kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেডারেশনগুলোর অনুযোগ শুনলেন প্রতিমন্ত্রী

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেডারেশনগুলোর অনুযোগ শুনলেন প্রতিমন্ত্রী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আনুষ্ঠানিক নাম মতবিনিময় সভা। ফেডারেশনগুলোর কথা শুনবেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি শুনেছেন দুই ঘণ্টা ধরে এবং সবই অভাব-অভিযোগের কথা। শেষ পর্যন্ত এটি হয়ে গেল ক্রীড়াঙ্গনের অভাব-অভিযোগনামার সভা।

এমনই হওয়ার কথা। কারণ তৃতীয় বিশ্বের ক্ষুধাপীড়িত এক ক্রীড়াঙ্গনের মন্ত্রী হয়েছেন জাহিদ আহসান রাসেল। এখানে ভালো খেলার ক্ষুধা থাকলেও সংগতি নেই। প্রতিভা থাকলেও সঠিক লালন নেই। সংগতি যাঁর আছে, তাঁর মুখে অভিযোগ নেই। তাই ধনী ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহীরও কিছু চাওয়ার ছিল না। ফুটবল ফেডারেশন সম্পাদকেরও বোধ হয় তাই, উপস্থিতি দিয়েই তিনি ত্যাগ করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সভাকক্ষ। এ দুটির বাইরে জাতীয় বধির ক্রীড়া সংস্থারই কোনো অভাব-অভিযোগ নেই। সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন খান তাঁর বধির সম্পাদক হাসানের ‘সাইন-ল্যাঙ্গুয়েজ’কে প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন এভাবে, ‘আমরা প্রতিটি খেলা আয়োজন করি এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাই ক্রীড়া পরিষদ থেকে। আমাদের কোনো অভাব-অভিযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনেক আদর করেন, তাঁর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

এ ছাড়া বাকি সবাই, অর্থাৎ ৪০ জনের বক্তৃতায় ছিল অভাবের কথা। ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যার কথা। তবে ভলিবলের সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন এক কঠিন বাস্তবতার কথা, ‘এখনকার যুবসমাজ ইন্টারনেটে ঢুকে গেছে, ফেসবুক-টুইটারে তারা দিন পার করে দেয়। ছেলে-মেয়েদের এই প্রবণতাকে বদলাতে পারব আমরাই, যারা আজ এখানে বসে আছি। এ জন্য ক্রীড়াঙ্গনকে ইতিবাচক করতে হবে। খেলাধুলা এবং অনুশীলনের ওপর জোর দিতে হবে। তবে ৯০ দিন অনুশীলন করে পদক আনতে বলবেন না।’ তাঁর বক্তব্যে যেমন ক্রীড়াবিমুখ যুবসমাজের কথা, তেমনি আছে ক্রীড়াবিদদের অনুশীলনের সীমাবদ্ধতার কথা। এখানে সারা বছর ট্রেনিংয়ের সুযোগ নেই। সাধারণত কোনো গেমস এলে মন্ত্রীর টনক নড়ে। সরকারি টাকা ছাড় হয়, খেলোয়াড়দের অনুশীলনের তোড়জোড় শুরু হয়। দাবি ওঠে পদকেরও।

অথচ ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন মিলিয়ে সর্বমোট ৫৩টি ক্রীড়া সংস্থা। তাই সব ফেডারেশনকে বরাদ্দ দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে সরকার। তবে সরকারি মন্ত্রীদের সদিচ্ছাও একটা ব্যাপার বটে। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ফজল বুলবুল প্রশ্ন তোলেন, ‘৯০০ কোটি টাকার মধ্যে ৮০০ কোটি টাকা যদি স্থাপনায় চলে যায় তাহলে আর ক্রীড়াঙ্গনে কী থাকে?’ তিনি দাবি তোলেন ক্রীড়া বাজেট বাড়ানোর, ‘পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাজেট দরকার ক্রীড়াঙ্গনে। পাঁচ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের তুলনায় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এটা বড় কিছু নয়।’ এর পরোক্ষ সমর্থন মিলেছে আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদের কথায়ও, ‘আমরা যে অর্থ পাই সেটা দিয়ে ক্রীড়াঙ্গন চলে, এমন নজির হয়তো সারা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ দিয়ে যে দু-একটা পদক আসে তার জন্য ক্রীড়া সংগঠকদের আগে পদক দেওয়া উচিত।’

সব শুনে নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও ক্রীড়াঙ্গনে বড় বাজেটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন, ‘আশা করি, অর্থ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব ফেডারেশনগুলোকে একটা মানসম্মত বরাদ্দ দিতে। আমাদের সৌভাগ্য, দেশের প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্রীড়ামোদী। তিনি দিতে প্রস্তুত থাকেন, তাঁর কাছ থেকে আনতে না পারলে সেটা হবে আমাদের ব্যর্থতা। তা ছাড়া অর্থমন্ত্রীও ক্রীড়াঙ্গনের লোক। সুতরাং একটা ব্যবস্থা হবেই।’ তবে ক্রীড়া উন্নতির জন্য সংগঠকদের ক্রীড়ানুরাগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জাহিদ আহসান, ‘ক্রীড়াঙ্গনটা হলো ভালোবাসার জায়গা। ক্রীড়ায় যাদের ভালোবাসা নেই তাদের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত না থাকাই উচিত। আমি আপনাদের কাছে লিখিত আকারে কিছু পরিকল্পনা চাই। স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কোন খেলাটা কত ওপরে যেতে চাইছে, সেটাও তো আমার বোঝা দরকার।’

খেলাকে এগিয়ে নিতে ফেডারেশনের নেতৃত্বও একটা বড় ব্যাপার। সেখানে দুরদর্শিতা না থাকলে অর্থের অবিরাম প্রবাহ দিয়েও লাভ হবে না। সব কিছুর সুব্যবস্থা করেও এগিয়ে নেওয়া যাবে না খেলাটিকে। এ রকম ক্রীড়াবিমুখ লোকও কিন্তু আছে কিছু ফেডারেশনে, তারা আসলে ক্রীড়ায় ভর করেছে অন্য উদ্দেশ্যে। এমন স্বার্থান্বেষী সংগঠকদেরও প্রতিমন্ত্রী চেনেন-জানেন, তাই তিনি সংগঠকদের পারফরম্যান্স যাচাই করতে চান আগে, ‘আমার কাজ দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আছেন। আর আপনাদের কাজ দেখার জন্য আমি আছি। সুতরাং আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন, কাজের ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কে কোথায় থাকবে, না থাকবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা