kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘তাইজুলনামা’

দুই কোচের জয়ের সমীকরণ

সামীউর রহমান, সিলেট থেকে    

৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুই কোচের জয়ের সমীকরণ

খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আর দলকে সে স্বপ্ন দেখার পথ করে দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানে ৬ উইকেটের পর গতকাল ৬২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এ স্পিনার। ইনিংসে ৫ কিংবা তারও বেশি উইকেট পেলেন পঞ্চমবারের মতো। তবে ম্যাচে ১০ কিংবা তারও বেশি উইকেট এবারই প্রথম। তাতে ২০ টেস্টে ৮০ উইকেট হয়ে গেল তাইজুলের। এ সূত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর তিনিই বাংলাদেশের সফলতম বোলার। একই সময়কালে ১৯ টেস্টে ৭৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। ছবি : মীর ফরিদ

প্রকৃতি বিঘ্ন না ঘটালে ফল আসছে সিলেট টেস্টে। খেলা বাকি আছে পুরো দুই দিন, সঙ্গে যোগ করুন আরো ৩০ মিনিট। তৃতীয় দিনে আলোর স্বল্পতায় ১৫ ওভার আগেই খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে আজ খেলা শুরু হবে ৩০ মিনিট আগে, সকাল ৯-৩০ মিনিটে। এই লম্বা সময়ে, জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৯৫ রান; জিম্বাবুয়েকে নিতে হবে ১০ উইকেট। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দলের জন্য লক্ষ্যটা কঠিন; জিততে হলে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে হবে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। অন্যদিকে শেষ দুই দিনের উইকেটে প্রতিপক্ষের ১০টি উইকেট তুলে নেওয়ার অপেক্ষাকৃত সহজ কাজটা জিম্বাবুয়ের। সফরকারী কোচ লালচাঁদ রাজপুত তাই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বলে গেলেন, ‘এই জায়গা থেকে হারাটা খুব কঠিন।’ অন্যদিকে বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে। তাঁর সূত্র হচ্ছে বড় লক্ষ্যটাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।

এমন নয় যে অসম্ভব কিছু করে দেখাতে হবে মাহমুদ উল্লাহর দলকে। চতুর্থ ইনিংসে ৩২১ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে আরো ২০টি। সবশেষ হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গত বছরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৮৮ রান তাড়া করে জিতেছিল শ্রীলঙ্কাও। যদিও টেস্ট ক্রিকেটের ১৪১তম বছরে ২৩২৩তম টেস্টে এসে ব্যাপারটা যেহেতু মাত্র ২০ বার হয়েছে, তাতেই বোঝা যাচ্ছে হ্যালির ধূমকেতুর মতোই বিরল এই কীর্তি। তাই তো লালচাঁদ রাজপুতের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, ‘পরিস্থিতিটা এমন আর প্রতিপক্ষকে আমরা যে অবস্থায় পেয়েছি, এখান থেকে হারা কঠিন।’ জিম্বাবুয়ের কোচ খেলা আধঘণ্টা কম হওয়ায় কিছুটা হতাশ, কারণ দিনের খেলার শেষ বলেই লিটন দাশের লেগ বিফোর উইকেটের জন্য আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। রাজপুত বলছেন, সকালের আর্দ্রতা হয়তো পুষিয়ে দিতে পারে ক্ষতিটা, ‘আজ (কাল) আরেকটু বোলিং করতে পারলে আর একটা-দুটো উইকেট নিতে পারলে খুব ভালো হতো। তবে কালকে খেলা আধঘণ্টা আগে শুরু হচ্ছে, হয়তো সকালের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে পেসাররা দ্রুত উইকেট নিয়ে আমাদের জয়ের পথে নিয়ে আসতে পারে।’ জিম্বাবুয়ের পেসাররা ভালো করেছেন প্রথম ইনিংসে, আজ পেসারদের সঙ্গে চতুর্থ দিনের ক্ষয়ে আসা উইকেটে স্পিনারদের কাছেও উইকেটের প্রত্যাশা তাঁর, ‘লেগস্পিনাররা উইকেট নেওয়ার বোলার। যদিও তারা একটু খরুচে হয়, আশা করি ব্রেন্ডন (মাভুতা) কাল (আজ) ছন্দে থাকবে। পেসাররা আগে ভালো করেছে, আশা করছি তারা নতুন বলে আমাদের এক-দুইটা উইকেট এনে দেবে। তবে বেশির ভাগ বোলিং স্পিনারদেরই করতে হবে। আমরা পেস আর স্পিনের একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করব।’

