kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

দর্শক ঢুকে পড়ায় সিলেটের উদ্বেগ

৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দর্শক ঢুকে পড়ায় সিলেটের উদ্বেগ

সিলেট থেকে প্রতিনিধি : ভক্তের কাণ্ডে ছবির মতো সুন্দর বাংলাদেশের নবতম টেস্ট ভেন্যুর আয়োজকদের মনে মেঘের আনাগোনা। অভিষেক টেস্টের তিন দিনে দুইবার মাঠে দর্শক ঢুকে পড়া যেকোনো মাঠের জন্যই উদ্বেগের। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় এসব ক্ষেত্রে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ট্যাগ সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামের গায়ে লেগে যাওয়া অসম্ভব নয়।

টেস্টের প্রথম দিন এক কিশোর দর্শক ঢুকে পড়েছিল মাঠে। দৌড়ে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তার আলিঙ্গনাবদ্ধ ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনা ওখানে শেষ হলে উদ্বেগের কিছু ছিল না। কিন্তু গতকাল, টেস্টের তৃতীয় দিনেও মাঠে ঢুকে পড়েছে এক দর্শক। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ধরে বের করে নিয়ে গেছেন।

প্রথম দিনের ঘটনার পর ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিসিবির নিরাপত্তাপ্রধান মেজর (অব.) হোসেন ইমাম বলেছিলেন, ‘ম্যাচ রেফারির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তিনি আমাদের এই ব্যাপারে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।’ কিন্তু সেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার ভেতরেই যে আবারও নিরাপত্তাকর্মীদের ফাঁকি দিয়ে একজন ঢুকে পড়ল মাঠে! এবারও গিয়ে মুশফিককে জড়িয়ে ধরলেন সেই যুবক।  খুব কাছ থেকে ঘটনাটা দেখা একজন স্বেচ্ছাসেবক জানিয়েছেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ছয়জন পুলিশ সদস্য দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। সেই সুযোগেই হুট করে একদৌড়ে মাঠে ঢুকে পড়ে ওই যুবক। বোর্ড পরিচালক শফিউল আলম নাদেলের কণ্ঠেও একই অনুযোগ, ‘এ ঘটনার জন্য সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের গাফিলতি আছে বলে আমি মনে করি।’ সীমানাপ্রাচীর উঁচু করা বা নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করছেন না এই সংগঠক, ‘মাঠকে তো আর জেলখানা বানিয়ে ফেলা যাবে না। বিষয়টি এমন নয় যে মাঠের চারদিকে সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা কম বা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ঘাটতি আছে। এর পরও দর্শক ঢুকে যাওয়ায় পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতি আছে বলে আমি মনে করি।’

এই ব্যাপারে পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এম এ ওয়াহাব (গণমাধ্যম) জানিয়েছেন, ‘আজকে মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এই ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।’ একসঙ্গে ছয়জনের দুপুরের খাবার খেতে চলে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি এখনো অবগত নই। তবে যদি কারো গাফিলতি থাকে তাহলে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’ বিসিবির নিরাপত্তাপ্রধান হোসেন ইমাম কাল অভিযোগের আঙুল তোলেন পুলিশের দিকেই, ‘এখানে বিসিবির নিরাপত্তাকর্মী আছেন ২০ জন। তারা মূলত সার্বিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন। গ্যালারির নিরাপত্তা বা মাঠে কেউ ঢুকে পড়ল কি না, এসব দেখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। আমার মনে হয় দায়িত্ব পালনে তাদের আরো সচেতন হওয়া দরকার।’

প্রথম দিন মাঠে ঢুকে গিয়েছিল এক কিশোর, পরদিন হঠাৎ করেই খেলার সময়ে মাঠে ঢুকে গিয়েছিল কুকুর, কাল আবার আরেকজন। প্রতিদিনই নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঠে অনুপ্রবেশ চলছে। ওদিকে মাঠে ঢোকার পথে কড়া তল্লাশি। দর্শকদের মানিব্যাগ চেক করে রেখে দেওয়া হচ্ছে ধাতব মুদ্রা। নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, পাঁচ টাকার কয়েনটা নাকি ছুড়ে মারা হয় গ্যালারি থেকে। বেশ কিছু প্রবেশ পথের পাশের প্লাস্টিকের ঝুড়িতে তাই দেশলাই, সিগারেটসহ অনেক কিছুর সঙ্গে কয়েনের স্তূপ। একজন বললেন, দিনশেষে নাকি এসব পয়সা দান করে দেওয়া হয় পাশের এতিমখানায়! তাতে করে পরকালের জন্য পূণ্য হয়তো জুটবে, কিন্তু গ্যালারি থেকে মাঠে দর্শক ঢোকা কি থামবে?



সাতদিনের সেরা