kalerkantho

আশার আলো জ্বালিয়ে শুরু হচ্ছে লিগ

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আশার আলো জ্বালিয়ে শুরু হচ্ছে লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লিগের সময়-অসময় নিয়ে অনেক কথা থাকলেও খেলার মান নিয়েও সবার ভীষণ উচ্চাশা। লিগে জাতীয় দলের ফুটবলারদের সুযোগ-সম্ভাবনা ব্যাপক ঝুঁকিতে থাকলেও শিরোপার লড়াই হবে তুমুল। আগের মতো দর্শকশূন্যতায় ঢাকার মাঠ হাহাকার করলেও বাইরের পাঁচ ভেন্যুতে ঘুচে যাবে সেই দর্শকাভাব। এমন ইতিবাচক ইমেজ নিয়ে এক বছর চার দিন বাদে আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ।

সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ শেষ হয়েছিল গত ১৩ জানুয়ারি। এর এক বছর পর আরেকটি লিগের শুভ মহরত হবে আজ বিকেল ৩টায় চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ও নোফেল স্পোর্টিয়ের ম্যাচ দিয়ে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি। এক বছর পর শুরু লিগটি কতটা শুভ হবে, তা ভবিষ্যতের জন্যই তোলা থাক। বাফুফের পরিকল্পনাহীন পথচলায় এই লিগটিও ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ছে নিশ্চিতভাবে, খেলার ধারায় অনাকাঙ্ক্ষিত ছেদ পড়বেই। সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও আবাহনীর এএফসি কাপজনিত বিরতি লিগের সুরভি হারাবে অবধারিত। কিন্তু ওই যে ইতিবাচক কিছু ব্যাপার আছে, ছয় বড় দলের শিরোপা লড়াইয়ে সুন্দর ফুটবলের বিচ্ছুরণ ঘটবে এবং ফুটবলানুরাগীরা মোহিত হবে। এই প্রিমিয়ার লিগ ১৩ দলের হলেও শিরোপার আসল লড়াইয়ে থাকবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী, রানার্স-আপ শেখ জামাল ধানমণ্ডি, ২০১২ সালের ট্রেবলজয়ী শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র, এবারের স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, চট্টগ্রাম আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। পেশাদার লিগের একাদশ আসরে এই ছয়টি দল আলাদা। তাদের ভেতর-বাহির সাজ, চেষ্টা এবং স্বপ্ন মিলিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে তারা একে অপরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। সুবাদে তাদের ম্যাচগুলোই থাকবে আকর্ষণের কেন্দ্রে।

তারকাখচিত দল বিবেচনায় প্রিমিয়ারে নবাগত বসুন্ধরা কিংসই ছাপিয়ে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের এবং স্বাধীনতা কাপ জিতে দেখিয়েছে নিজেদের সামর্থ্য। অভিষেক মৌসুমে তুমুল শোরগোল ফেলে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল কলিনড্রেসকে নিয়ে এসে। কোস্টারিকান বিশ্বকাপার শুধু নামে নয়, মৌসুমের প্রথম দুই টুর্নামেন্টে মাঠে খেলে দেখিয়েছেন তিনিই কিংসের কিং। ফেডারেশন কাপে একটি হ্যাট্রিকসহ ৫ গোল করে তিনি নিজেকে তুলে নিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। তিনি ঠিক গোলের মানুষ নন, বাঁ দিকে খেলা তৈরি করে সতীর্থকে গোল বানিয়ে দেওয়াই মূল কাজ। গোলের কারিগরি সহায়তাটা তিনি চমৎকার করেন। লিগেও করবেন। তবে বল জালে পৌঁছানোর কাজটা ভিনিসিয়াস কত ভালো করতে পারছেন তার ওপর নির্ভর করছে নবাগতদের সাফল্য। তবে রক্ষণ ভাবনায় ঝুঁকিও আছে কিংসের। দলটির স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন মনে করেন, ‘রক্ষণের সেই দুর্বলতা ছিল সাময়িক। স্বাধীনতা কাপ জেতার পর নতুন দলটি এখন অনেক পরিণত। প্রিমিয়ার লিগে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এই দলটি আরো চমৎকার ফুটবল খেলবে।’

সেই ফুটবলেই কিনা মৌসুমের শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের ঘটনাবহুল ফাইনালই তার বড় প্রমাণ। এরপর স্বাধীনতা কাপেও হয়েছে দুই দলের তুমুল লড়াই। দুই ম্যাচের মুখোমুখিতে দুই দল জিতেছে একবার করে। ছয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীও শক্তিতে খুব পিছিয়ে নেই। তাদের সুবিধার জায়গা হলো, প্রতিটি বিভাগেই শক্তির ভারসাম্য। আক্রমণভাগে বিশেষভাবে চোখে পড়ছে সানডে চিজোবা আর বেলফোর্টের সমন্বয়। দারুণ ফর্মে আছেন সানডে, সর্বোচ্চ ৬ গোল করে এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আবাহনীকে উপহার দিয়েছেন ফেডারেশন কাপ শিরোপা। এরপর স্বাধীনতা কাপে বসুন্ধরা কিংসের সামনে পড়ে ছিটকে গেলেও লম্বা লিগ খেলার অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত ফোকাসটা ধরে রাখতে জানাটা তাদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলে।

২০১২ সালের ট্রেবলজয়ী শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের যেন পুনর্জন্ম হয়েছে এবার। আগের মৌসুমগুলোতে শুরুতে গোল খেয়ে চাপে পড়ার রোগ সারিয়ে সাইফুল বারী এই দলের একটি নতুন চরিত্র দাঁড় করিয়েছেন। সেটা হলো, গোল করতে না পারলেও এখনকার রাসেল গোল খাবে না সহজে। এ কৌশলে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালেও খেলেছে দলটি। দুর্দান্ত খেলেছেন উজবেক মিডফিল্ডার আজিজভ আলিশের, নিজে ৩ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের বানিয়ে দিয়েছেন অসংখ্য সুযোগ। দুই ফরোয়ার্ড নাইজেরিয়ান রাফায়েল ওডোইন আর ব্রাজিলিয়ান অ্যালেক্স রাফায়েল গোলে ফিরলে শেখ রাসেলের লিগ শিরোপার সম্ভাবনাও উজ্জ্বলতর হতে পারে।

তিনবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের শক্তি তারুণ্য। সলোমন কিং আর সাইনি বোজাং দুই প্রান্ত ধরে দ্রুতগতিতে হানা দেয় প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে। এই দুই গাম্বিয়ানের ম্যাজিকেই উত্তরণ ঘটবে শেখ জামালের। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব গত মৌসুমে অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এসেও পারেনি মাঠে তার প্রতিফলন ঘটাতে। বারবারই যেন ‘মিস-ম্যাচ’ হচ্ছে তাদের বিদেশি সংযোজন। এবার তারুণ্যে ভরা দলটির শিরোপা লড়াই নির্ভর করছে বিদেশিদের পারফরম্যান্সের ওপর। গতবারের অন্যতম সেরা চট্টগ্রাম আবাহনীর শক্তি এবার ক্ষয়ে গেলেও জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর অধীনে দলটি জমিয়ে দেবে শিরোপা লড়াই।

এ ছাড়া আছে আরো আটটি দল, যারা বড় দলের স্বপ্নভঙ্গ করে দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। কোনো ম্যাচে হয়তো কোনো এক দেশি তরুণের পারফরম্যান্সের কাছে মাথা নোয়াবে। আবার ঢাকার বাইরের পাঁচটি ভেন্যুতেও হতে পারে পারফরম্যান্সের হেরফের। সুতরাং এই লিগ বড় দলগুলোর পরীক্ষা নেবে বিভিন্নভাবে।

মন্তব্য