kalerkantho


অলিম্পিয়াড যাত্রায় আলোচনায় ফাহাদ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অলিম্পিয়াড যাত্রায় আলোচনায় ফাহাদ

কোচ ইগর রাউসিসের সঙ্গে ফাহাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন দ্বিমত পোষণ করলেন না, ‘শুধু চট্টগ্রামে খেলেই ফাহাদ নিজের সামর্থ্য দেখায়নি। গত নেশনস কাপেও ও অসাধারণ খেলেছে। ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ভালো অবস্থান পাওয়ার পেছনে ওর বড় অবদান।’ অলিম্পিয়াড দলে তিন গ্র্যান্ড মাস্টারের সঙ্গে ফিদে মাস্টার ফাহাদ রহমানের অন্তর্ভুক্তির ভালো-মন্দ নিয়ে বলছিলেন এই গ্র্যান্ড মাস্টার। চট্টগ্রামে সিজেকেএস দাবায় তিন গ্র্যান্ড মাস্টারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফাহাদই এই দলের সবচেয়ে ইনফর্ম খেলোয়াড় সন্দেহ নেই, এনামুল জানাচ্ছিলেন অলিম্পিয়াডের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো সামর্থ্যও তার হয়েছে। গত আগস্টে হওয়া এশিয়ান নেশনস দাবার প্রসঙ্গ টেনে আনা সে কারণেই।

সে আসরে এনামুল নিজে ছিলেন। ১৪ দেশের মধ্যে ষষ্ঠ হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল ফাহাদেরই। চট্টগ্রামে গ্র্যান্ড মাস্টার্স দাবায় সেই ধারাবাহিকতায়ই তিন গ্র্যান্ড মাস্টারকে হারিয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ এই ফিদে মাস্টারের শিরোপা জয়। দুর্ভাগ্যের কারণেই শুধু এই আসর থেকে জিএম নর্ম পাওয়া হয়নি তাঁর। অলিম্পিয়াডে সেটাও হাতছানি দিচ্ছে ফাহাদকে। তিন মাস ধরে অলিম্পিয়াড দলটাকে তৈরি করা লাটভিয়ান গ্র্যান্ড মাস্টার ইগর রাউসিসও আশাবাদী তাঁর এই খুদে শিষ্যর জিএম নর্মের ব্যাপারে, ‘চট্টগ্রামেই ফাহাদ জিএম নর্মের কাছাকাছি ছিল। জর্জিয়ায় তার সামনে আরেকটি বড় সুযোগ। আমি আশাবাদী ওকে নিয়ে। দাবায় এটা হতেই পারে।’ আগামী ২৩ অক্টোবর থেকেই বাতুমিতে হতে যাচ্ছে এবারের ৪৩তম দাবা অলিম্পিয়াড। গত জাতীয় দাবার র‍্যাংক অনুসারেই ফাহাদ এই দলে ঢুকে গেছে। দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দাবায় অংশ নিয়েই সে আসরে পঞ্চম হয় সে। নিয়মিত তিন গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান, আব্দুল্লাহ আল রাকিব ও এনামুলের সঙ্গে এখন দেশের আশা-ভরসার ভার বইতে হবে ফাহাদের ছোট্ট কাঁধে। প্রথমবারের মতো অলিম্পিয়াডে খেলতে যাওয়ার ভাবনায় রোমাঞ্চিতও ফাহাদ, ‘ইগর রাউসিস স্যারের সঙ্গে কাজ করছি পর থেকেই আমার খেলা অনেক পাল্টে গেছে। উনার কাছ থেকে আত্মবিশ্বাস পেয়েই চট্টগ্রামে এত ভালো টুর্নামেন্ট খেললাম। জর্জিয়ায়ও আমাকে নিয়ে তাঁর অনেক প্রত্যাশা। ওখানে অনেক বেশি রেটিংধারী দাবাড়ুদের সঙ্গে খেলার সুযোগ হবে। তাতে ভালো করতে পারলে আমার নর্ম হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।’ গড় রেটিং অনুযায়ী বাংলাদেশ এই আসরের ৬৪তম দল ১৮৫টি দেশের মধ্যে। ২০১২ সালে পাঁচ গ্র্যান্ড মাস্টার মিলে লাল-সবুজকে সেরা অবস্থান (৩২) পাইয়ে দিয়েছিলেন। তেমনটা বলে কয়ে হবে না ধরে নিয়ে এবার অন্তত ৫০-এর ঘরে থাকার লক্ষ্য দাবাড়ুদের।



মন্তব্য