kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাসবি-ফার্গুসনকে ছাপিয়ে শোলসকায়ের

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাসবি-ফার্গুসনকে ছাপিয়ে শোলসকায়ের

ম্যাট বাসবি পারেননি। অ্যালেক্স ফার্গুসনও না। তাহলে আর কে পারবেন! শতবর্ষী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের ইতিহাসে কোনো কোচই পারেননি তাঁর প্রথম ছয় ম্যাচ জিততে। পরশু টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে জয়ে যা করলেন ওলে গানার শোলসকায়ের।

এই অন্তর্বর্তীকালীন কোচের কীর্তির বিশালত্ব বুঝতে পারছেন!

১৯৪৬ সালে বাসবির অধীনে প্রথম পাঁচ ম্যাচ জেতে ম্যানইউ। ৭৩ বছরের সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলেন শোলসকায়ের। হোসে মরিনহোকে বরখাস্ত করে এই নরওয়েজিয়ানকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়ার সময় কেউ এতটা ভাবতে পারেননি। মার্কাস রাশফোর্ডের গোলে টটেনহামকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে তো এ মৌসুমের লিগে শীর্ষ ছয় ক্লাবের কারো বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জয় পেল ‘রেড ডেভিল’রা। ক্লাব কিংবদন্তিকে স্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবিও তাই পাচ্ছে জোরালো ভিত্তি। তবে তা নিয়ে মোটেও ভাবছেন না বলে জানান শোলসকায়ের, ‘প্রতিদিন আমি নিজের কাজটুকুন শুধু করে যাচ্ছি। জুন পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদকালে তা-ই করব। এরপর যাব ছুটিতে। এই মুহূর্তে ম্যানইউর স্থায়ী কোচ হওয়া নিয়ে মোটেই ভাবছি না।’

টটেনহামের বিপক্ষে জয়ে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্নে আরেকটু রং লাগল ম্যানইউর। শোলসকায়ের দায়িত্ব নেওয়ার সময় আর্সেনালের চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল তারা। এখন সমান ৪১ পয়েন্ট দুই ক্লাবের। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ স্থান চারে থাকা চেলসির চেয়ে পিছিয়ে ৬ পয়েন্টে। ম্যানইউ কোচ তো টার্গেট করছেন টটেনহামকেই টপকে যাওয়ার, ‘টটেনহামকে ধরতে হলে আজ ওদের হারাতেই হতো। আমরা ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলাম, জয়ের পর এখন ব্যবধান ৭ পয়েন্ট। যদি হেরে গিয়ে ১৩ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়তাম, তাহলে ওদের ধরা অসম্ভব হতো। ড্র করলে ব্যবধান থাকত ১০ পয়েন্ট, সেটিও কঠিন। এখন ব্যবধান ৭ পয়েন্ট হওয়ায় টটেনহামকে টপকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

ম্যাচের দুই অর্ধ একেবারে দুই রকম। প্রথম ৪৫ মিনিটে ম্যানইউর আধিপত্য, পরের ৪৫-এ টটেনহামের। তা স্বীকারে অকপট শোলসকায়ের, ‘প্রথমার্ধে আমরা ছিলাম দুর্দান্ত। দ্বিতীয়ার্ধে ওরা খুব চাপ দেয়। তবে আমাদের দারুণ চার ডিফেন্ডার রয়েছে আর দাভিদ তো ছিল অবিশ্বাস্য। এর মধ্যেও আমরা কিন্তু আরো কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলাম। বিরতির আগেই খেলা শেষ করে দেওয়ার মতো সুযোগ আসে। তা কাজে না লাগানোয় দ্বিতীয়ার্ধে চাপে পড়ে যাই। শেষ পর্যন্ত ছেলেরা দারুণ রক্ষণ করেছে।’ গোলরক্ষক দাভিদ দে গেয়া দ্বিতীয়ার্ধে একাই করেন ১১ সেভ। ক্লাবের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক হওয়ার রেসে এই স্প্যানিয়ার্ডকে দেখছেন শোলসকায়ের, ‘এই ক্লাবে অসাধারণ সব গোলরক্ষক খেলেছেন। ম্যানইউর সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পিটার স্মেইকেল ও এডউইন ফন দের সারকে এখন দাভিদ চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।’ নিজের গোল নিয়ে আনন্দের পাশাপাশি রাশফোর্ডের কণ্ঠেও সতীর্থের বন্দনা, ‘দুবাইয়ের অনুশীলনে এটি নিয়ে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। তারই ফল পেয়েছি গোলটিতে। কোচিং স্টাফ এবং ফুটবলারদের জন্য এটি খুব তৃপ্তির। তবে আজকের ম্যাচের মূল আলোচনা গোল নিয়ে নয়। গোলকিপিং নিয়ে। কী অসাধারণই না খেলেছে দে গেয়া!’ 

দে গেয়া অবশ্য সব কৃতিত্ব নিজে নিচ্ছেন না, ভাগ করে দিচ্ছেন সবার মাঝে, ‘প্রথম দুটি সেভের পর খুব ভালো অনুভব করছিলাম। পরের সব সেভ আর মনে নেই। তবে আমি মনে করি, দলের জয়ের জন্য সবগুলো সেভই গুরুত্বপূর্ণ। দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার দারুণ খেলেছে। শুধু ওরা নয়, স্ট্রাইকার থেকে গোলরক্ষক পর্যন্ত সবাই রক্ষণকাজে অংশ নিয়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে। সেরা চারে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ নতুন কোচের ইতিবাচক প্রভাবের কথাও বলেন দে গেয়া, ‘স্কোয়াডে আনন্দ নিয়ে এসেছেন নতুন কোচ। আমরা এখন ভালো খেলছি, দলও খুব শক্তিশালী। এখন আমরা জানি কিভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়, কিভাবে বল ধরে রাখতে হয়, কিভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে হয়। এটাই সত্যিকারের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।’

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের পর যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডেভিড ময়েস পারেননি, লুই ফন হাল পারেননি, পারেননি হোসে মরিনহোও। পারছেন কিনা যাঁর ওপর বাজি ছিল সবচেয়ে কম, সেই তিনি। ওলে গানার শোলসকায়ের। তাঁকে স্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োগের দাবিটা স্লোগানের রূপ নিতে হয়তো দেরি নেই আর! বিসিবি, এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা