kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

গতির জোরেই গতির জবাব!

সামীউর রহমান   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যালিপসো সুর ক্যারিবীয় ব্যাটিং থেকে বিদায় নিয়েছে বহু আগেই। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটিংয়ের মূলমন্ত্র এখন অনেকটা মুষ্টিযুদ্ধের সঙ্গে মানানসই। ধ্রুপদি শিল্পীর মতো আলতো স্পর্শে বল মাঠের বাইরে পাঠানোর চাইতে গায়ের জোরে উড়িয়ে সীমানাছাড়া করতেই তাদের বেশি মনোযোগ! কারণ কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এই গুণেরই যে সর্বোচ্চ চাহিদা। তাই এভিন লুইস, শিমরন হেটমায়ারদের হাতেই ব্রায়ান লারা, শিবনারায়ণ চন্দরপলদের উত্তরাধিকার। বেমানান কিন্তু বাস্তব। তবে জোরে বোলিংয়ের ধারাটা এখনো শুকিয়ে যায়নি। এখনো কেমার রোচ, আলজারি জোসেফ কিংবা ওশান টমাসরা ধরে রেখেছেন মার্শাল, অ্যামব্রোসদের পতাকাটা। বাংলাদেশ সফরে টেস্ট সিরিজে ঘূর্ণিবলেই নাকাল হয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। সেই প্রেক্ষাপট মাথায় রাখলে ওয়ানডে সিরিজেও বাংলাদেশ ভরসা করতে পারত স্পিনারদের ওপরই। কিন্তু পোশাক আর বলের রংবদলের সঙ্গে সঙ্গে যে অধিনায়কও পালটে যায়! নিজে পেসার বলেই হয়তো পেস বোলারদের ওপর ভরসাটা রাখেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

প্রতিপক্ষকে জোরে বোলিংয়েই কাবু করার প্রচেষ্টার শুরুটা বছর তিনেক আগে হয়েছিল তাঁর হাতেই। টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশ থেকে পেসারদের ছেঁটে ফেলা হলেও ওয়ানডেতে তাই ভিন্ন ছবি। মাশরাফি কাল স্পষ্ট করেই বলেছেন, একাদশে তিনজন পেসার রাখার কথা। উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার, শিশিরের প্রভাব থাকুক কিংবা না থাকুক; ক্যারিবীয়দের ‘মাসল হিটার’দের বিপক্ষে স্পিন নয় গতিতেই করতে হবে বাজিমাত। 

মাশরাফি-রুবেল-মুস্তাফিজ; এই ত্রিফলাই দিচ্ছে গতির জবাবটা গতি দিয়েই দেওয়ার ভরসা। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অধিনায়কের বেশি আস্থাভাজন রুবেল হোসেন, ‘রুবেল এশিয়া কাপে ছিল আমাদের সেরা বোলার। রুবেল যেন তার সেরা জায়গা থেকে পিছিয়ে না যায়।’ অধিনায়ক নিজে এশিয়া কাপ থেকে আঙুলের চোট নিয়ে ফিরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার পর ক্রমশ ফিরে পাচ্ছেন নিজেকে। সবশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে খেলার পর নিজের বোলিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজে যেটা হয়েছিল এশিয়া কাপের চোটটাই খানিকটা ভোগাচ্ছিল। আশা করছি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

টেস্টে স্পিন কোয়ার্ট্রেট নামিয়ে জয়ের সমীকরণ দাঁড় করানো বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ভরসা করবে জোরে বোলারদের ওপরেই। সেটা কেন, শুনুন মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘যখন পাঁচটা ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে থাকে তখন স্পিন বলের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা খুব সহজ। জোরে বোলিং করলে যেটা হয়, যেকোনো এক জায়গা ব্লক করে বল করা যায়। স্পিনার খুব অসাধারণ বোলিং না করলে যেটা সম্ভব হয় না। সাকিব বা মিরাজ ভালো করছে, ভালো করছে না তা নয়। তবে সমতল উইকেটেও আমাদের পেস বোলারদের সাফল্যের হার বেশি।’

টেস্টের অন্যতম সেরা বোলার তাইজুল ইসলাম নেই ওয়ানডেতে। অবশ্য সাকিব আর মিরাজ আছেন। মাশরাফি তাই স্পিন নিয়েও ভাবনাহীন, ‘আমাদের দুজন স্পিনার আছে যারা ব্যাটিং করতে পারে। এটা বড় সুবিধা, এ ক্ষেত্রে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। আমরা পেস বোলার যদি তিনজন খেলাই, সঙ্গে রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) আছে, এশিয়া কাপ থেকেই সে দারুণ বোলিং করছে।’ ২০১৫ সাল থেকে যেভাবে পেস বোলিংয়ে সাফল্য আসছে, সেই পথটাই বেছে নিতে চান ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘২০১৫ থেকে যদি দেখেন, আমাদের পেস বোলাররা ভালো করছে। তিনজন পেসারে সব সময় খেলা হচ্ছে। এমনকি চারজনও খেলিয়েছি। তাই টেস্টের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত বদল করা যাবে না। আমি তিনজন পেসার খেলাব, এটা নিশ্চিত।’

স্পিনে সাম্প্রতিক সাফল্যে বুঁদ হয়ে না থেকে মাশরাফি দুই পাশ থেকে দুটি নতুন সাদা বল দিতে চান জোরে বোলারদের হাতেই। যে ভাগ্যটা এ দেশের পেসারদের হয় না সাদা পোশাকে, লাল বলের ক্রিকেটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা