kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দলেই আছে প্রতিকূলতা জয়ের উদাহরণ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দলেই আছে প্রতিকূলতা জয়ের উদাহরণ

তবু ঝুঁকি নেওয়া মুস্তাফিজ নিজের অস্ত্রাগারের সব অস্ত্র মেলে ধরতেও পারেননি, ‘ও সেদিন একটি ইয়র্কারও করেনি। আমার সঙ্গে যখনই কথা হচ্ছিল, বলছিল যে অন্য কোনো কিছু চেষ্টা করতে পারবে না। বলে দিয়েছিল স্বাভাবিক গতিতেও দৌড়াতে পারবে না। শুধু কাটার আর লেন্থ বল করতে পারবে।’

দলের সংকটে নিয়মিতই মাহমুদ উল্লাহর ব্যাট সমাধান খুঁজে দিয়েছে। দিয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলের ঘোর বিপদের সময়ও। এটি নতুন খবরও নয়। আবুধাবিতে সেদিন ৭৪ রানের ইনিংস খেলার সময়ই বরং আরেকটি খবর ছিল। ঘটনার দুই দিন পর যে খবরটি দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘আগের দিন রিয়াদ ৩০-৪০ রান করার পর ওর শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল।’

ক্রমে সেই সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়েছে এ জন্য, ‘মাঠ বড় বলে চার-ছক্কা খুব সহজে পাওয়ার উপায় ছিল না। তাই এক-দুই করে নিতে গিয়ে আরো ক্লান্ত হয়েছে।’ ক্লান্ত হলেও সেই ক্লান্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ না করে দিয়ে দলকে যেমন টেনে গেছেন মাহমুদ উল্লাহ, তেমনি এ রকম আরো অনেক উদাহরণ এখন দলের ভেতরই আছে। নিজের দ্বিতীয় স্পেলের তৃতীয় ওভার করতে গিয়ে কাফ মাসলে টান অনুভব করা মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যাপারটি তো সবারই জানা।

তাঁর অধিনায়ক নিশ্চিত যে ‘অন্য যেকোনো দিন হলে ও বোলিংই করত না। ওর তো ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। টান পড়া মানেই ইনজুরির সুযোগ বেড়ে যাওয়া।’ তবু ঝুঁকি নেওয়া মুস্তাফিজ নিজের অস্ত্রাগারের সব অস্ত্র মেলে ধরতেও পারেননি, ‘ও সেদিন একটি ইয়র্কারও করেনি। আমার সঙ্গে যখনই কথা হচ্ছিল, বলছিল যে অন্য কোনো কিছু চেষ্টা করতে পারবে না। বলে দিয়েছিল স্বাভাবিক গতিতেও দৌড়াতে পারবে না। শুধু কাটার আর লেন্থ বল করতে পারবে।’

অর্থাৎ নিজের বোলিং সামর্থ্যের পুরোটা স্বাভাবিক কারণেই মেলে ধরা হয়নি মুস্তাফিজের। শ্বাসকষ্টে মাহমুদ উল্লাহও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি নিঃসন্দেহে। এর মানে যাঁকেই পাওয়া যাচ্ছে সংকটে, সবাই তাঁর অর্ধেকটা দিতে পারছেন। পুরোটা কিছুতেই নয়। এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে নিজেদের পুরোটা মেলে ধরা হচ্ছে না কারোরই। এর সবটা সবার জানাও নয়। এটি এখন আর বাংলাদেশের কারো অজানা নয় যে ম্যাচের দিন নিজের হাঁটুতে ‘টেপ’ প্যাঁচানোর জন্য বাড়তি সময় বরাদ্দ রাখতে হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে।

এই এশিয়া কাপে একই কাজে আরো একজন সঙ্গীও খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। কে তিনি? মাশরাফির মুখ থেকে শুনে নিলেই বোধ হয় ভালো, ‘মুশফিক খেলছে সারা গায়ে টেপিং করে।’ পাঁজরের চোটকে যথাসাধ্য বশে রাখার জন্য মুশফিককে যখন এই পথ বেছে দেওয়া হয়েছে, তখন সাকিব আল হাসানও আঙুলের ব্যথা নিয়েই খেলে চলেছেন। বিকল্প উপায়ে বেশ কয়েকজনের শরীর ব্যবস্থাপনা এশিয়া কাপে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে হচ্ছে যাঁর যাঁর সামর্থ্যের পুরোটা না পাওয়ার ব্যাপারটিতে ছাড় দিয়েই। সাকিব-মুশফিক-মুস্তাফিজরা তাই একরকম খেলছেন ‘অর্ধেক’ ফিটনেস নিয়েই।

এর ওপর তামিম ইকবাল তো নেই-ই, ‘তামিমের বিকল্প বাংলাদেশেই নেই। এটা খুব স্বাভাবিক যে ওর জায়গায় কাউকে এনে বসানো কঠিন। আর গোছানো একটি দলের অনেকে চোট পেলে বড় ঝামেলা হয়ে যায়। আমাদের ক্ষেত্রেও হয়েছে তা-ই। দু-তিনজন নিজের শরীরটাকে কোনোমতে সামলে খেলে দিচ্ছে।’ তাতেও কাজ মোটামুটি হয়ে যাচ্ছে। মানে এখন পর্যন্ত হয়েছে। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে অঘোষিত সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচ পর্যন্ত যখন আসা গেছে, তখন সে সিদ্ধান্তে পৌঁছতেই হচ্ছে।

এত দূর এসে পড়ার পর তাই কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আর খুব ভাবিত মনে হচ্ছে না অধিনায়ককে। এ অবস্থায়ও খেলে দেওয়ার পর তাঁর বরং মনে হচ্ছে, ‘এ বিষয়ে বাড়তি কথা না বলাই ভালো। যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেতেই হবে।’ এত দিন যেতেও হয়েছে। এর মধ্যেই চোট-আঘাত সামলে, নিজের শরীরের সঙ্গে লড়ে যাঁরা এত দূর নিয়ে এসেছেন দলকে, তাঁদের উদাহরণ হিসেবে সামনে রেখেই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হওয়ার চেষ্টা করছেন মাশরাফি, ‘দলের মধ্যে একে-অন্যের সামনে এখন অনেক উদাহরণ। যেমন মুস্তাফিজ তেমনই একটি উদাহরণ। সাকিব-মুশফিকও তাই। সবাই কিন্তু একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

নিজেদের দলেই থাকা এমন অনেক উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেবে আরো কেউ, আজ পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই আশাও আছে মাশরাফির, ‘একটি ব্যাপার ঘটলে খুবই সুবিধা হবে। ব্যাটিংয়ে ওপরের দিকে রান করে ফেলা গেলে পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ কম পড়বে। তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শট খেলা যায়। যেমন ভারতের ক্ষেত্রে হচ্ছে। শিখর ধাওয়ান আর রোহিত শর্মা মিলে শুরুতে এমন রান তুলে দিচ্ছে যে পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের আর সেভাবে দৌড়াতে হচ্ছে না।’

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের ধকল নিতে হচ্ছে আরো বেশি। যে জন্য শ্বাসকষ্ট উঠে যাচ্ছে মাহমুদ উল্লাহর। তবু সাকিব-মুশফিকের মতো অভিযোগ নেই তাঁরও। খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। চালিয়ে গেছেন মুস্তাফিজও। দলের সামনে এ রকম অনেক উদাহরণ থাকলে ‘অর্ধেক’ শক্তির দলও পুরো শক্তির মহিমা নিয়ে হাজির হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশও এখন পর্যন্ত হয়েছে।

হয়েছে বলেই অনেক প্রতিকূলতা ভুলে এখান থেকেই দল খুঁজছে ফাইনালে যাওয়ার উজ্জীবনী শক্তিও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা