kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রানে ফিরতে মরিয়া তামিম

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রানে ফিরতে মরিয়া তামিম

সিলেট থেকে প্রতিনিধি : ঐচ্ছিক অনুশীলনও সাধারণত মিস করেন না মুশফিকুর রহিম। আর পারতপক্ষে যিনি ওই পথ মাড়ান না, সেই তামিম ইকবাল কিনা কাল হাজির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ঐচ্ছিক অনুশীলনে। নিশ্চিত যে চলতি বিপিএলে রানে ফেরার তাগিদ থেকেই হোটেলের আরামদায়ক আলস্য ছেড়ে রোদে পুড়ে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে এসেছিলেন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে।

ঝালিয়ে নিতে এসে নেটে ব্যাটিংও করলেন লম্বা সময়, প্রায় এক ঘণ্টার মতো। তাও আবার লং অফ আর লং অনে ফিল্ডার দাঁড় করিয়ে মারা একেকটি শটে বুঝে নিতে চাইলেন যে তিনি ঠিকমতো বল পার করতে পারছেন কি না। কখনো কখনো ওভারপ্রতি রানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেও ব্যাটিং করলেন এই ওপেনার। তাতে ফুটে উঠল নিজেকে ফিরে পাওয়ার প্রতিজ্ঞাও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত বছর দারুণ সময় পার করে এসে এই বিপিএলেই হারিয়ে ফেলেছেন ছন্দটা। সেই ছন্দে ফিরতেই ঐচ্ছিক অনুশীলনেও ভীষণ সিরিয়াস তিনি।

সিরিয়াস না হয়েও উপায় নেই কোনো। বিপিএলের গত আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ (১০ ম্যাচে ৩৬.৮৮ গড়ে ৩৩২) রান করা তামিম এবার পাঁচ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন অথচ ব্যাটে বড় ইনিংসের দেখা নেই। এই আসরে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩৪ বলে খেলা ৩৫ রানের ইনিংসটিই এবার এখন পর্যন্ত তাঁর সর্বোচ্চ। রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে ৪ ও ২১ রানের ইনিংস খেলা এই বাঁহাতি ওপেনারের দুঃসময় আরো প্রলম্বিতও। চিটাগং ভাইকিংস ও সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে কুমিল্লার পরের দুই ম্যাচে যে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

সময় যখন এমন যায়, তখন কারোরই ভালো লাগার কথা নয়। তামিমের এমন প্রতিক্রিয়াই তাই স্বাভাবিক, ‘আমার ব্যাটিং একদমই ভালো হচ্ছে না। তাই আমি খুব ভালো অনুভবও করছি না।’ অবশ্য এই রানে না থাকা তামিমকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাতর করে তুলেছে বলেও মনে হয়নি তাঁর সতীর্থ লিয়াম ডসনের। এই ইংলিশ অলরাউন্ডার কাল অনুশীলনের ফাঁকে এসে বলে গেলেন, ‘তামিম এটি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় বলেই মনে হয়েছে আমার। ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়। ওর রেকর্ডই ওর হয়ে কথা বলে। খেলোয়াড়দের এ রকম সময় যেতেই পারে। কারণ ফর্ম ক্ষণস্থায়ী। আমি নিশ্চিত যে সে ভালোমতোই ফিরে আসবে।’

দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দুঃসময় পেছনে ফেলার মন্ত্রও অজানা নয় তামিমের। তাই রানে নেই বলে খারাপ লাগলেও চিন্তিত নন তাঁর ছন্দে ফেরা নিয়ে। সতীর্থ ডসনের সুরই যেন তাঁর কথায়, ‘রান না করলে আমি খুব বেশি চিন্তিত হই না। আপনাকে এটি মেনে নিতেই হবে যে সব সময় সব কিছু আপনার পক্ষে যাবে না। আপনি সব সময় রান করতেই থাকবেন, যেটি আমি করে এসেছি গত কয়েক বছর ধরে, তা সব সময় হবে না। এমনও সময় আসবে যখন আমি রানও পাব না। আমি জানি কিভাবে এই অবস্থা থেকে ফিরতে হয়। তাই সামনের ম্যাচে রান না পেলেও আমি আতঙ্কিত হব না। চেষ্টা করব, কঠোর পরিশ্রম করে যাব। আমি নিশ্চিত একটি ভালো ইনিংসেই সব কিছু বদলে যাবে।’

সেই আশায় বদলেছেন আরো কিছু ব্যাপারও। ঐচ্ছিক অনুশীলনে তামিমের হাজিরা দেওয়াও যার একটি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা