kalerkantho

‘হ্যাটট্রিক করা যায় না, হ্যাটট্রিক হয়ে যায়’

১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : কে যে তাঁর জন্য চিত্রনাট্যটি লিখেছিল! হয়তো স্বয়ং ক্রিকেট বিধাতাই। নইলে এ মৌসুমেই ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলেন যিনি, তিনি কিভাবে একাদশে সুযোগ পেয়ে যান! কিভাবে টি-টোয়েন্টির অভিষেকেই করেন হ্যাটট্রিক! হারতে থাকা ম্যাচে কী অবিশ্বাস্যভাবেই না জেতান দলকে! তা-ও আবার অমন শিশুতোষ ভুলে তিন বলের মধ্যে দুবার ক্যাচ ছাড়ার পরও!

অভিষেকটা যে এমন রাঙানো হবে, এমন ঘটনাবহুল হবে—অফস্পিনার আলিস আল ইসলাম নিশ্চয়ই ঘুণাক্ষরেও তা ভাবতে পারেননি।

ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ মিঠুনের তুলে দেওয়া সহজতম দুটি ক্যাচ ছাড়েন অষ্টম ওভারে। রাইলি রুশোর সঙ্গে ওই ব্যাটসম্যানের জুটিতে রংপুর রাইডার্স এরপর এগোচ্ছিল জয়ের পথে। প্রোটিয়া রুশোর উইকেট তুলে ব্রেক থ্রু দেন আলিস। এরপর মূল ভেলকি অষ্টাদশ ওভারে। মিঠুন, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ফরহাদ রেজাকে টানা তিন বলে আউট করে হ্যাটট্রিক। ক্যাচ ছাড়ার প্রায়শ্চিত্ত পূর্ণতা পায় শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে চার খাওয়ার পরও ঢাকা ডায়নামাইটসকে আলিস ম্যাচ জেতালে।

অথচ এ মৌসুমের বিপিএল ড্রাফটে তাঁর নাম ছিল না। নেটে এই অফস্পিনারের বোলিং পছন্দ হয় ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদের। দিন কয়েক আগে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ড্রাফটের বাইরে থেকে একজন করে ক্রিকেটার দলে নেওয়া যাবে। ওভাবেই বিপিএলের আলো লাগে আলিসের গায়ে। কাল অভিষেকে তা কেমন আলোকিতই না করে তোলেন!

‘আমি ঢাকায় ক্রিকেট খেলা শুরু করি কাঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে। তারপর কয়েক বছর দ্বিতীয় বিভাগ খেলার পর খেলি প্রথম বিভাগে। এরপর বিপিএল’—কাল সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন আলিস। প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখিতে জড়তা স্বীকার করে নেন। আর ক্যাচ মিসের কথা বলতে গিয়ে তো জানান, এই স্টেডিয়ামেই কাল তাঁর প্রথম পদচারণ, ‘এই স্টেডিয়ামে এটা আমার প্রথম ম্যাচ। আমি আসলে অনেক নার্ভাস ছিলাম। তবে ক্যাচ দুটি ছাড়ার পর দলের সবাই সমর্থন দিয়েছেন; সাহস দিয়েছে। তাতে মনে হয়েছে যে, ভালো জায়গায় বল করতে পারলে ভালো কিছুই হবে।’

ভালো বলতে ভালো! সাভারের বলিয়ারপুরের ছেলে আলিস একেবারে হ্যাটট্রিক করে বসেন। ‘ওই সময় সাকিব ভাই শুধু বলছিলেন যে, ভালো হচ্ছে; তুই তোর ভালো জায়গায় বল করতে থাক’—এটুকু প্রথাগত প্রতিক্রিয়া। পরে এ প্রসঙ্গের আরেক প্রশ্নে ভীষণ পরিণত উত্তর তাঁর, ‘আসলে হ্যাটট্রিক করা যায় না, হ্যাটট্রিক হয়ে যায়।’

আলিসের কালকের কীর্তিতে বোলিং অ্যাকশনটাই যা একটু প্রশ্নবিদ্ধ। তা অবশ্য অস্বীকার করেন সুনীল নারিনকে আদর্শ মানা এই অফস্পিনার, ‘আমার অ্যাকশন কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। নিজে নিশ্চিত হওয়ার জন্য একবার পরীক্ষা দিয়েছি। তাতে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।’ তবে বিসিবির বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কথায় আবার কিছুটা ভিন্নতা, ‘ওর অ্যাকশনে সমস্যা ছিল। পরে একজন কোচের অধীনে তা সারিয়ে আমাদের কাছে আবার পরীক্ষা দেয়। ওখান থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই এখন খেলতে পারছে।’

এইটুকুন অন্ধকার বাদ দিলে কালকের আলিসের পুরোটাই আলোময়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা