kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

রহমতগঞ্জকে পেল বসুন্ধরা কিংস

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 রহমতগঞ্জকে পেল বসুন্ধরা কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কাল মাঠে নামার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে একরকম ছিটকে গিয়েছিল মোহামেডান। রহমতগঞ্জ নোফেল স্পোর্টিংয়ের জালে একে একে ৩ গোল জড়ালে সন্ধ্যার ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানকে শুধু জিতলেই হতো না, জিততে হতো ৫ গোলের ব্যবধানে। রহমতগঞ্জকেই যারা হারাতে পারে না, হারে নোফেলের কাছে, তারা গ্রুপ সেরা চট্টগ্রাম আবাহনীকে এভাবে বিধ্বস্ত করবে! সেটা হলে রূপকথাই হতো। এ যুগের সাদা-কালোরা তা পারে না। চট্টগ্রামের দলটির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তাই মৌসুমের টানা দ্বিতীয় টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

নোফেলের বিপক্ষে দারুণ এক জয়ের পুরস্কার হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে তাই রহমতগঞ্জ। সেখানে তারা কিনা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে হাই প্রফাইল বসুন্ধরা কিংসের। মোহামেডান- রহমতগঞ্জের আগের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় শেষ আটে যেতে হলে নোফেলের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না রহমতগঞ্জের। নোফেল আগের ম্যাচে মোহামেডানকে ২-০তে হারিয়ে উজ্জীবিত। ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরা কিংসকেও তারা রুখে দিয়েছিল। সেই দলটির বিপক্ষেই কিনা কাল আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিয়ে সৈয়দ গোলাম জিলানীর দল জিতল ৩-০তে। রহমতগঞ্জ-মোহামেডানের পয়েন্ট সমান হলেও ১ গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল সাদা-কালোরা। নোফেলের জালে রহমতগঞ্জের প্রতিটি গোল তাই পরের ম্যাচে মোহামেডানের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিচ্ছিল গুণিতক হারে। নোফেল জিতলে তো মোহামেডানের কোনো সুযোগই ছিল না। চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি হয়ে পড়ত আনুষ্ঠানিকতার। রহমতগঞ্জের জয়ের সম্ভাবনায় মোহামেডানের আশা বাঁচে, আবার একের পর এক গোলে তা ক্ষীণও হতে থাকে। ৩৭ মিনিটে রহমতগঞ্জকে প্রথম এগিয়ে দেন রাকিবুল ইসলাম। কর্নার থেকে জটলার মধ্যে বল পেয়ে আলতো টোকায় তা জালে জড়িয়ে দিয়েছেন।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা রহমতগঞ্জের প্রথম গোলের এই অপেক্ষা ফুরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে পুরো প্রাধান্য নিয়ে নেয় তারা। ৬২ মিনিটে সিও জুনাপিওর থ্রু পাসে এনামুল ইসলামের শট পোস্টে লেগে ফেরার পরের মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা জুনাপিওর গোলে। ফয়সাল আহমেদের হেডে মাথা ছুঁয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন কঙ্গোলিজ স্ট্রাইকার। ৮০ মিনিটে বক্সের ওপর থেকে নেওয়া তাঁর বুলেট গতির শটেই ৩-০। তাতেই পরের ম্যাচে পাহাড় ডিঙানোর অবস্থায় পড়ে মোহামেডান। গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচ টানা জিতে শেষ আট নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম আবাহনী ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে খেলার চেষ্টা করে। তাতে গোলের সুযোগ তৈরি করতেই ঘাম ঝরাতে হয় সাদা-কালোদের। ২৫ মিনিটে আমির হাকিমের ফ্রিকিকে কিংসলে চিগোজির নেওয়া হেড দারুণ ফিরিয়েছেন আবাহনী গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ। দ্বিতীয়ার্ধে নাজমুল ইসলামের নেওয়া ফ্রিকিকে মুফতা লাওয়ালের হেডও আস্থা নিয়ে ফেরান মোহামেডান গোলরক্ষক খন্দকার সাদ। তাতে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় ম্যাচ। নোফেলের কাছে ২-০তে হারের দিনই মোহামেডানের এমন বিদায় কল্পনা করে নেওয়া গিয়েছিল। কাল তার আনুষ্ঠানিকতা হলো শুধু। দলের সিনিয়র খেলোয়াড় জাহিদ হাসান কাল নোফেলের কাছে ওই হারটাকেই চিহ্নিত করলেন বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে। সমর্থকরা অবশ্য এতে অভ্যস্ত। একসময়ের প্রতাপশালী ক্লাবটির কর্মকর্তারাই এখন শিরোপার লক্ষ্যে দল গড়েন না। এখন মাঝামাঝি অবস্থানটা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য।

কাল মোহামেডান-চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছে স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্ব। কোয়ার্টার ফাইনালের বাকি ম্যাচটির লাইনআপ তাতেই চূড়ান্ত। ১৪ ডিসেম্বর ‘বি’ গ্রুপ রানার্স-আপ রহমতগঞ্জের বিপক্ষেই সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে নামবে ‘ডি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, ১২ ডিসেম্বর ‘ডি’ গ্রুপ রানার্স-আপ শেখ রাসেলের প্রতিপক্ষ ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী। ১১ ডিসেম্বর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আরামবাগ ও ‘সি’ গ্রুপ রানার্স-আপ ব্রাদার্স, ১৩ ডিসেম্বর ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর প্রতিপক্ষ ‘এ’ গ্রুপ রানার্স-আপ সাইফ স্পোর্টিং।

মন্তব্য