kalerkantho


দুই হারেই এত অস্থিরতা!

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দুই হারেই এত অস্থিরতা!

চোট পেয়ে তামিম ইকবালের দেশে ফিরে যাওয়ার সময়ও যেখানে বিকল্প কাউকে আনার ব্যাপারটি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কিনা বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মাঝ বিরতিতে একই সঙ্গে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে উড়িয়ে আনার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি!

 

কথা শুরু হয়েছিল আজকের আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়েই। কিন্তু একটু পরেই প্রসঙ্গ এমন ঘুরে গেল যে সেটি নিয়েই একের পর এক জিজ্ঞাসা। সাকিব আল হাসানও জবাব দিতে দিতে সেখান থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজছিলেন। তাই আবার যখন আফগানিস্তান ম্যাচ প্রসঙ্গ ফিরল, প্রশ্নকর্তাকে আগে ধন্যবাদ দিয়ে নিলেন তিনি, ‘আপনাকে ধন্যবাদ। অবশেষে আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে প্রশ্নে ফিরলেন আপনারা!’

 

এর আগে যে প্রসঙ্গটি পরের ম্যাচ ছাপিয়ে তাঁর সংবাদ সম্মেলনে মূল আলোচ্য হয়ে উঠেছিল, সেটিকেও এই অলরাউন্ডার ‘একটু অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অস্বাভাবিক বলেই তো এত আলোচনা-সমালোচনা! চোট পেয়ে তামিম ইকবালের দেশে ফিরে যাওয়ার সময়ও যেখানে বিকল্প কাউকে আনার ব্যাপারটি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কিনা বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মাঝ বিরতিতে একই সঙ্গে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে উড়িয়ে আনার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি! যে দুজনই তাঁদের সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইস্ট লন্ডনে।

ওয়ানডে সিরিজের ওই শেষ ম্যাচ খেলে বাদ পড়া লিটন কুমার দাশ এই এশিয়া কাপ দিয়েই ফিরেছেন। তাতে ফ্লোরিডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ম্যাচ ভাগ্য গড়ে দেওয়া ইনিংসটিরই ভূমিকা। ফিরে তিন ম্যাচেই (০, ৬ ও ৭) হতাশ করেছেন। তামিমের জায়গায় ওপেন করার সুযোগ পাওয়া তরুণ নাজমুল হোসেনও তাই (৭ ও ৭)। কিন্তু তাঁদের বিকল্প হিসেবে যে দুজনকে নিয়ে আসা হয়েছে, তাঁরাই বা মাঝখানে এমন কী হাতি-ঘোড়া মেরেছেন যে সোজা এশিয়া কাপ খেলতে দেশ থেকে উঠিয়ে আনা হবে?

এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এখন পর্যন্ত নেই। ভারত ম্যাচেও লিটন-নাজমুলের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ইনিংস চলার সময়ই যে তাঁদের আনার সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, সেটিও এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কারণ খোদ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও এটি নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন অনেকটাই। পরশু রাতের ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের পর তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ‘একজনকে আনার একটি আলোচনা ছিল। তবে দুজন যে আসবে, সেটি জানতাম না।’ অধিনায়ক জানেন না কিন্তু ভারত ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তাঁর ৬৬ রানের পার্টনারশিপের সময়ই দুজনকে আনার সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।

সেটি কে দিলেন? এমন প্রশ্নে কাল ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও শুরুতে আমতা আমতা করলেন। যিনি কিনা তামিম চোট পাওয়ার পরও বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, ‘১৬ জন নিয়ে এসেছি না? আর কাউকে আনতে হবে কেন?’ অথচ একজন নন, চলে এসেছেন একাধিক ব্যাটসম্যান। মাহমুদ যদিও জানিয়ে রাখলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট একজনকেই চেয়েছিল।’ সংখ্যাটা দ্বিগুণ করে দেওয়ার কারণটি যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানই ঘটিয়েছেন, সেটি মাহমুদের একটু রেখে-ঢেকে কথা বলার চেষ্টায়ই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দুবাইয়ের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ঘনাতে না ঘনাতেই দেওয়া সিদ্ধান্তের পর নাজমুল মধ্যরাতে টিম হোটেলে যেতে যেতে ইমরুল-সৌম্যকে এভাবে আনা নিয়ে সমালোচনার স্রোতও বেগবান হয়েছে আরো। এর প্রভাবে আরো অস্বাভাবিক কিছুও ঘটে যেতে পারত বলে জানা গেছে। নাজমুল নাকি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ভার টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘দল যদি মনে করে, তাহলে দুজনের মধ্যে একজনকে দেশেই রেখে দিই।’ বলা বাহুল্য সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে আরো সমালোচনার ঝুঁকিতে যেতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্টও।

তাতে খুলনায় বাংলাদেশ লাল আর সবুজের মধ্যে চার দিনের ম্যাচের তৃতীয় দিনে তড়িঘড়ি ঢাকায় আসা দুজনের মধ্যে কপাল পুড়তে পারত সৌম্যরই। কারণ দলের মধ্যে যে একজনকে আনার আলোচনা ছিল, সেই ব্যাটসম্যান নাকি ইমরুলই। চার দিনের ম্যাচে ফিফটি করা এই বাঁহাতি ওপেনারের অভিজ্ঞতাই নাকি এখন অমূল্য মনে হতে শুরু করেছে। তবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে গিয়ে অন্যদের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়ার আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। তরুণ নাজমুল খেললেন মোটে দুই ম্যাচ। আর লিটনের টানা তিন ম্যাচে রান না পাওয়ার সঙ্গে এই তথ্যও তো জুড়ে দিতে হয় যে চলতি বছর সাতটি ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরম্যান্স নেই এনামুল হকের। তাহলে দুই-তিন ম্যাচের ব্যর্থতায়ই দল নিয়ে এত অস্থিরতা কেন?

এ রকম ঘটনাপ্রবাহ তরুণদের পারফরম করার পথ যে আরো কঠিন করে তুলতে পারে, সাকিবের কথা সে ইঙ্গিতই দেয়, ‘আমরা ওদের ওপর অল্প সময়ে এত বেশি চাপ দিয়ে ফেলি যে ওদের জন্য ভালো করার সম্ভাবনাটা আরো কমে যায়। যে চার-পাঁচজনের (সিনিয়র পাঁচজন) কথা আপনারা বলেন, আমরা কেউই কিন্তু বীর পালোয়ান ছিলাম না। শেষ চার বছরের ক্যারিয়ার দেখছেন আপনারা। এর আগের ছয়-সাত বছরের কথা বললে আমরাই বা কতখানি ভালো ক্রিকেট খেলেছি? নতুন নতুন পরিস্থিতিতে পড়তে পড়তে মানুষ যখন শিখবে, তখন তার পক্ষে ভালো করা সম্ভব। আমরা ওদের সেই সুযোগটি হয়তো দিতে পারছি না সেভাবে। এই পরিস্থিতিতে পারফরম করা ওদের জন্য তাই কঠিনই।’ 

নীতিনির্ধারকদের অস্থিরতাই সে কাজটি কঠিন করে দিচ্ছে আরো!



মন্তব্য