kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

লাতিন সেরা রিভার প্লেট

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লাতিন সেরা রিভার প্লেট

অগ্নিগর্ভ ফাইনাল! দর্শক হাঙ্গামায় যা সরে আসে বুয়েনস এইরেস থেকে ছয় হাজার মাইল দূরের মাদ্রিদে। পরতে পরতে উত্তেজনাটা থাকল এর পরও। বোকা জুনিয়র্সের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলে জিতে লাতিন সেরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিভার প্লেট। কোপা লিবারতাদোরেস ফাইনালের উপভোগ্য দ্বিতীয় লেগটা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দুর্বল হার্টের কোনো সমর্থকের এই ৩০টি মিনিট ম্যাচ দেখা ছিল ঝুঁকির! মিসাইল উড়ে আসেনি গ্যালারি থেকে। কড়া নিরাপত্তায় বুয়েনস এইরেসের মতো বাজি, পটকা ফাটানোরও উপায় ছিল না। তবে লাতিন ফুটবলের শিল্প-সুষমায় দুই দলের ফুটবলাররা মন্ত্রমুগ্ধের মতো মাতিয়ে রাখেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি। ‘সুপার ক্লাসিকোয়’ জয় ফুটবলেরই।

অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে উইলমার ব্যারিয়স মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত বোকা জুনিয়র্স। এর পরই হুয়ান ফের্নান্দো কুয়েনতেরোর ডি-বক্সের বাইরে থেকে আগুনে শটের গোলে রিভার প্লেটের এগিয়ে যাওয়া। ফার্নান্দো গ্যাগো চোটে পড়ে মাঠ ছাড়লে ৯ জন হয়ে পড়ে বোকা। এর পরও জারার শট পোস্টে লেগে না ফিরলে সমতা ফেরাত পারত তারা। গোল শোধে মরিয়া বোকার গোলরক্ষক শেষ বেলায় চলে যান প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে। সুযোগটা নিয়ে পাল্টাআক্রমণে ম্যাচের শেষ শটটা গনসালো নিকোলাস মার্তিনেস জড়িয়ে দেন ফাঁকা জালে। একটা ফাইনাল স্মরণীয় করে রাখতে এর চেয়ে বেশি কী হতে পারত?

ঐতিহাসিক ম্যাচটি রিভার প্লেট জিতল ৩-১ গোলে। প্রথম লেগ ২-২ সমতা থাকার পর বোকার টিম বাসে দর্শক হামলায় পণ্ড হয়েছিল দ্বিতীয় লেগ। তবে সব মিলিয়ে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে রিভার প্লেট কোপা লিবারতাদোরেস ঘরে তুলল চতুর্থবার। দর্শক হামলার দায়টা নিজেদের বলে এত দিন চুপ ছিলেন রিভার প্লেট খেলোয়াড়রা। শিরোপা জিতেই সেই জবাব দিলেন মিডফিল্ডার লিওনার্দো পোনজি, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় চুপ ছিলাম সবাই। তবে আমরাই সেরা দেখালাম আরো একবার।’ বোকার কোচ গুইলার্মো ব্যারোসের হতাশা, ‘শিরোপাটা দর্শকদের উপহার দিতে চেয়েছিলাম। আমরা দুঃখিত।’

সবশেষ ২০১৫ সালে ‘লাতিন চ্যাম্পিয়নস লিগ’ জিতেছিল রিভার প্লেট। আর দ্বিতীয়বার শিরোপায় চুমু খেয়ে সবচেয়ে সফল কোচ এখন রিভার প্লেটের গ্যালার্দো। তাঁকে ঘিরে রিভার প্লেট যখন উৎসবে মাতোয়ারা, বোকার খেলোয়াড়, সমর্থকরা তখন নির্বাক। ফাইনালটা তাদের জন্য হয়ে রইল নিষ্ঠুর। এমন ম্যাচ উপভোগ করতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চাঁদের হাট। ৬২ হাজার দর্শকের ভিড়ে অন্যতম লিওনেল মেসি, জেরার্দ পিকে, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, হামেস রোদ্রিগেস, ডিয়েগো সিমিওনে, হাভিয়ের জানেত্তিরা। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আমন্ত্রণটা ফিরিয়ে না দিলেও পারতেন! উত্তেজনার ম্যাচটা বেশির ভাগ আর্জেন্টাইন সমর্থক দেখেছেন চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে। রিভার প্লেটের সমতা ফেরানোর পর যেমন আনন্দে কেঁদেছেন সমর্থকরা তেমনি বোকার হারের পর বেদনায় মুষড়ে অন্যপক্ষ।

ফুটবলের স্মরণীয় রাতে ৪৪ মিনিটে দারিও বেনেদেত্তোর গোলে এগিয়ে যায় বোকা। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় জালে জড়ান তিনি। চোখ জুড়ানো এক আক্রমণের সফল সমাপ্তি দিয়ে ৬৮ মিনিটে সমতা ফেরান লুকাস প্রাতো। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ৯২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড উইলমার ব্যারিয়সের। ১০৯ মিনিটে হুয়ান ফের্নান্দো কুয়েনতেরো ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে বুলেট শটে এগিয়ে নেন রিভার প্লেটকে। গোল শোধে মরিয়া বোকার গোলরক্ষক শেষ বেলার কর্নার কাজে লাগাতে ছুটে আসেন রিভার প্লেটের সীমানায়। কিন্তু পাল্টাআক্রমণে বোকার বুকে ছুরিটা চালান গনসালো নিকোলাস মার্তিনেস। ফাঁকা পোস্ট পেয়ে তাঁর এই গোলে শিরোপা উৎসবে মাতে রিভার প্লেট, যার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে বুয়েনস এইরেসেও। হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে মাতেন নেচে গেয়ে। উৎসবটা মাত্রা ছড়ানোয় রাস্তায় নামতে হয় পুলিশকেও! এমন না হলে আর বোকা-রিভার প্লেটের ‘সুপার ক্লাসিকো’ কেন? এএফপি

মন্তব্য