kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

রাজশাহীর শিরোপা

উদযাপনে শৈশবের কোচদের সম্মান

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদযাপনে শৈশবের কোচদের সম্মান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘আমাদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কোচ তো অনেকে এসেছেন। কিন্তু কয়েকজন আছেন না, যাঁদের কাছে রাজশাহীর সবাই খেলা শিখেছি। শিখেছি কিভাবে ব্যাট ধরতে হয়; বল ধরতে হয়। আজ রাজশাহীর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিনে অমন ছয় কোচকে নিয়েই আমাদের উৎসব। শানু ভাই, মহিউদ্দিন ভাই, মিলন ভাই, সাদ ভাই, রশিদ ভাই ও নুরু ভাইয়ের জন্যই আজকের আমরা’—বলতে বলতে আবেগ খেলে যায় জহুরুল হকের কণ্ঠে। ২০১১-১২ মৌসুমের পর আবার জাতীয় লিগ শিরোপা জয়ের উদযাপন এর চেয়ে আর ভালোভাবে কিভাবে হতে পারত!

রাজশাহী যে জাতীয় লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে, সেটি কাল শেষ দিনের খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই নিশ্চিত ছিল একপ্রকার। বরিশালের বিপক্ষে লক্ষ্য ছিল ২৮৪ রানের। দুই উইকেটে ১৮২ রান নিয়ে শুরু করে কালকের খেলা। ২৫ রানে অপরাজিত অধিনায়ক আউট হন ৬৪ করে। তবে ৬৫ রানে শুরু করা জুনায়েদ সিদ্দিকী দলকে জিতিয়েই তবে মাঠ ছাড়েন। ততক্ষণে ১৮১ বলে ১২০ রানের ইনিংস নামের পাশে। ছয় উইকেটের এই জয়ে জাতীয় লিগের সর্বোচ্চ ষষ্ঠ শিরোপা জয়ে খুলনার সঙ্গী হলো রাজশাহী। তবে পাঁচের পর ছয়ের দেখা পেতে ছয় বছর লেগে যাওয়ায় উল্লাসটা বেশি।

তা উদযাপনেই রাজশাহীর এক রেস্টুরেন্টে ক্রিকেটারদের উদ্যোগে ওই আয়োজন। যেখানে অতিথি তাঁদের শৈশব-কৈশোরের কোচরা। বলার সময় অন্য রকম তৃপ্তি অধিনায়ক জহুরুলের, ‘আমাদের রাজশাহীর ক্রিকেটারদের নিজস্ব একটা ফান্ড রয়েছে। তা দিয়েই এই আয়োজন। কোচদের আমরা সম্মানিত করেছি। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে আমাদের নিয়মিত পারফরমার ফরহাদ রেজা, ফরহাদ হোসেন, জুনায়েদ, সানজামুল ও মিজানের বাবা-মাকেও দাওয়াত করেছি। এটি সত্যি আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য বড় তৃপ্তি।’ এবারের জাতীয় লিগে রাজশাহীর শিরোপা জয়ের অন্য রকম গুরুত্বও দেখছেন তিনি, ‘পাইলট ভাইয়ের সময়ে আমরা চারবার এ শিরোপা জিতেছি। পরে মাত্র একবার। এরপর তো বহুদিন জিতিনি। রাজশাহীর অনেক ক্রিকেটারের জন্য এটি প্রথম শিরোপা। অবশ্যই এর ইতিবাচক প্রভাব আমাদের অঞ্চলের ক্রিকেটে পড়বে।’

জাতীয় লিগের প্রথম স্তরে রংপুর-খুলনার শেষ রাউন্ডের অন্য খেলাটি ড্র হয়েছে। ৩৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী। প্রথম স্তরের বাকি তিন দল রংপুর, খুলনা ও বরিশাল পরের তিন স্থানে ২৪.৫৯, ১৬.১৫ এবং ১৪.৬১ পয়েন্টে। শেষ দল বরিশাল নেমে গেছে দ্বিতীয় স্তরে। সেই স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ঢাকা আগামীবার খেলবে প্রথম স্তরে। শেষ রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি হয়েছে ড্র। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে একটুর জন্য সেঞ্চুরি পাননি রাজিন সালেহ। আউট হন ৮৭ রান করে। তবে দুই ইনিংসে ফিফটির জন্য ম্যাচসেরা হন ঠিকই। ঢাকা মেট্রো-চট্টগ্রামের ড্র হওয়া অন্য খেলায় ম্যাচসেরা কাল শেষ দিনে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বরিশাল-রাজশাহী : বরিশাল : ৯৭ ও ৩৪৬। রাজশাহী : ১৬০ ও ৭৬ ওভারে ২৮৪/৪ (জুনায়েদ ১২০*, জহুরুল ৬৪; তানভীর ২/৬১)। ফল : রাজশাহী ছয় উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : জুনায়েদ সিদ্দিকী।

খুলনা-রংপুর : খুলনা : ২৬১ এবং ৬৬.৩ ওভারে ২৮২ (সৌম্য ৮৩, মইনুল ৫৫; তানভীর ৩/৪০)। রংপুর : ২৪৯/৮ ডিক্লে. এবং ৫১ ওভারে ১৮৪/৬ (রাকিন ৭৪, মেহেদী ৫০; মেহেদী ৩/১৭)। ফল : ড্র। ম্যাচসেরা : মইনুল ইসলাম।

ঢাকা-সিলেট : সিলেট : ২৩৮ এবং ১২৪ ওভারে ৩০৩/৬ (রাজিন ৮৭, জাকের ৭৭*, শাহনূর ৭০*; শাহাদাত ২/৪৩)। ঢাকা : ৩৪৬। ফল : ড্র। ম্যাচসেরা : রাজিন সালেহ।

ঢাকা মেট্রো-চট্টগ্রাম : ঢাকা মেট্রো : ৩২৮ এবং ৬২ ওভারে ২৬১/৬ ডিক্লে. (শামসুর ১২১; শাখাওয়াত ২/৭৫)। চট্টগ্রাম : ৩৪৫ এবং ৪১ ওভারে ১৪২/৪ (ইরফান ৪৪; আসিফ ২/২৯)। ফল : ড্র। ম্যাচসেরা : শামসুর রহমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা