kalerkantho

‘বাংলাদেশি আফ্রিদি’ চমকের অপেক্ষা

মাসুদ পারভেজ, সিলেট থেকে   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বাংলাদেশি আফ্রিদি’ চমকের অপেক্ষা

ক্ষণিকের জন্য দৃশ্যপটে হাজিরা দিয়েই আবার মিলিয়ে যাওয়া কিশোর লেগস্পিনার বিপিএলের মাঝপথে এসে আবার আলোচনায়। কাল হেড কোচ টম মুডি আর স্পিন বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিক তাঁর প্রশংসায় এমন পঞ্চমুখ হলেন যে মনে হলো রংপুর রাইডার্সও এই কিশোরকে খেলিয়ে চমক উপহার দেওয়ার অপেক্ষায়। তা-ই যদি হয়, তাহলে সেই চমকের নাম মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি।

চট্টগ্রামের স্থানীয় এক একাডেমির এই শিক্ষার্থীকে প্রথম সুযোগটি দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। বাংলাদেশ দলের নেটে বোলিং করতে এসে সাবেক অধিনায়কের মুগ্ধতা এমন কেড়েছিলেন যে আফ্রিদিকে গত অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং করতে নামিয়ে দেন। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ দিনে মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে ১১ রানে ১ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্সে কিশোর আফ্রিদি রেখেছিলেন প্রতিশ্রুতির ছাপও। নিজের দ্বিতীয় ওভারে গুগলিতে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেছিলেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান পিটার মুরকে।

আফ্রিদি লম্বা দৌড়ের ঘোড়া কি না, সেটি মাত্র ৩ ওভারেই বোঝা কঠিন ছিল। তবে রংপুরের নেটে যেমন বোলিং করেছেন, তাতে রংপুরের টিম ম্যানেজমেন্ট অন্তত আশ্বস্ত যে তাঁকে নামিয়ে দেওয়ার চমক কাজে লেগেও যেতে পারে। হুট করেই এই কিশোরের বড় মঞ্চে পা রাখার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাওয়ার কারণ ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস আল ইসলাম। নেট বোলার হিসেবে এসে ঢাকায় রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নেমে যাওয়া এই অফস্পিনার সহজ ক্যাচ ফেলে সমালোচিত হয়েছেন যেমন, তেমনি ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়ের নায়কও বনে গিয়েছিলেন। একই ম্যাচে মাঠের আম্পায়ারদের চোখে তাঁর অ্যাকশনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তবু নিয়মানুযায়ী খেলে যেতে পারছেন তিনি। ১৪ দিনের মধ্যে বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির সামনে দাঁড়ানোর আগে খেলতে বাধা নেই আলিসের। যাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্নের অন্ত ছিল না। বিপিএলে ড্রাফটের বাইরে থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার নিয়ম ছিল না। কিন্তু ঢাকা ডায়নামাইটসের জন্য নিয়ম বদলায়। সেটিকে বৈধতা দিতে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল অন্য সব ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যও ড্রাফটের বাইরে থেকে একজন করে খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত করে দেয়। নিয়ম করে দিয়েছে যখন, তখন লেগস্পিনার আফ্রিদিকে নিতেও বিধিনিষেধ ছিল না রংপুর রাইডার্সের। দলের অন্দরমহলে যে এই কিশোরকে মাঠে নামানোর ছক কাটা চলছে, মুডি আর রফিকের বক্তব্যে তা নিয়েও সংশয় নেই কোনো।

‘এটা তো টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার’—বলে দলটির হেড অব অপারেশন্স তাসভিরুল ইসলাম কাল এমন এক রহস্যের হাসি দিলেন যে তা থেকেও আফ্রিদির বিপিএল অভিষেকের লগ্ন ঘনিয়ে আসছে বলে দিব্যি অনুমান করা যায়। যেটি আরো স্পষ্ট টম মুডির প্রশংসায়, ‘আফ্রিদির বিষয়ে বলতে গেলে প্রথম কথা হলো, আমাদের দেখতে হবে সামনে কী অবস্থা দাঁড়ায় টুর্নামেন্টে। তা ছাড়া আমাদের দারুণ দুজন স্পিনারও আছে—(সোহাগ) গাজী এবং (নাজমুল ইসলাম) অপু। তবে আমাদের যদি একজন লেগস্পিনার দরকার হয়, তাহলে এটা বলতে পারি যে সুযোগ পেলে আফ্রিদি খেলার জন্য তৈরি আছে। অনুশীলনে সে অবশ্যই আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করেছে।’

মুগ্ধতা রংপুরের স্পিন বোলিং কোচ রফিকের কথায়ও, ‘হতে পারে ছেলেটি নতুন এসেছে। তবে এটি কিন্তু একটা চমক হবে যদি সে খেলতে পারে। ছেলেটি কথা শোনে এবং কাজ করে। এই ছেলেটির যদি এখানে অভিষেক হয়, তাহলে পরের বছরের মধ্যেই সে কিন্তু আতঙ্কে পরিণত হবে।’ অবশ্য বাংলাদেশ দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনারের এমন প্রশংসাপত্রকে কারো কারো কাছে বাড়াবাড়িও মনে হতে পারে, ‘আমি ওকে রশিদ খানের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। রশিদ যে ধরনের স্পিনার, সে-ও একই ধরনের। আমি এত বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখছি। সত্যি কথা বলতে আমি এমন লেগস্পিনার আগে দেখিনি।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কিশোর লেগস্পিনারের ৩ ওভার সর্বজনীন ছিল না, কারণ সেটি ছিল প্রস্তুতি ম্যাচ। সম্প্রচারিত হয়নি কোথাও। সর্বজনীন হবে, যদি বিপিএলে রংপুর রাইডার্স সত্যিই ‘আফ্রিদি’ চমক উপহার দেয়!

মন্তব্য