kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

রোমাঞ্চকর জয়ে কোহলিদের ইতিহাস

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোমাঞ্চকর জয়ে কোহলিদের ইতিহাস

চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা। লড়াই ছাড়া এক ইঞ্চি জমিও ছাড় নয়। এই মানসিকতাতেই ব্যাট করে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার টেলএন্ডাররা। পরাজয়ের দুয়ার থেকে জয়ের আশাটা জাগে তাতে। প্রতিটা রানে করতালিতে ভরিয়ে দিচ্ছিলেন অ্যাডিলেডের দর্শকরা। এভাবেই ১৫০, ১৭৫, ২০০, ২৫০ পেরিয়ে স্বাগতিকরা পৌঁছে যায় ২৯১ পর্যন্ত। জয় থেকে দূরে ৩২ রান। বিরাট কোহলির দুশ্চিন্তা কমিয়ে তখনই শেষ আঘাত রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। শেষ ব্যাটসম্যান জস হ্যাজেলউডকে ফিরিয়ে ভারতকে এনে দিলেন ৩১ রানের রোমাঞ্চকর জয়। অস্ট্রেলিয়া না জিতলেও সাক্ষী হলো টেস্ট ক্রিকেটের অনন্য বিজ্ঞাপনের। তারা মাঠও ছেড়েছে মাথা উঁচু করে।

এই জয়ে রেকর্ডের পাতাগুলো ওলটপালট হয়েছে অনেক। অস্ট্রেলিয়ায় এর আগে ১১ বারের প্রচেষ্টায় কখনো সিরিজের প্রথম টেস্ট জেতেনি ভারত। সেই অতৃপ্তি মিটল এত দিনে। ২০০৮ সালের পর এটাই এই দেশে প্রথম টেস্ট জয় তাদের। আর অ্যাডিলেডে জয় এলো ২০০৩ সালের পর। সব মিলিয়ে ৭০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারত টেস্ট জিতেছে মাত্র ৬টি। বিরাট কোহলিও অনন্য চূড়ায়। এশিয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনি টেস্ট জিতলেন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকায়। ইমরান খান, কপিল দেব, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ইনজামাম উল হকদের মতো অধিনায়করা জীবনভর যা পারেননি কোহলি করলেন একই বছরে! এ জন্য কৃতিত্বটা দলকে দিচ্ছেন তিনি, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কখনো টেস্ট সিরিজে লিড নিতে পারিনি। তাই অর্জনটা বিশেষ কিছু। সবার কঠোর পরিশ্রমে এসেছে এই জয়। চার বোলার মিলে ২০ উইকেট নিয়ে এভাবে জেতানোয় ভীষণ গর্বিত আমি।’ এ ছাড়া ১১ ক্যাচ নিয়ে রেকর্ড গড়েন ঋষভ পান্ট। টেস্টে তাঁর সমান ১১ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আর শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডিভিলিয়ার্স ও ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেলের।

অ্যাডিলেডে গত ১০০ বছরে ২০০-র বেশি রান তাড়া করে জেতেনি স্বাগতিকরা। ইতিহাস বদলাতে গতকাল পঞ্চম দিন অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২১৯ রান আর ভারতের ৬ উইকেট। আগের দিন ১১ রানে অপরাজিত থাকা ট্রাভিস হেড ১৪ রানে ফেরেন ইশান্ত শর্মার বলে ঋষভ পান্টকে ক্যাচ দিয়ে। ভরসা হয়ে থাকা শন মার্শ খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। ৬০ রানে জাসপ্রিত বুমরাহর বলে তালুবন্দি পান্টের। ১৫৬ রানে ৬ উইকেট হারানোয় অস্ট্রেলিয়ার হার মনে হচ্ছিল সময়ের অপেক্ষা। এরপরই টেল এন্ডারদের বুক চিতিয়ে লড়াই। ৭৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪১ করেছিলেন টিম পাইন। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের ব্যাট থেকে আসে সমান ২৮ রান।

২৫৯ রানে নবম উইকেট হারিয়েছিল স্বাগতিকরা। শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়ে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে যাচ্ছিলেন নাথান লায়ন ও জস হ্যাজেলউড। উত্তেজনার সমাপ্তি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে হ্যাজেলউড দ্বিতীয় স্লিপে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিলে। অন্য প্রান্তে ৪৭ বলে ৩৮ রানে অপরজিত থাকা নাথান লায়ন তখন ট্র্যাজেডির নায়ক। এত কাছে এসে ৩১ রানে হারলেও অধিনায়ক টিম পাইন গর্বিত এমন লড়াইয়ে, ‘ভেবেছিলাম আমরা জিততে যাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়া প্রতিটি ম্যাচ খেলেও জেতার জন্য। কিন্তু আমি, মার্শ আর হেড বড় রানের ইনিংস খেলতে পারলাম না। একজন দাঁড়িয়ে গেলে জিততে পারতাম ম্যাচটা। এমন লড়াইয়ে আমি গর্বিত। পরের ম্যাচে এটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে সবাইকে।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

মন্তব্য