ওদিকে স্টিভ রোডস চিন্তিত তাঁর ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। টেস্ট শুরুর আগে অ্যান্টিগা টেস্টে ৪৩ রানে অল আউট হওয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ওই পিচে ১১ জন রিকি পন্টিং থাকলেও রান করা সম্ভব হতো না।’ সিলেটের উইকেটে তাঁর দলে ১১ জন রিকি পন্টিং না থাকলেও একজন মুশফিকুর রহিম আছেন। বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য, ধৈর্য, দক্ষতা—সবই আছে তাঁর। মুশফিককে ঘিরে ইমরুল কায়েস, লিটন দাশ, নাজমুল হোসেন শান্তরা যদি রানের মালা গাঁথতে পারেন, তাহলে জয়টা অসম্ভব নয়। তবে সে জন্য দরকার বড় বড় জুটি, রোডসই বললেন, ‘ভালো খবর হচ্ছে, উইকেটে বল পড়ে বড় বড় বাঁক নিচ্ছে না। সবগুলো বল বাঁক খাচ্ছে না, মাঝেসাঝে নিচ্ছে। আমাদের দুই-তিনটা বড় বড় জুটি দরকার। ক্রিজে কেউ যখন যায়, শুরুতে সবাই নার্ভাস থাকে। এমনকি ভিভ রিচার্ডসও বোধ হয় থাকত। একটা একটা করে বল খেলার সঙ্গে সঙ্গে কাজটা সহজ হতে থাকে।’ বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের একটা বিশেষত্ব হচ্ছে, কাছাকাছি সময়ে একাধিক উইকেট পতন। প্রথম ইনিংসে তিন বলের ভেতর নাজমুল শান্ত ও মাহমুদের বিদায় বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছিল ব্যাকফুটে। এই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়াটা ঠেকানোই রোডসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, ‘এই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়াটা একটা বড় সমস্যা। আমরা সব সময়ই বড় একটা জুটির খোঁজ করি, যে দুজন সেটা করে ফেলে তখন আপনাতেই তাদের ওপর প্রত্যাশার চাপটা চলে আসে। দলের এটা (জুটি) দরকার কারণ পরের উইকেটটাও খুব দ্রুতই চলে যেতে পারে।’

লক্ষ্যটা বড়, পথটা দীর্ঘ। সেই জয়ের পথে যাত্রাটাকে আরো কষ্টকর করে তুলবে তিন দিন খেলা হয়ে ক্ষয়ে আসা উইকেট। রোডস চাইছেন শিষ্যরা অল্প অল্প করে পথ এগিয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যাক চূড়ান্ত লক্ষ্যে, ‘আমরা একটা ব্যাপারে খুব জোর দিচ্ছি যে বড় লক্ষ্য তাড়া করার ব্যাপারটা নিয়ে না ভেবে অল্প অল্প করে আগাতে, বিষয়টাকে সহজ করতে। আজ (কাল) আমরা জেতার জন্য পাঁচটি সেশনে গোটা পরিকল্পনাটাকে ভাগ করেছিলাম। প্রথম সেশনটা বলা যায় ড্র হয়েছে, পরের দুটো আমরা জিতেছি। এখন পরিকল্পনা হচ্ছে আগামীকালের দুটো সেশন জেতা। ড্রেসিংরুমে সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী। সবাই জানে যে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় ইনিংসটা খেলেই জিততে হবে। আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে আরেকটু ভালো ব্যাটিং করার জন্য তৈরি।’

অবশ্য শেষ সাত ইনিংসে একবারও দুই শ পার করতে না পারা দলটাকে একটু নয়, অনেকটুকু ভালো ব্যাটিংই করতে হবে!



সাতদিনের সেরা