kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে তামিমের

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে তামিমের

গতকাল সকালের ফ্লাইটেই ঢাকায় ফিরে যাওয়া তামিমের বাঁ হাতের কবজিতে অস্ত্রোপচারের আশঙ্কার কথা অবশ্য এখনই জানাচ্ছে না  বাংলাদেশ দল।

 

দুবাই থেকে প্রতিনিধি : আল জাহরা হাসপাতালের জার্মান অস্থি বিশেষজ্ঞ বলেই দিয়েছিলেন যে তামিম ইকবালের কবজিতে অস্ত্রোপচার করানোর কোনো প্রয়োজনই নেই। কিন্তু ওই ডাক্তারের যেহেতু ক্রিকেটারদের চোট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তেমন নেই, তাই বাংলাদেশ দল চেয়েছিল আরেকটু ‘ক্রস চেক’ করে দেখতে। সেই চিন্তা থেকেই তামিমের কবজির স্ক্যান রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতেও। এরই মধ্যে ইংল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এসেও গেছে। যার ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই যে অস্ত্রোপচার লাগবেই না, লাগতেও পারে।

লাগবে কি না, সেটি জানতেও অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো কিছুদিন। গতকাল সকালের ফ্লাইটেই ঢাকায় ফিরে যাওয়া তামিমের বাঁ হাতের কবজিতে অস্ত্রোপচারের আশঙ্কার কথা অবশ্য এখনই জানাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। দুপুরেও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ এ বিষয়ে অন্ধকারে থাকার দাবিই করলেন, ‘বলার মতো কিছু এখনো জানা যায়নি। বাইরে যেখানে স্ক্যান রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল, সেখান থেকে কোনো জবাব আমরা এখনো পাইনি। পেয়ে গেলেই আমরা ওর অবস্থা বুঝতে পারব।’

সেটি বোঝা গেলেই বিস্তারিত বলার জন্য বাংলাদেশ দলের ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহনকে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মাহমুদ। তবে অন্য সূত্রে তামিমের চোটের সব শেষ খবর ঠিকই বেরিয়ে পড়েছে। আগের রাতেই ফিজিওর সঙ্গে বসে নিজের চোটের সব শেষ অবস্থা জেনে নিয়েছেন তামিমও। তিনি দেশের ফ্লাইট ধরার পর জানা গেল, অস্ত্রোপচার লাগবে কি লাগবে না, তা জানার জন্য আরো অন্তত দুটো সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়ই আসলে নির্ধারিত হবে যে তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে কত দিন।

যদিও তামিম কত দিনের জন্য ছিটকে পড়লেন, তা নিয়ে এই দুবাইয়ে পাওয়া গেছে একেকজনের একেক রকম ভাষ্য। শ্রীলঙ্কা ম্যাচ চলাকালীনই প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনকে উদ্ধৃত করে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম দিয়েছিল ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার খবর। আর বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটি প্রধান আকরাম খান বলেছিলেন আরো লম্বা সময়ের কথা। এদিকে ম্যাচের দুই দিন পর ম্যানেজার মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন সেরে উঠতে চার সপ্তাহ লাগবে তামিমের। যদি দুই সপ্তাহ পর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের ওপেনারের মাঠে ফেরার দিনক্ষণ পিছিয়ে যাবে আরো।

তা যাতে আরো পিছিয়ে না যায়, আপাতত সে আশাই বাংলাদেশ শিবিরের। তামিমও নাকি যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার ইচ্ছার কথা বলে গেছেন সতীর্থদের। এমনিতে নভেম্বের-ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে তাঁর মাঠে নামার আলোচনা নেই। তবে কোনো ম্যাচ প্রস্তুতি ছাড়াই ওই সিরিজে নেমেও নাকি পড়তে চান না তামিম। তাই ঠিক করেছেন, ১১ নভেম্বর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিয়েই ফেরার চেষ্টা করবেন।

সেই চেষ্টার সাফল্য নির্ভর করবে যথাসম্ভব কম সময়ে তাঁর সেরে ওঠার ওপর। তা পারবেন কি না, জানতে আরো দুই সপ্তাহের অপেক্ষা। কারণ ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন এক সপ্তাহ পর আরেকটি এক্স-রে করানোর। সেটি করালেই বোঝা যাবে ক্ষতস্থানের মেরামত শুরু হয়েছে কি না। দুই সপ্তাহ পর আরেকটি এক্স-রে করানোর নির্দেশনাও আছে। যেটি দেখলে বোঝা যাবে ভেঙে যাওয়া হাড় সোজাসুজি জোড়া লাগছে না একটু বাঁকা হচ্ছে। সোজাসুজি হলে সমস্যা নেই কোনো। দ্রুত সেরে ওঠারও সম্ভাবনা তাতে। কিন্তু যদি এক্স-রেতে ধরা পড়ে যে হাড় বাঁকা হয়ে জোড়া লাগছে? অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসে দাঁড়াবে তখনই।

সেই প্রয়োজন যাতে সামনে এসে না দাঁড়ায়, নিশ্চিত যে মনে মনে তেমন আকুতি নিয়েই দেশে ফিরে গেছেন তামিম!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা