kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

‘স্যালুট’ এই মেয়েদের

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেষ বাঁশি বাজার পর আঁখি শুয়ে পড়ল। এর আগে গোল করেও একবার শুয়ে পড়েছিল। ক্লান্তি আর শ্রান্তি দুটোই যেন জাপটে ধরেছিল তাকে। মারিয়া মান্ডার ভিন্ন অবস্থা। আঁখির পাশেই গোটা দুই ডিগাবাজি খেয়ে ফেলল সে। শামসুন্নাহার ওদিকে নাচছে তিড়িংবিড়িং। এ জয়ের উদ্‌যাপনটা যে কেমন হবে, তা নিয়ে বোধহয় পরিকল্পনা করা যায়নি। ভিয়েতনাম এমন চোখ রাঙাচ্ছিল যে সেই ভাবনা ভাবার অবসর কই। উৎসবটা তাই হলো যার যার মতো করে।

 

কমলাপুর স্টেডিয়ামের দুদিকের গ্যালারি সারাক্ষণ এ মেয়েদের প্রেরণা জুগিয়ে গেছে। মাঠের ওপাশে বাড়িগুলোর ছাদও এদিন ভরা। বাড়ির গৃহিণী, মেয়েরা ছাতা মাথায় বসে বিকেল ৩টা থেকে। সেই তীব্র রোদ তখন মরে এসেছে, মাঠেও লাল-সবুজের শিরোপা উৎসব। আঁখি, মারিয়াদের এরপর একসঙ্গে যে উদ্‌যাপনটা হলো তা ওই দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিতে গিয়েই। সংবাদ সম্মেলনে এদিনই প্রথম এলো আঁখি, তহুরা এর আগেও বার দুয়েক এসেছে। কিন্তু পুরো মনোযোগ যেন পায়নি। বাংলাদেশের খুদে এই স্ট্রাইকার যে গোল মেশিন খ্যাতি পেয়ে গিয়েছিল গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে। এই আসরে সেই গোলের ধারা না দেখেই অনেকে হতাশ। কাল ফাইনালে অবশ্য বিতর্কিত দুই অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল না হলে ময়মনসিংহের এই কিশোরীর হ্যাটট্রিক হয়ে যেত। তা হয়নি। তহুরাকে সেই কথা জিজ্ঞেস করতেই সপ্রতিভ উত্তর, ‘রেফারি অফসাইড দিয়েছে, আমরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। ওটা নিয়ে পড়ে থাকলে তো হবে না। আর আমার হ্যাটট্রিক করাও বেশি গুরুত্বপূর্ণ না, সবার আগে হলো জয়। গত সাফে আমি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলাম, কিন্তু শিরোপা জিততে পারিনি বলে আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল। তাই কে গোল করল, এটা নিয়ে আর ভাবি না।’ কিশোরী দলের এভাবে বদলে যাওয়া কোচ রব্বানীকেও মাঝে মাঝে অবাক করে, কাল তো তিনি স্যালুটও জানালেন এই মেয়েদের, ‘আমরা সাধ্যমতো ওদের তৈরি করার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঠে যে পরিশ্রমটা করে ওরা। এই আবেগ, এই চেষ্টাটা তো আমরা পুরে দিই না। এটা একান্তই ওদের। তার জন্য আমি স্যালুট জানাই এই মেয়েদের। ফল পেতে হলে সব কিছুর শেষে ওই চেষ্টাটাই, পরিশ্রমটাই। তা না হলে হয় না।’

রব্বানী কাল কাকে রেখে কাকে প্রশংসায় ভেজাবেন ভেবে পান না। পাশে বসা আঁখির কথা বলতে যান তো মনে পড়ে নাজমার পরিশ্রমের কথা। মারিয়ার দক্ষতার কথা মনে করান তো মনিকার কথা না বলে পারেন না। আগের ম্যাচে মারিয়াকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। সে ম্যাচে মনিকা একাই যেভাবে মিডফিল্ড সামলেছে তা দেখে তিনিও বিস্মিত। সেই একই পারফরম্যান্স কালও করে গেল সে। মারিয়া এদিন ছিল কিছুটা আক্রমণাত্মক, প্রতিপক্ষের আক্রমণে নজর ছিল মনিকার। দুইয়ের সমন্বয়ের এদিনের মিডফিল্ডের প্রশংসা করলেন রব্বানীও। খেলোয়াড়দের নিজস্ব প্রতিভার কথাও বলতে ভুললেন না, ‘মনিকা, মারিয়ার মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই এমন একটা কিছু আছে যাতে ওরা ভালো করতে পারে। আমরা শুধু ওদের সেই প্রতিভাটা বিকাশের চেষ্টা করছি।’ এই দল নিয়ে আবারও এশিয়ার মূল পর্বে যাওয়ার ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাসী এই কোচ, ‘আমরা মূল পর্বে চোখ রেখেই নিজেদের তৈরি করেছি। ফুটবলাররা এই আসরে যে পারফরম্যান্স দেখাল তা পরের রাউন্ডেও ধরে রাখতে পারবে আশা করি।’ বাছাই পর্বের এই রাউন্ড থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে পরের রাউন্ডে যাবে আরো পাঁচ দল, সঙ্গে আরো দুই সেরা রানার্স-আপ। তাতে ভিয়েতনামও আছে। এই আট দলের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই মূল পর্বের টিকিট কাটবে চারটি দল। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, রানার্স-আপ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও স্বাগতিক থাইল্যান্ড যে আসরে খেলবে সরাসরি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা