kalerkantho

মুখোমুখি প্রতিদিন

দাবায় উৎসাহব্যঞ্জক কর্মকাণ্ড নেই

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাবায় উৎসাহব্যঞ্জক কর্মকাণ্ড নেই

প্রিমিয়ার লিগ দাবায় একচেটিয়া খেলে শিরোপা জিতেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। সেই দলের গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন জয়ে আনন্দ পেলেও তৃপ্ত নন পুরোপুরি। লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব তাঁকে ব্যথিত করছে। দাবায় উৎসাহব্যঞ্জক কর্মকাণ্ড নেই দেখে গত জাতীয় দাবায় অংশই নেননি তিনি। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে এসব প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন তিনি।

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : প্রিমিয়ার দাবার শিরোপা জেতায় অভিনন্দন। এমন একচেটিয়া শিরোপায় অবশ্য কতটা আনন্দ পাচ্ছেন?

এনামুল হোসেন : জেতার তো একটা আনন্দ আছেই। অন্য ক্লাবগুলো শক্তিশালী দল গড়েনি তাতে আমাদের তো কিছু করার নেই। গতবার বেঙ্গল গ্রুপ শক্তিশালী দল করেছিল। এবার সেটা মাথায় রেখেই সাইফ স্পোর্টিং ভালো দল করেছে; কিন্তু বেঙ্গল শেষ পর্যন্ত অংশই নেয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর হতে হলে অন্তত চারটি ভালো দল থাকতে হয়।

প্রশ্ন : সে হিসেবেই এবারের আসরটা নিশ্চয়ই উপভোগ্য ছিল না?

এনামুল : একেবারে খুব সহজেই আমরা সব ম্যাচ জিতে গেছি এমন না। কয়েকটা ম্যাচে আমাদের ভালো লড়তে হয়েছে। মোট পয়েন্ট দেখে হয়তো সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে বেশ কয়েকটা ম্যাচেই প্রতিপক্ষ বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল আমাদের। একটা দলে ভারতীয় একজন গ্র্যান্ড মাস্টার খেলেছেন, এ ছাড়া অন্য দলগুলোতে বেশ কয়েকজন ভালো মানের ভারতীয় দাবাড়ু ছিলেন।

প্রশ্ন : এই লিগের কারণেই তো জাতীয় দাবায় খেলেননি?

এনামুল : না, সেটা অন্য কারণ। এক কথায় বোঝানোও যাবে না। খেলার উৎসাহই পায়নি। আসলে শীর্ষ দাবাড়ুদের উৎসাহী করার মতো ফেডারেশনের কোনো কর্মকাণ্ডও নেই এ মুহূর্তে। জাতীয় দাবার প্রাইজমানি পাওয়া যায় এক বছর পর। শীর্ষ দাবাড়ুরা এই এক জাতীয় দাবা আর দুই বছর পর একটা অলিম্পিয়াডে আটকে পড়ে আছেন। তাঁদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা দেখি না। আমি সর্বশেষ ইউরোপে খেলেছি অনেক বছর হয়ে গেছে। এসব নিয়ে ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাইছি, তাঁর সুযোগ হচ্ছে না। বর্তমান কমিটিটা মনে হচ্ছে সমন্বয়হীনতায় ভুগছে। সাধারণ সম্পাদক শামীম ভাইয়ের সদিচ্ছা থাকলেও উনি পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

প্রশ্ন : আগামী জাতীয় দাবার আগেই নিশ্চয়ই এ অবস্থার উন্নতি চান?

এনামুল : তা তো অবশ্যই, এভাবে সাধারণ রুটিনে কাজ করে চলাটা আসল চলা না। আমাদের সামনে এগোনোর পথ দেখতে হবে। সেই চেষ্টাটা কোথাও নেই।

প্রশ্ন : প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রিমিয়ার লিগও তো তার প্রমাণ?

এনামুল : হ্যাঁ, সাইফ স্পোর্টিংয়ের মতো আরো চারটা দল থাকলে গ্র্যান্ড মাস্টাররাই সেই দলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ত। তাদের পরের সারির দাবাড়ুদেরও তখন সেই দলগুলোতে মূল থাকত। লিগটাও হতো জমজমাট।

মন্তব্য