kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

চাপমুক্ত লিটনের ওপর প্রত্যাশার চাপ

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাপমুক্ত লিটনের ওপর প্রত্যাশার চাপ

এটিকে ক্যারিয়ার বদলে ফেলা ইনিংসের মতো এতটা মনে হয়নি। এটা সত্য, একটি ম্যাচ অনেকের ক্যারিয়ারে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আমাকে পরের ম্যাচে কিন্তু আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। আমার চেষ্টা শূন্য থেকে বড় কিছু করা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিচ্ছিন্ন কিছু ঝলক দেখা গেছে সত্য। তিন ফরম্যাটেই। টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সতীর্থদের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ওই ৭০ কিংবা এ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামের ৯৪ রানের ইনিংসের কথা ভাবুন। টি-টোয়েন্টিতে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯ বলে ৪৩ অথবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচের ৩২ বলে ৬১ রানও। আর ওয়ানডেতে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসও কম কী! কিন্তু সামগ্রিক অর্থে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিটন কুমার দাশের পারফরম্যান্স প্রতিভার প্রতিবিম্ব হতে পারছিল না কিছুতেই।

 

এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১১৭ বলে ১২১ রানের বিস্ফোরক ইনিংসটি কি সেই হতাশা কাটিয়ে দিতে পারবে অবশেষে? ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের মুহূর্তই তো হয়ে যেতে পারে অমন এক ইনিংস।

 

কাল শের-ই-বাংলার সবুজে দাঁড়িয়ে অমন প্রশ্ন শুনে খানিকটা হাসি খেলে যায় লিটনের মুখে। অনেকের বেলাতেই যে তা হয়েছে, তা-ও মানেন। কিন্তু নিজেকে নিয়ে এখনই অত দূর ভাবতে নারাজ এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, ‘এটিকে ক্যারিয়ার বদলে ফেলা ইনিংসের মতো এতটা মনে হয়নি। এটা সত্য, একটি ম্যাচ অনেকের ক্যারিয়ারে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আমাকে পরের ম্যাচে কিন্তু আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। আমার চেষ্টা শূন্য থেকে বড় কিছু করা। ওটা নিয়ে এখন আশা করে বা চিন্তা করে কোনো লাভ নেই।’ কিন্তু ওই ম্যাচের পরপরই দেশের ক্রিকেটে জাতীয় লিগ খেলতে নেমেও তো দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন! এশিয়া কাপ ফাইনালের আত্মবিশ্বাসের ভূমিকা তাতে না থেকে পারেই না, ‘আমি ওটাই বললাম, একজন ক্রিকেটার পারফরম করলে মাথা থেকে সেই জিনিসটা সরে যায়। ক্রিকেট তো সম্পূর্ণ মানসিকতার খেলা। মানুষ বলে, মন যত পরিষ্কার থাকবে তত ভালো খেলবেন। যেহেতু আগে পারফরম করিনি, তখন মনে নিজের সামর্থ্যে একটু প্রশ্ন থাকেই। আর পারফরম করার পর মানসিকভাবে একটু চাপমুক্ত হওয়া যায়। এই জন্য হয়তো ভালো হয়েছে।’

তাঁর প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই কারো। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরুর সময় থেকেই লিটনের গায়ে লেগে পরবর্তী সুপারস্টারের তকমা। কিন্তু এর মূল্য কমই দিতে পারছিলেন। ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরির মূল্য তাই অনেক। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া লিটন তাই সেই ধারাবাহিকতা টেনে নিতে চান আন্তর্জাতিক আঙিনাতেও, ‘ধারাবাহিকভাবে রান করাই আমার মূল লক্ষ্য। যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলি, তখন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকে। ওই জিনিসটাই ঘাটতি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চেষ্টা করছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে পারফরম করে যাওয়ার।’ ওই চেষ্টায় এখন আর আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই লিটনের, ‘আমি বলব না যে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আগে থেকে একটু চাপমুক্ত অবস্থায় আছি, এটা বলতে পারেন। ওই সেঞ্চুরির পর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এসেছে।’ জাতীয় লিগের ডাবল সেঞ্চুরির চেয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই সেঞ্চুরি স্বাভাবিক কারণেই এগিয়ে থাকছে লিটনের কাছে, ‘অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্ববহ। আপনারাও ভালো জানেন, আমি অনেক দিন ধরেই ব্যাকফুটে ছিলাম। পারফরম করাটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে আমার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, এটা আমার জন্য অনেক ব্যাপার।’

সেই সেঞ্চুরির পর তাঁর আউট নিয়ে বাংলাদেশের আমজনতায় কম আলোচনা হয়নি। তবে এ নিয়ে বাড়তি কিছু বলার নেই লিটনের, ‘আউট নিয়ে কিছু বলার নেই। আম্পায়ার যেহেতু আউট দিয়েছেন, সেটা আউটই।’ নিজের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় ক্রিকেটে মেতে থাকা নিয়েও নেই অভিযোগ, ‘দুই বছর ধরে তো মাঠেই ছিলাম। এখন দেশে, দুই বছর দেশের বাইরে ছিলাম। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। পেশাদার খেলোয়াড়দের একটু ছাড় দিতেই হবে।’ তিনি এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য। যেখানে নিজের কাছে লিটনের প্রত্যাশা অনেক। দলেরও। বিশেষত তামিম ইকবাল নেই যখন। আর এশিয়া কাপ ফাইনালের পর সামগ্রিক প্রত্যাশার পারদটাও যে অনেক ওপরে, তা-ও মানছেন লিটন, ‘প্রত্যাশার চাপ তো আছে অবশ্যই। কিছু পেতে হলে তো কিছু দিতেও হবে। আমি জানি যে আমাকে রান করতে হবে। দলের সদস্যরাও চাইবে যেহেতু ভালো খেলেছে, সেটা যেন ধরে রাখি।’

যদি তা ধরে রাখতে পারেন লিটন, তাহলে না অবেশেষে তাঁর প্রতিভার প্রতিবিম্ব হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পারফরম্যান্স!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা