kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

ছোট ছোট ভুলের কাঁটায় হার

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোট ছোট ভুলের কাঁটায় হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রানটা প্রত্যাশার চেয়ে খানিকটা কম হয়েছে। ফিল্ডিংয়ে পড়েছে ক্যাচ। এমন ছোট ছোট কিন্তু অনেক ভুল। সেই ভুলের মালা গেঁথেই উৎসবের মঞ্চে বিষাদের সুর। স্মরণীয় করে রাখার মতো উপলক্ষ ছিল অনেক। হয়তো এটাই হোম অব ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজার শেষ ওয়ানডে। এটা আবার বাংলাদেশের ৫ জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারের একসঙ্গে খেলা শততম ম্যাচও, যে পঞ্চপাণ্ডব জোট বাঁধার পর বেড়েছে বাংলাদেশের জয়ের হার। কিন্তু সব মাটি করে দিয়ে বাংলাদেশ সফরে প্রথম জয়ের দেখা পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শাই হোপের ব্যাট দেখাল আশার আলো।

হারের পর বিমর্ষ মাশরাফি দিচ্ছেন না কোনো অজুহাত। মেনে নিচ্ছেন অনেক ভুলের ফল এই হার, ‘তিনজন ৫০ পার করলে হয়তো একজন ১০০ বা বড় ৫০ (৭০-৮০) করত। সেটা হয়নি। ব্যাটসম্যানদের কেউ শেষ পর্যন্ত থাকেনি। ক্যাচ পড়েছে। সব মিলিয়েই এই হার।’ ইমরুল কায়েস ক্যাচ ফেলে চোট পেয়েছেন, বদলি ফিল্ডার নাজমুল ইসলাম অপু ফেলেছেন আরো দুটো ক্যাচ। মাশরাফি জানালেন, মাঠের ওদিকটা থেকে নাকি বল দেখতেই অসুবিধা হচ্ছিল, ‘যদিও এই পর্যায়ে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই, তবে ওদিক থেকে নাকি বল দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। আর দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে ভালো ফিল্ডার আরিফুল আগেই নেমে যায় লিটনের বদলি হিসেবে। এরপর ইমরুলের বদলে অপু নামে, হয়তো যারা ছিল তাদের ভেতর সে-ই সবচেয়ে ভালো। ছোট ছোট অনে ভুল হয়েছে, যার অনেকগুলো ঠিক হলে হয়তো আমরা জিতে বেরিয়ে আসতে পারতাম।’ শেষ ওভারে আবারও মাহমুদ উল্লাহ, কারণটা ব্যাখ্যা করলেন, ‘পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে দেখা যায় বলের গতি কাজে লাগিয়েই রান তুলে নেওয়া যায়। স্পিনার হলে শট খেলতে হয়, তখন একটা সুযোগ থাকে। রিয়াদ (মাহমুদ) এ রকম সময়ে অনেকবারই বল করেছে। তাই বোলিং দেওয়া।’

নিজেদের দলের ব্যাটসম্যানদের অল্পতেই সন্তুষ্ট হওয়ার সমালোচনা করার পাশাপাশি শাই হোপের প্রশংসাও করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘ও শেষ পর্যন্ত থাকার চেষ্টা করেছে, যেটা বড় ব্যাটসম্যানের গুণ। অন্যদিকে উইকেট পড়লেও সাহস হারায়নি। আমার মনে হয় এই শতরানটা তার কাছে খুব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভুল আন্দাজ করেননি মাশরাফি, একটু পর ম্যাচসেরা হয়ে আসা হোপই জানালেন, ‘আমার অন্য দুটো ওয়ানডে শতরানে ম্যাচ টাই হয়েছিল, এবার ম্যাচ জিতেছি। এই শতরানটা তাই ওই দুটোর চেয়ে আলাদা!’ ১০০ ওভারের ম্যাচে ৯৮ ওভারই ম্যাচে থাকার তৃপ্তি ছিল মাশরাফির। কিন্তু হোপ যে মাঠে ছিলেন প্রায় ১০০ ওভার। প্রথমে ৫০ ওভার উইকেট আগলেছেন, তারপর ইনিংসের সূচনায় নেমে ব্যাট করলেন ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বল পর্যন্ত, দলের জয় নিশ্চিত করা অবধি। তার হাতেই তো ছিল আশার মশাল।

মন্তব্য