kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

১২ বছরে দৌড়া বাঘ আইলো

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ বছরে দৌড়া বাঘ আইলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ছেলেগুলোর অবস্থা তখন ঈশপের গল্পের মিথ্যাবাদী রাখালের মতো। তারা রোজ বাঘের ভয় দেখায়, কিন্তু বাঘ যে আর আসে না! ২০০৬ সালে ক্রিকেটপ্রিয় কিছু তরুণ একসঙ্গে দেখতে গিয়েছিল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ। আজকের এই হোম অব ক্রিকেট তখন এই ঝাঁ চকচকে চেহারা পায়নি। ফুটবল স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের সময়টায় এদিকে-সেদিকে পলেস্তারা খসা দেয়াল, সিমেন্টের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেরও অবস্থা অনেকটা অমনই। জয় তখন ধরা দিত কালেভদ্রে। বেশির ভাগ ম্যাচ থেকেই প্রাপ্তি হতো সম্মানজনক হার অথবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কিছু ঝলক। তখন যে তরুণরা ‘দৌড়া বাঘ আইল’ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্টেডিয়ামে দাঁড়াতেন, তাঁদের দেখিয়ে স্থানীয় মুরব্বিরা উদাহরণ দিতেন বখে যাওয়া তারুণ্যের। সেই সঙ্গে হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটের অশনিসংকেত, অন্ধকার ভবিষ্যৎ...ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে সব কালো রাতের পরই তো থাকে আলোর ভোর! বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও কাগুজে বাঘ থেকে মাঠের পারফরম্যান্সে হয়ে উঠেছে বাঘ, মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছে সত্যিকারের ‘বাঘের ডেরা’, যেখান থেকে প্রাণ (পড়ুন জয়) নিয়ে ফেরা মুশকিল। আর সেই ‘বখে যাওয়া’ ছেলেগুলোও এই খেলা দেখতে দেখতে খুঁজে পেয়েছেন প্রাণের বন্ধুদের। জয়ে, হারে, টিকিটের লম্বা লাইনে রাতভর দাঁড়িয়ে, উৎসবে কিংবা অভিমানে একই অনুভূতির সুর আদান-প্রদান করতে করতে কখন যে তাঁরা হয়ে উঠেছেন একাত্মা।

ওয়ালী এম ফাহিম, প্রিয় রহমান সৌরভ এবং মুস্তাফিজুর রহমান রকি বড় কাগজে হাতে লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন ‘দৌড়া বাঘ আইলো!’ জুটে যায় দ্বীপ করিম, নিজার করিম, নাবিল সুফিয়ানের মতো কিছু বন্ধুও। একসঙ্গে খেলা দেখতে দেখতে সংখ্যাটা আরো বাড়তে থাকে; ৪০, ৫০, ৬০ ছাড়িয়ে ১০০-র ওপরে। দলের নামটা ‘দৌড়া বাঘ আইলো’ রাখা হয়েছিল মজা করেই। নানা সমালোচনাতেও এই নামটা বদলাননি সংগঠনের সদস্যরা। বরং ব্যতিক্রমী এই নামটাকেই তাঁরা মনে করেন নিজেদের স্বকীয়তা। এই দলের সদস্যরা দেশের ভেতর প্রায় সব স্টেডিয়ামেই একসঙ্গে খেলা দেখতে গেছেন। দেশের বাইরে তাঁদের পা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। হালফিলে ক্রিকেটের প্রসারে কদর বেড়েছে পেশাদার সমর্থকদেরও! বাঘের সাজে গ্যালারি মাতানো কয়েকজন দিব্যি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের লোগো বুকে-পিঠে লাগিয়ে তুলে নিচ্ছেন বিদেশভ্রমণের খরচটা। দৌড়া বাঘ আইলোর সদস্যরা একটু ব্যতিক্রম। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ক্যাস্ট্রলের উদ্যোগে তাঁরা জার্সি বানিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান টাকা দিয়ে তাদের প্রচারণায় কাজে লাগাতে চাইলেও অটল থেকেছেন দৌড়া বাঘ আইলোর সদস্যরা। তাঁরা বেশির ভাগই ছাত্র। কেউ কেউ সদ্য পাস করে যোগ দিয়েছেন পেশাগত জীবনে। রোজকার একঘেয়েমির বাইরে খেলার মাঠে একত্র হয়ে জাতীয় দলের জন্য গলা ফাটানোতেই যে তাঁদের আনন্দ।

আজ ১২ বছরে পা দিচ্ছে সমর্থক গোষ্ঠীটি। দেশের ফুটবলের সোনালি সময়ে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠী, মহা-পাগল নিয়েও ছিল উন্মাদনা। এখন সব আলো ক্রিকেটে, সমর্থকরাও সেদিকেই ব্যস্ত। আর মাঠে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দেখতে তো সব সময়ই উপচে পড়া ভিড়! গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড থেকে সেলফি না তুললে, টিভিতে এক ঝলক না দেখালে যে মান-মর্যাদা থাকে না বন্ধুমহলে। সেদিক দিয়ে দৌড়া বাঘ আইলোর সদস্যরা আলাদা। বাড়তি প্রচার চান না, অর্থ সহযোগিতাও চান না। নিয়ম করে আসেন টেস্ট ম্যাচ দেখতে। আসেন ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ দেখতেও। হালের ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে বোধ হয় এটাই তাঁদের বড় পার্থক্য!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা