kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিনজনের পাশে অনুজ্জ্বল বাকিরা

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিনজনের পাশে অনুজ্জ্বল বাকিরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টোকিও অলিম্পিকের বৃত্তিতে নিজেদের রাঙাচ্ছেন তিন অ্যাথলেট। বাকি চারজনের পারফরম্যান্সে নেই সেই রঙের ছোঁয়া।

প্রতিবারই অলিম্পিক উপলক্ষে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর জন্য আইওসির কিছু উদ্যোগ থাকে। সেই ধারায় এবার আইওসির বৃত্তি পেয়েছেন দেশের সাত অ্যাথলেট। টোকিও ২০২০ অলিম্পিক বৃত্তির আওতায় আছেন চার শ্যুটার—শাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, রিসালাতুল ইসলাম ও উম্মে জাকিয়া সুলতানা। আছেন দুই তীরন্দাজ রোমান সানা ও বিউটি রায় এবং সাঁতারু আরিফুল ইসলাম। তবে তাঁদের কী পারফরম্যান্স সে ব্যাপারে তেমন কিছু জানা নেই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ)। বিওএ যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনূর বলেছেন, ‘আমাদের মোট সাতজন টোকিও ২০২০ অলিম্পিকের বৃত্তি পেয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স কী সেটা এখনই বলতে পারব না। তবে শিগগিরই তাদের পারফরম্যান্সে দেখতে যাব ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে।’ অ্যাসোসিয়েশন জানে না, তবে সত্যিটা হলো সাত অ্যাথলেটের মধ্যে তিনজনের পালে অলিম্পিকের জোর হাওয়া। ওয়াইল্ড কার্ড ছাড়াই টোকিও অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন তাঁদের।

বৃত্তি পাওয়া চার শ্যুটার গুলশান শ্যুটিং রেঞ্জেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে শাকিল আহমেদের পারফরম্যান্সেই আছে অলিম্পিকের রং। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী এই পিস্তল শ্যুটার গত ছয় মাস ধরে লালন করছেন কোটা প্লেস নিয়ে টোকিওতে যাওয়ার স্বপ্ন, ‘প্র্যাকটিসে আমার পারফরম্যান্স ভালো। ৫৭৫ থেকে ৫৮০-এর মধ্যে স্কোর থাকে। শ্যুটিং বিশ্বকাপ এবং ওয়ার্ল্ড শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে এটা ধরতে রাখতে পারলে আমি ফাইনাল খেলতে পারব। ফাইনাল উঠলে একটা সুযোগ থাকেই।’ এই বছর যেখানে বিশ্বকাপ শ্যুটিং আছে, সেখানেই নিজেকে প্রমাণ করে টোকিও অলিম্পিকের টিকিট নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তাঁর। তবে বাকি তিন শ্যুটারের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের পিস্তলের স্কোর অধোগামী, তাই বোধহয় জাতীয় নির্বাচনের পর এখনো ক্যাম্পে যোগই দেননি তিনি। রিসালাতের রাইফেলেও নেই সম্ভাবনার কোনো আগুন। সবই যেন ফুরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন। বিদায়ী কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেনের এই ‘প্রতিভাবান শ্যুটারের’ প্রতিভার বিচ্ছুরণ নেই শ্যুটিং রেঞ্জে। তবে জাকিয়া সুলতানা চেষ্টা করছেন নিজের সেরাটা বের করে আনতে।

শ্যুটারদের এই বৃত্তি শুরু হয় গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। এ জন্য প্রতি মাসে তাঁরা পাচ্ছেন পাঁচ শ ডলার করে। সে তুলনায় আরিফুল ইসলামের শুরুটা হয় একটু দেরিতে। উন্নত ট্রেনিংয়ের জন্য ফ্রান্সে গেছেন চার মাস আগে। এরপর সুইমিংপুলে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন এই সাঁতারু। চার মাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে তাঁর ইভেন্টগুলোতে। আরিফুলের লক্ষ্য ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে, ‘ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে এই সাঁতারুর টাইমিং ছিল ১ মিনিট ৭ সেকেন্ড। চার মাসে আমার উন্নতি হয়েছে ২ সেকেন্ড। আর ৪ সেকেন্ড কমাতে পারলেই হবে। জুলাই মাসে কোরিয়ার ওয়ার্ল্ড সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, এটা টার্গেট করেই আমি এগোচ্ছি।’ তার মানে টাইমিং ১ মিনিট ১ সেকেন্ডে নামিয়ে আনা গেলে অলিম্পিকের দুয়ার খুলে যাবে আরিফুলের।

ঠিক উল্টোটা ঘটেছে রোমান সানার বেলায়। গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডে গিয়ে এই তীরন্দাজ ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন পারফরম্যান্স খারাপ করে! তাই সানার সুইজারল্যান্ডে শখ মিটে গেছে, ‘সুইজারল্যান্ডে আর যাওয়ার ইচ্ছা নেই। কারণ সেখানে আমি যাদের সঙ্গে ট্রেনিং করছি তারা খুব ভালো মানের নয়। এখানে আমরা ৩০-৪০ জন একসঙ্গে বিদেশি কোচের অধীনে ট্রেনিং করি। নিজের অবস্থাটা এখানে ভালো বোঝা যায়।’ তীরন্দাজ কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখও চান তাঁকে ঢাকায় রেখে ট্রেনিং করাতে। তবে এই জার্মান কোচ দারুণ খুশি বিউটি রায়ের উন্নতিতে, ‘গত মাস পর্যন্ত বিউটি রায় খুব ভালো করেছে প্র্যাকটিসে, সে উন্নতি করছে। বলা যায়, আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বিউটি।’ এই পরিশ্রমটা টোকিও অলিম্পিক পর্যন্ত জারি রাখতে চান এই তীরন্দাজ, ‘আমার এখনকার প্র্যাকটিস স্কোর ৩২০ থেকে ৩২৫-এ থাকে (৩৬০ এর মধ্যে)। বাছাই পর্বে এটা ধরে রাখতে পারলে কোটা প্লেস পাওয়া সম্ভব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা