kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

আবেগের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতিহাসের হাতছানি

১৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবেগের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতিহাসের হাতছানি

রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ আর অ্যান্ডি মারেকে নিয়ে টেনিসের ‘বিগ ফোর’। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর হয়তো শেষ হচ্ছে এই অধ্যায়। অ্যান্ডি মারে হঠাৎ ঘোষণা দিয়েছেন অবসরের। ইনজুরিজর্জর ক্যারিয়ার আর টানতে চান না বলে শেষ করতে চান উইম্বলডনে। এমনকি শেষ বলতে পারেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই। রজার ফেদেরার, নোভাক জোকোভিচরা কোর্টে নামার আগে আবেগী হয়ে পড়েছেন তাই। মেলবোর্ন পার্কে আবেগের পাশাপাশি আছে ইতিহাস গড়ার হাতছানিও। শিরোপা জিতলে ফেদেরার, জোকোভিচ দুজনই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শোকেসে তুলবেন সপ্তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। মেয়েদের এককে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে সেরেনা উইলিয়ামসও। তিনি চ্যাম্পিয়ন হলে জিতবেন রেকর্ড ২৪তম গ্র্যান্ড স্লাম আর পাশে বসবেন মার্গারেট কোর্টের।

চোটের সঙ্গে অনেক দিন ধরে বসবাস অ্যান্ডি মারের। এই ফেরেন তো ছিটকে যান কদিন পর। ব্যথাটা অসহ্য হয়ে ওঠায় কদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন অবসরের সিদ্ধান্ত। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শুরুর আগের দিন কিংবদন্তি রজার ফেদেরার সান্ত্বনা জানালেন মারেকে, ‘আমাদের জন্য খুব কষ্টের ছিল খবরটা। আশা করছি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনটা ওর ভালো কাটবে।’ অবাক নোভাক জোকোভিচও, ‘চোট খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই বলে এত তাড়াতাড়ি মারে অবসর নেবে ভাবতে পারিনি আমি।’

ফেদেরারের বয়স ৩৭ বছর ছাড়িয়েছে। অনেকে শেষও দেখে ফেলেছিলেন এই কিংবদন্তির। সবার শঙ্কা ভুল প্রমাণ করে গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন ফেদেরার! রড লেভার অ্যারেনায় উঁচিয়ে ধরেন ২০তম গ্র্যান্ড স্লাম। অ্যান্ডি মারে আর রাফায়েল নাদালের চোটের জন্য এবার তাঁর আসল প্রতিদ্বন্দ্বী জোকোভিচ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জোকোভিচকে সতর্কও করলেন ফেদেরার, ‘আমি ভালো ছন্দে আছি। নিশ্চিতভাবে জানি মেলবোর্নে আমাকে হারাতে হলে অসাধারণ টেনিস খেলতে হবে প্রতিপক্ষকে।’

ছয়টি করে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন ফেদেরার ও জোকোভিচ। ২০০৮ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেই গ্র্যান্ড স্লাম জগতে নিজের আবির্ভাব জানান দেন জোকোভিচ। এবার চ্যাম্পিয়ন হলে ফেদেরার, জোকোভিচ দুজনই জিতবেন রেকর্ড সাতটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। তাহলে ছাড়িয়ে যাবেন ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী রয় এমারসনকে। গত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শুরু থেকে ছিটকে যাওয়ার পর চোটের কারণে র‌্যাংকিংয়ের ২০-এর বাইরে ছিটকে যান জোকোভিচ। এরপর উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন জিতে আবারও ফিরেছেন শীর্ষে। নিজের দাপট ধরে রাখতে চান তিনি, ‘২০০৮ সালে এখান থেকে শুরু হয়েছিল সব কিছু। মেলবোর্নে খেলতে সব সময় দারুণ লাগে। আশা করছি এবারও ভালো করব বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামে।’ রাফায়েল নাদাল চোটের জন্য ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেও আশাবাদী অস্ট্রেলিয়ান ওপেন নিয়ে, ‘আমি পুরো ফিট। চোট থাকলে এখানে আসতাম না।’

সেরেনা উইলিয়ামস ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতেন আট সপ্তাহের সন্তান গর্ভে নিয়ে। এরপর কোর্টে ফিরে পৌঁছান গত বছর ইউএস ওপেন ফাইনালে। তাঁকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফেভারিট মানছেন ২৪ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী মার্গারেট কোর্টও, ‘কেউ আমার রেকর্ড স্পর্শ করতে পারলে সেটা সেরেনাই। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও সেরেনাকে এগিয়ে রাখছি আমি।’ অ্যাঞ্জেলিক কেরবার, মারিয়া শারাপোভা, সিমোনা হালেপরা কি পারবেন সেরেনাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে? এএফপি

মন্তব্য