kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট    

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ডজনখানেকের ওপর ম্যাচ হয়ে গেছে। তবু অন্যবারের মতো এবার যেন উন্মাদনার রেশ নেই সিলেটি দর্শকদের মাঝে। এমন পরিস্থিতিতে গত রবিবার নিজ শহরে আসে সিলেট সিক্সার্স। অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে ছিল রীতিমতো রাজকীয় আয়োজন। মোটরসাইকেল, বাদ্যযন্ত্রসহ মোটর শোভাযাত্রায় তাদের নিয়ে আসা হয় শহরে। তাতেই বদলে যায় যেন পরিস্থিতি। যেন হঠাৎই আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে সিলেটের ক্রিকেটামোদীরা। প্রায় ৯ দিন পর সিলেট আক্রান্ত হয় বিপিএল-জ্বরে। সিক্সার্সের পতাকা, ফেস্টুনে নগরে এখন উৎসবের আমেজ। আর ব্যাটে-বলে লড়াইয়ের আগে ক্রিকেটামোদীরা ছুটছেন টিকিট নামের সোনার হরিণের পেছনে।

বিপিএলকে কেন্দ্র করে সিলেট যেন এখন উৎসবের নগর। নগরের বিমানবন্দর সড়ক ধরে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম হয়ে দলগুলোর হোটেল পর্যন্ত সড়কে বিপিএল ও সিলেট সিক্সার্সের ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে বিভিন্ন সড়কে। বিশেষ করে টিম হোটেলগুলোর সামনে আলোকসজ্জা বদলে দিয়েছে রাতের চিত্র। দিনে ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল থেকে মাঠে আবার মাঠ থেকে হোটেলে টিমবাসগুলোর ছোটাছুটি বদলে দিয়েছে প্রতিদিনের চেনা পরিবেশকে। দলগুলোর আসা-যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল থামিয়ে দেওয়া হলেও তাতে বিরক্তি নেই যেন সাধারণ যাত্রীদের। তারা বরং হাসিমুখে কৌতূহলী মুখে আগ্রহভরে দেখে বাসগুলো। নগরের রাস্তায় হাঁটলে কানে আসবেই, ‘টিকিট কিভাবে পাই’ বাক্যটি। সব বয়সের ক্রিকেটামোদীরা এখন টিকিটের টিকিটির সন্ধান পেতেই হন্য হয়ে এদিক-সেদিক ছুটছে।

টিলাবেষ্টিত সিলেটে এই সময়ে সকাল ৯টা পর্যন্ত থাকে কুয়াশার আবছা চাদর। বিশেষ করে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম (এসআইসিএস) লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকা হওয়ায় এখানে যেমন ঠাণ্ডা বেশি, তেমনি কুয়াশাও থাকে বেশ বেলা পর্যন্ত। বিপিএলের সিলেট পর্বের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল সকাল থেকে। সকাল ১০টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও টিকিট নামের সোনার হরিণ পাওয়ার আশায় ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই এসআইসিএসের প্রধান ফটকের সামনের বুথে দীর্ঘ লাইনে দর্শকরা দাঁড়িয়ে পড়েন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাইন ছোট হয়ে আসার বদলে শুধু দীর্ঘই হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যারা টিকিট পেয়েছে তাদের মুখে ছিল রাজ্যজয়ের হাসি। নগরের শিবগঞ্জ খারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আইনুল হক বললেন, ‘টিকিটের জন্য সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। এসে দেখি আগেই অনেকে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। একটানা কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায়। তাই সঙ্গে আমার বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলাম। আমরা পালা করে লাইনে দাঁড়িয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত টিকিট পাওয়ায় কষ্টটা সার্থক হয়েছে।’ এ রকম অনেকেই টিকিট পেয়েছেন হাতে। আবার অনেকে দুপুরে দীর্ঘ সারির পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন দুশ্চিন্তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত টিকিট পাবেন তো?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা