেখার দুনিয়াটাই যেন আরো বিস্তৃত করে দিয়েছেন এই ‘টু ডাব্লিউ’। এই বিশেষণে মূলত বিশেষায়িত ছিল ওয়াসিম আকরাম-ওয়াকার ইউনিসের দুর্ধর্ষ পেস জুটিই। বোলিংয়ে দুই গুরুর শিক্ষা যোগ করতে পারলে দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ আছে তাসকিনেরও। যদিও তা হয়ে উঠতে পারা পুরোপুরিই নিজের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন বিপিএলের চলতি আসর দিয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় থাকা ফাস্ট বোলার, ‘আসলে মূল ব্যাপারটি নির্ভর করছে আমি মাঠে নেমে সেগুলো কতটা কাজে লাগাচ্ছি। যতই শেখাক না কেন, মাঠে প্রয়োগ কিন্তু আমাকেই করতে হবে। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে শেয়ার করছেন। এখন আমি কতটুকু নিজে থেকে প্রয়োগ করতে পারছি, তার ওপরই সাফল্য নির্ভর করছে।’

সিক্সার্সের হয়ে ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া তাসকিন তা পারবেন কি না, সময়ই বলবে। এর আগে আপাতত দুজনের কাছ থেকেই তাঁর শিক্ষার পর্বটি আরো উপভোগ্য হয়ে উঠেছে এ জন্য, ‘কারণ দুজনেই আমাকে খুব পছন্দ করেন।’ তাই শেখানোয় কার্পণ্যও নেই কারো, ‘দুজনের কাছ থেকে দুই রকম জিনিস পাচ্ছি। ওয়াকার নতুন বলে সুইং করাতে পারতেন, আর ওয়ালশের বল কাট করত বেশি। একেক জনের ধরন একেক রকম। ওয়ালশের কাছ থেকে কিছু কিছু গ্রিপ শিখেছি, যেগুলোতে বল বাড়তি বাউন্স ও কাট করে। ওয়াকারের কাছ থেকে রিভার্স সুইং শেখার চেষ্টা করছি, এখনো পুরোপুরি আয়ত্তে আসেনি। শেখার চেষ্টা করছি তাঁর আউটসুইংও।’

দুই ধরনের দুই গ্রেট বোলারের শেখানোর প্রক্রিয়ায়ও ভিন্নতা দেখেছেন তাসকিন, ‘পার্থক্য হচ্ছে ওয়ালশ সব সময় বেসিকটা ঠিক রাখতে বলেন। শান্ত থাকতে বলেন। নিজের শক্তির মধ্যে থাকতে বলেন। মূল ব্যাপার হলো ওয়ালশ আমার বেসিক জিনিসগুলোতে বেশি জোর দিয়েছেন এবং দেন। আর ওয়াকার বলেন আরো বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে। আরো বেশি খোলা মনে খেলতে।’ দুজনের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজেকে সব ফরম্যাটের জন্যই ভীষণ কার্যকরী করে তোলা সম্ভব বলে মনে হয়েছে তরুণ ফাস্ট বোলারের, ‘আমার কাছে মনে হয় দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য ওয়ালশের টিপসগুলো বেশি কার্যকর। ওয়াকারের সঙ্গে এই প্রথম কাজ করছি, তাও আবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। তাঁর টিপসগুলো সীমিত ওভারের ক্রিকেট ও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের জন্যই বেশি কার্যকর মনে হচ্ছে।’

নিজেকে কার্যকর করে তুলতে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে তাসকিন এখন পর্যন্ত যা যা শিখতে পেরেছেন, ‘যেসব উইকেটে পেস বোলারদের জন্য একটু সহায়তা আছে, সেসব উইকেটের জন্য কিছু গ্রিপ আছে। যেগুলোতে বল অব দ্য পিচ কাট করে। এই জিনিসটা আমি ওয়ালশের কাছ থেকে শিখেছি। আর ওয়াকারের কাছে শিখে ইয়র্কারে রিভার্স সুইং অনেকটাই ভালো হয়েছে। আরো ভালো হবে বলে আশা করছি।’ দুই গ্রেটের কাছ থেকে শিখতে গিয়ে তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও আর অজানা নেই তাসকিনের, ‘ওয়ালশ একটু নরম প্রকৃতির। রাগের দিক থেকে মনে হয় ওয়ালশের চেয়ে ওয়াকারের রাগ একটু বেশি। একজন একটু নরম, আরেকজন কড়া।’

ঠিক তাঁদের বোলিংয়ের আলাদা বৈশিষ্ট্যের মতোই। তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন মারণাস্ত্রে নিজের বোলিং সজ্জা বাড়িয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ লুফে নেবেন বলে লেগে আছেন তাসকিনও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা