kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

‘সুপার’ ফ্রাইলিঙ্কে সুপার ওভারে জয় ভাইকিংসের

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘সুপার’ ফ্রাইলিঙ্কে সুপার ওভারে জয় ভাইকিংসের

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরি থেকে গ্যালারিতে জুয়াড়ি, টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি থেকে শূন্য গ্যালারি; বিপিএল দেখেছে সবই। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির যত মসলা আছে, সবই দেখা হয়ে গেছে বিপিএলে। বাকি ছিল শুধু সুপার ওভারের রোমাঞ্চ। কাল খুলনা টাইটানস ও চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচে দেখা গেল সেটাও। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দুই দলেরই রান সমান, ১৫১। তাই হারজিতের নিষ্পত্তি সুপার ওভারের টাইব্রেকারে। সেখানেই রবি ফ্রাইলিঙ্কের দারুণ নৈপুণ্যে ম্যাচটি জিতে নিল ভাইকিংস আর টানা চার ম্যাচ হার খুলনা টাইটানসের।

টানা দুই ম্যাচ অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার পর কাল ব্যাটিংটা ভালোই হয়েছিল খুলনা টাইটানসের। টস করলেন দুই ভায়রা ভাই, মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। মুশফিক টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাঠালেন মাহমুদ উল্লাহর দলকে। ডেভিড মালানের ৪৩ বলে ৪৫ রানের ইনিংসের সঙ্গে মাহমুদের ৩১ বলে ৩৩ রানের ইনিংসই গড়ে দিয়েছিল টাইটানসের সংগ্রহের মেরুদণ্ডটা। সঙ্গে জুনায়েদ সিদ্দিকীর ২০, পল স্টার্লিংয়ের ১৮ আর কার্লোস  ব্রাথওয়েটের ১২ রানে ৬ উইকেটে ১৫১ রানের পুঁজি স্কোরবোর্ডে জমা করে খুলনা। জোড়া শিকার সানজামুলের, একটি করে উইকেট নিয়েছেন ফ্রাইলিঙ্ক, খালেদ ও আবু জায়েদ।

১৫২ রান তাড়ায় ভাইকিংস উইকেট হারায় নিয়মিতই। এরই মধ্যে ইয়াসির আলির ৩৪ আর মুশফিকের ৩৪ রান তাদের রেখেছিল লড়াইতে। তবে ক্রমেই বাড়ছিল রান আর বলের ব্যবধান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভাইকিংসের দরকার ছিল ১৯ রান। ক্রিজে তখন নাঈম হাসান ও ফ্রাইলিঙ্ক। এমন সময়ে মাহমুদ শেষ ওভারটা করার জন্য বল দিলেন আরিফুল হকের হাতে। যাঁকে তিনি আগের ১৯টি ওভারে একবারের জন্যও বোলিংয়ে আনেননি। বিপিএলে শেষ ওভারে বল হাতে দলকে ম্যাচ জেতানোর একাধিক কৃতিত্ব আছে মাহমুদের। যে ভরসায় এশিয়া কাপের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা শেষ ওভারে বল তুলে দিয়েছিলেন মাহমুদের হাতেই।

অথচ মাহমুদ নিজে বোলিং না করে ভরসা রাখলেন আরিফুলের ওপর। এখানেই দুর্ভাগ্যের শুরু খুলনার। প্রথম বলটা ডট দিয়ে আশাব্যঞ্জক শুরুর পর দ্বিতীয় বলেই নাঈম মারলেন ছয়। পরের বলে অবশ্য আউট হয়ে গেলেন নাঈম, তবে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিলেন ফ্রাইলিঙ্ককে। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ম্যাচেও শেষ দিকে ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এই প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। কালও তিনিই ভাইকিংদের ত্রাণকর্তা। পর পর দুই বলে দুটি ছয় মারলেন ফ্রাইলিঙ্ক। প্রথমটা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সোজা, পরেরটা স্কয়ার লেগ দিয়ে। দুটি ছয়ের মারেই ফিল্ডার নির্বাক দর্শক। টাইটানসের ডাগআউটে উত্কণ্ঠা। শেষ বলটা স্লোয়ার দিয়েছিলেন আরিফুল, ব্যাটে-বলে করতে পারেননি ফ্রাইলিঙ্ক। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় একটি মাত্র রান নিতে গিয়ে হয়ে গেলেন রান আউট। ফলে দুই দলেরই ইনিংস শেষ হয় ১৫১ রানে! টাই ম্যাচে ফল আনতে সুপার ওভারের রোমাঞ্চের স্বাদ প্রথমবারের মতো দেখা গেল বিপিএলে। পরে ব্যাট করা দল সুপার ওভারে ব্যাট করে আগে। সেই নিয়মে ভাইকিংদের ফ্রাইলিঙ্ক আবার উইকেটে, এবারে সঙ্গী ক্যামেরন ডেলপোর্ট। জুনায়েদ খানের করা সুপার ওভারে বাউন্ডারি মেরে শুরু করলেন ডেলপোর্ট, স্ট্রাইক পাওয়ার পর চার মারলেন ফ্রাইলিঙ্কও। পরের বলে অবশ্য বোল্ড হয়ে যান তিনি, দ্বিতীয় দফায় নেমে মুশফিক করেন ১ রান। সব মিলিয়ে সুপার ওভারে ভাইকিংদের সংগ্রহ ১১ রান, জিততে হলে টাইটানদের করতে হবে ১২।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে বেন স্টোকসকে টানা চারটি ছক্কা হাঁকানো ব্রাথওয়েটকেই পাঠায় খুলনা, সঙ্গে মালান। কিন্তু ব্রাথওয়েট ১ বলের বেশি স্ট্রাইকই পেলেন না। প্রথম বলটা লং অফে ঠেলে দিয়ে নিয়েছিলেন ১ রান। এরপর মালান চার মারলেন, পরের বলে ডাবল নিলেন এবং পরের বলে বাই রান নিতে গিয়ে ব্রাথওয়েট রান আউট। শেষ ২ বলে খুলনার জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। কিন্তু ভাইকিংদের সুপার ওভার করা ফ্রাইলিঙ্ক দুটি বলই করলেন মাপা লেন্থে, তাতে আর বাউন্ডারির দেখা পেল না খুলনা। বরং শেষ বলে রান আউট হলেন স্টার্লিং। তাতেই নিশ্চিত হয় ভাইকিংদের জয়।

হেসেখেলে জিতল ঢাকা

মন্তব্য